নিজস্ব প্রতিবেদক : শুরু থেকে নানা বিতর্ক থাকলেও বিদায় বেলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ‘অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন’ বলে দাবি করেছেন। নিজেদের মেয়াদকালে কমিশন সংসদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ছয় হাজার ৬৯০টি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে বলেও জানিয়েছেন সিইসি।
গতকাল সোমবার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের লেকভিউ চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজেদের মেয়াদকালে রুটিন কাজের বাইরেও কমিশন বেশ কিছু কাজ শুরু করেছে বলে জানান সিইসি। বিদায়ী সিইসি আরও বলেন, ‘দেখতে দেখতে নির্বাচন কমিশনে আমাদের পাঁচ বছর কেটে গেল। আজ আমাদের শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ পাঁচ বছর আমরা নির্বাচন কমিশনে ব্যস্ততম সময় পার করেছি। অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি এবং তা সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। দেশের সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্বসহ যাবতীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। ’
কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন পাঁচ বছরে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ, জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন এবং সকল স্থানীয় সরকার পরিষদের সাধারণ ও উপনির্বাচনসহ ছয় হাজার ৬৯০টি নির্বাচন করেছে। করোনা মহামারির কারণে কিছু নির্বাচন সময়মতো করতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।’
সিইসি জানান, গেল পাঁচ বছরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি, একাদশ জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচন ৩০০ আসন, জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচন ২৯টি, উপজেলা পরিষদে সাধারণ নির্বাচন ৪৯৩টি, বিভিন্ন শূন্য পদে উপ-নির্বাচন ৮২টি, সিটি করপোরেশনে সাধারণ নির্বাচন ১২টি, সিটি করপোরেশনসমূহের শূন্য পদে নির্বাচন ১৮টি, পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন ৩০৯টি, পৌরসভার বিভিন্ন পদে উপ-নির্বাচন ৯২টি, ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচন চার হাজার ১৩৬টি, ইউনিয়ন পরিষদে শূন্য পদে উপ-নির্বাচন এক হাজার ১৫৩টি এবং জেলা পরিষদের বিভিন্ন শূন্য পদে নির্বাচন ৬৫টি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে জেলা পরিষদের কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সাবেক আমলা কে এম নূরুল হুদাকে সিইসি করে নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেন। কমিশনে মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সিইসির সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না আলোচিত কমিশনার মাহবুব তালুকদার। করোনার কারণে ছিলেন না শাহাদাত হোসেন। নিয়ম অনুযায়ী আজই বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন কমিশন গঠনের জন্য কাজ করছেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দল, ব্যক্তিগত পর্যায় ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩২৯ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রস্তাবিত নাম থেকে বাছাই করে ১০টি নাম রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবে সার্চ কমিটি। সেখান থেকে পাঁচজনের নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি।
ছোট-খাটো ভুল থাকলেও আমরা সফল : কমিশনের পাঁচ বছরের মূল্যায়ন করে সিইসি বলেন, ‘গত পাচঁ বছরে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে হয়ত ছোট-খাটো কিছু ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। তবে আমি এবং আমার কমিশন চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে। আমরা আমাদের সময়ে নানা ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। কিছু কিছু কাজে আমরা সফল হইনি। কারণ, করোনার কারনে গত দুটি বছর আমরা পিছিয়ে গেছি। তারপরেও আমাদের চেষ্টা ছিল।’
মোটেই বিব্রত নই : এক প্রশ্নে সিইসি বলেন, তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে কোনো ঘটনার জন্য বিব্রতবোধ করেন না। আপনি বিব্রত বোধ করছেন কি না- একজন গণমাধ্যমকর্মী এমন প্রশ্ন করলে জবাব আসে, ‘মোটেই না। বিব্রত নই, কোনো দুর্বলতা নেই। আমরা নিরপেক্ষ থেকে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। পাঁচ বছরের দায়িত্বে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। তবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছি।’
নির্বাচনের আয়োজন করা ছাড়া এই পাঁচ বছরে আর কী কী করেছেন, সেটিও তুলে ধরেন সিইসি। বলেন, ‘আইন সংস্কারের বেশ কিছু কাজ করেছি। আরপিওসহ বাংলায় রুপান্তরসহ অনেকগুলো বিধিমালা করেছি। ২৪ হাজার ৮৮১ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বিশেষ করে ইভিএমে। করোনার কারণে সীমানা পুনর্র্নিধারণ করতে পারিনি।’
নূরুল হুদা বলেন, ‘ইভিএম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তা করতে পেরেছি। এনআইডি সহজীকরণ করা হয়েছে। ভা-ার সমৃদ্ধ হয়েছে। আমরা মনে করি যে আমাদের উপর যে দায়িত্ব ছিল কঠোর পরিশ্রম করে সে দায়িত্ব পালন করেছি।’
চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছি: সিইসি
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ