নিজস্ব প্রতিবেদক: গুমের শিকার হওয়া ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) রাজনৈতিক সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুমের ঘটনার বিচার করবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পেরোনোর পর এই বিচার আর হবে কী না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় ধারণাপত্র পাঠ করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম। সভায় এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন, গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত গুম কমিশনকে আরো শক্তিশালী ও স্থায়ী করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি তুলে ধরা হয়।
২০১৫ সালে গুমের শিকার হন মো. আল আমিন ও জেসমিন নাহার দম্পতি। জেসমিন নাহার বলেন, র্যাব সদস্যরা শাস্তি হিসেবে প্রতিদিন দুই বেলা মারধর করতো। শরীরে ব্লেড দিয়ে কেটে লবণ লাগাতো, ঊরুতে এখনও সেই দাগ আছে। এখনও বিচার পাইনি। উল্টো আগের স্বৈরাচারদের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন বলেন, গুম কমিশনের কিছু কার্যক্রম শিগগির ফল দিতে পারে, তবে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দূর না হলে এই সংস্কৃতি বিলুপ্ত হবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম মঈনুল করিম মনে করেন, গুমের শিকারদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, গুমের প্রকৃত চিত্র খুব কমই প্রকাশিত হয়, যা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। তিনি ভুক্তভোগীদের আইনি, আর্থিক ও সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন। জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান বলেন, গুমের শিকার পরিবারগুলো এখনও বঞ্চনার মধ্যে রয়েছে। সরকারকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিয়ে এই সংস্কৃতি রোধ করতে হবে। আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, বিচার চাইতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা যেন নতুন অবিচারের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তার মতে, যারা খুন-গুমে জড়িত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একইসঙ্গে বিএনপির নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি গুম ও শহীদ পরিবারের আর্থিক সহায়তা এবং তাদের নামে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।