প্রত্যাশা ডেস্ক: বন্ধুত্ব ও আবেগের বিষয়টি কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রাণিজগতেও এর গভীর অস্তিত্ব রয়েছে। যুক্তরাজ্যের নর্দাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টা ম্যাকলেনান দীর্ঘ গবেষণার পর নিশ্চিত করেছেন যে, গরুদের মধ্যে অত্যন্ত গভীর সামাজিক বন্ধন তৈরি হয় এবং মানুষের মতোই তাদের নির্দিষ্ট ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা সেরা বন্ধু থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গরুরা যখন তাদের পছন্দের সঙ্গীর সঙ্গে থাকে, তখন তারা অনেক বেশি শান্ত ও চাপমুক্ত থাকে। অন্যদিকে, সেই বিশেষ বন্ধুকে আলাদা করে দিলে গরুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তীব্র একাকিত্ব অনুভব করে।
গবেষক ম্যাকলেনান তার পরীক্ষায় গরুদের হৃৎস্পন্দন এবং কর্টিসল হরমোনের মাত্রা পরিমাপ করেন যা মানসিক চাপের নির্দেশক। তিনি লক্ষ্য করেন, যখন কোনো গরুকে তার ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’-এর পাশে রাখা হয়, তখন তার হৃৎস্পন্দন বা হার্ট রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম থাকে এবং তারা আরামবোধ করে।
কিন্তু যখনই তাদের সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো গরুর দলে রাখা হয় কিংবা বন্ধু থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, তখন তাদের হৃৎস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায় এবং মানসিক চাপের লক্ষণ হিসেবে অস্থিরতা প্রকাশ পায়। এমনকি তাদের চোখের তাপমাত্রাও বেড়ে যায় যা স্ট্রেস বা চাপের শারীরিক লক্ষণ।
বিজ্ঞানী ও প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গরুর বুদ্ধিমত্তা এবং আবেগ আমাদের সাধারণ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি গভীর। এই বিষয়টি দুগ্ধ খামার বা পশুপালনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ সুখী ও চাপমুক্ত গরু, অর্থাৎ যারা তাদের বন্ধুদের সঙ্গে থাকার সুযোগ পায়, তারা বেশি পরিমাণে এবং পুষ্টিকর দুধ উৎপাদন করতে সক্ষম। তাই কেবল খাদ্য বা বাসস্থান নয়, গরুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তাদের সামাজিক সম্পর্কগুলোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে এই গবেষণায় উঠে এসেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ওআ/আপ্র/৩০/১১/২০২৫





















