ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
স্বাস্থ্য প্রতিদিন====

খেজুরের রস অজান্তেই ডেকে আনছে মৃত্যুঝুঁকি

  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

প্রত্যাশা ডেস্ক: শীত এলেই গ্রামবাংলার মাঠে মাঠে খেজুর গাছগুলোয় চোখে পড়ে রসের হাড়ি। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে নামানো কাঁচা রস, কেউ খাচ্ছেন কাঁচা, কেউ বানাচ্ছেন পিঠা বা গুড়। কিন্তু এই চিরচেনা শীতের স্বাদই কি অজান্তে ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ?

বিশেষজ্ঞরা কাঁচা খেজুরের রসকে ঝুকিপূর্ণ বলছেন। কারণ বাংলাদেশে শীতকালে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার সম্পর্ক বারবার উঠে এসেছে গবেষণায়। কারণটা খুবই সরল কিন্তু ভয়ংকর।

রাতের আঁধারে বাদুড় খেজুর গাছের কাটা মুখে বসে রস খায়। সেই সময় তাদের লালা, মূত্র বা মল রসের হাঁড়িতে পড়ে যেতে পারে। আর বাদুড়ই নিপা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক।

আমাদের দেশে এই রস না ফুটিয়ে কাঁচা অবস্থায় পান করার চল বহু পুরোনো। ফলে ভাইরাস থাকলে তা সরাসরি মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে।

নিপা ভাইরাস সংক্রমণ সাধারণ জ্বর বা সর্দি দিয়ে শুরু হলেও দ্রুত পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, মানসিক বিভ্রান্তি এমনকি এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা ভ্যাকসিন এখনো নেই।

নিপা ভাইরাস যে শুধু খেজুরের রস দিয়েই ছড়ায়, তা নয়। এটি যে কোনো অপরিষ্কার বা বাদুড়ের আধা খাওয়া ফল থেকে আপনার শরীরে ঢুকতে পারে। তাই গোটা ফল খুব ভালোমতো ধুয়ে খাওয়া নিরাপদ।

খেজুরের রস পান কি বাদ দিতে হবে: একেবারে বাদ নয়। কিন্তু সাবধান হতে হবে, সচেতন হতে হবে। খেজুরের কাঁচা রস সরাসরি পান না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

রস ভালোভাবে ফুটিয়ে গুড় বানানো হলে উচ্চ তাপে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাই গুড় তুলনামূলক নিরাপদ। এর পাশাপাশি এখন অনেক জায়গায় গাছের মুখ ঢেকে রাখার জন্য ‘বাঁশের স্কার্ট’ ব্যবহার করা হচ্ছে; যাতে বাদুড় রসে বসতে না পারে। এটি কার্যকর একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

শীতের সকালে এক গ্লাস কাঁচা রস নিঃসন্দেহে নস্টালজিয়ার অংশ। কিন্তু ওই স্বাদের লোভে অজান্তেই নেওয়া হয় মৃত্যুঝুঁকি।

সূত্র: আইইডিসিআর সার্ভেইলেন্স রিপোর্ট

আজকের প্রত্যাশা/ কেএমএএ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

স্বাস্থ্য প্রতিদিন====

খেজুরের রস অজান্তেই ডেকে আনছে মৃত্যুঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৮:৪০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রত্যাশা ডেস্ক: শীত এলেই গ্রামবাংলার মাঠে মাঠে খেজুর গাছগুলোয় চোখে পড়ে রসের হাড়ি। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে নামানো কাঁচা রস, কেউ খাচ্ছেন কাঁচা, কেউ বানাচ্ছেন পিঠা বা গুড়। কিন্তু এই চিরচেনা শীতের স্বাদই কি অজান্তে ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ?

বিশেষজ্ঞরা কাঁচা খেজুরের রসকে ঝুকিপূর্ণ বলছেন। কারণ বাংলাদেশে শীতকালে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার সম্পর্ক বারবার উঠে এসেছে গবেষণায়। কারণটা খুবই সরল কিন্তু ভয়ংকর।

রাতের আঁধারে বাদুড় খেজুর গাছের কাটা মুখে বসে রস খায়। সেই সময় তাদের লালা, মূত্র বা মল রসের হাঁড়িতে পড়ে যেতে পারে। আর বাদুড়ই নিপা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক।

আমাদের দেশে এই রস না ফুটিয়ে কাঁচা অবস্থায় পান করার চল বহু পুরোনো। ফলে ভাইরাস থাকলে তা সরাসরি মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে।

নিপা ভাইরাস সংক্রমণ সাধারণ জ্বর বা সর্দি দিয়ে শুরু হলেও দ্রুত পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, মানসিক বিভ্রান্তি এমনকি এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা ভ্যাকসিন এখনো নেই।

নিপা ভাইরাস যে শুধু খেজুরের রস দিয়েই ছড়ায়, তা নয়। এটি যে কোনো অপরিষ্কার বা বাদুড়ের আধা খাওয়া ফল থেকে আপনার শরীরে ঢুকতে পারে। তাই গোটা ফল খুব ভালোমতো ধুয়ে খাওয়া নিরাপদ।

খেজুরের রস পান কি বাদ দিতে হবে: একেবারে বাদ নয়। কিন্তু সাবধান হতে হবে, সচেতন হতে হবে। খেজুরের কাঁচা রস সরাসরি পান না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

রস ভালোভাবে ফুটিয়ে গুড় বানানো হলে উচ্চ তাপে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাই গুড় তুলনামূলক নিরাপদ। এর পাশাপাশি এখন অনেক জায়গায় গাছের মুখ ঢেকে রাখার জন্য ‘বাঁশের স্কার্ট’ ব্যবহার করা হচ্ছে; যাতে বাদুড় রসে বসতে না পারে। এটি কার্যকর একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

শীতের সকালে এক গ্লাস কাঁচা রস নিঃসন্দেহে নস্টালজিয়ার অংশ। কিন্তু ওই স্বাদের লোভে অজান্তেই নেওয়া হয় মৃত্যুঝুঁকি।

সূত্র: আইইডিসিআর সার্ভেইলেন্স রিপোর্ট

আজকের প্রত্যাশা/ কেএমএএ