ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম নিউমার্কেট

  • আপডেট সময় : ০২:১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ক্রেতা সমাগমে আবারও জমে উঠেছে রাজধানীর নিউমার্কেটের বিপণিবিতানগুলো। যদিও সংঘর্ষের পর অনেকখানি বদলে গিয়েছিল নিউ মার্কেটের চিত্র। যেহেতু ঈদের মৌসম চলছে তাই ধারণা করা হচ্ছিল বিশাল একটা লোকসানের মুখে পড়বেন নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের সমাগমে কিছু ব্যবসায়ীর সেই ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে।
কেউ কেউ বলছেন সংঘর্ষের কোনো প্রভাব তাদের ব্যবসায় পড়েনি। আগের মতোই গতানুগতিক ধারায় চলছে। ক্রেতার সংখ্যা কমেনি আবার বাড়েওনি। আর কিছু ব্যবসায়ী বলছেন, এই সংঘর্ষের ফলে তাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আগের মতো ক্রেতারা বাজারে আসছেন না। অনেকের মনে আতঙ্ক কাজ করছে। এতে করে অনেকেই নিউমার্কেটকে এড়িয়ে চলছেন। যার প্রভাব পড়ছে মার্কেটে। ঈদ মৌসুম ছাড়াই আগে মানুষের ভীড়ের জন্য হাঁটা যেত না। আর এখন বাজারে ক্রেতা সংখ্যা অনেকাংশেই কম। এই একটা সংঘর্ষ আমাদের বেচাকেনায় অনেক বড় একটা ক্ষতি করে দিয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা বসেই থাকি রমাজানের আশায়। আর এই সময় এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা সব শেষ করে দিয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবসায়ী।
নিউ মার্কেট এলাকার এয়াকুব সুপার মার্কেটের শুভ ফ্যাশনের স্বত্তাধিকারী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এই সংঘর্ষ আমাদের অনেক বড় ক্ষতি করে দিয়েছে। আমরা রমজানের আশায় বসে থাকি ভাল বেচাবিক্রি হবে এই আশায়। দশ থেকে পনের রমজানের পরই মূলত আমাদের বেচাকেনা শুরু হয়। এমন একটা সময়ে এতবড় একটা ক্ষতি অপ্রত্যাশিত।’
বিল্লাল বলেন, ‘সংঘর্ষের ফলে আমাদের অনেক কাপড় নষ্ট হয়ে গেছে। যখন সংঘর্ষ লাগে তখন এলোপাতাড়ি ছোটাছুটিতে অনেক কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আবার সংঘর্ষের সময় আগুনও লাগে যা কাপড়ের অনেক বড় ক্ষতি করে দেয়। এ ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠব জানিনা। অহেতুক একটা ঘটনা ঘটল। যা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর। এখনো মার্কেট জমতেছে না। মানুষ আতঙ্কে আসছে না।’ এম আর কালেকশনের ম্যানেজার মুনির বলেন, দআমাদের ব্যবসায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আমাদের ব্যবসা অনেক ভাল হচ্ছে। সংঘর্ষের কোনো প্রভাবই আমাদের কাছে তেমন কোনো ক্ষতির কারণ মনে হচ্ছে না। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের বেচাকেনা অনেক ভাল।’ বাচ্চাদের পোশাক বিক্রয়ের দোকান রাহাত বঙ্গ ফ্যাশন। দোকানের মালিক আলামিন ভূইয়া বলেন, ‘সংঘর্ষের জন্য বিশাল একটা ক্ষতি হইছে। তারপরও আমরা ভাবছিলাম যে কয়দিন বাকি আছে ঈদের এতে করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো। তবে তেমন মনে হচ্ছে না। অনেকেই ভয়ে অনেকে আসছে না।’ শাড়ি বিপণিবিতান নাজমা শাড়ি ফ্যাশন দোকানের মালিক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘তেমন হচ্ছে না আগের মতো। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন এমনিই অনেক ক্রেতা থাকে। আর এখন ঈদের মৌসুম। এখন তো বেচাকেনা তু্ঙ্েগ থাকার কথা। কিন্তু সে অনুযায়ী হচ্ছে না। তবে আমরা আশা ছাড়িনি।’ নিউ বেবি কালেকশনে বিক্রি হয় বাচ্চাদের নানা রকমের বাহারি পোশাক। দোকান মালিক শাওন আলী বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা আল্লাহর রহমতে ভাল চলছে। যদিও সামান্য একটু সাময়িক সমস্যা হয়েছে দুই দিন। কিন্তু এখন অনেক ভাল বেচাকেনা হচ্ছে। সে অনুযায়ী বলা যায় তেমন একটা প্রভাব পড়েনি বাজারে।’
বাজারে হরদমে চলছে বলিউডের মুভির নামে তৈরি হওয়া পুষ্পা রাজ, কেজিএফ টু ও কাঁচাবাদাম পোশাক। এসব পোশাকের প্রতি বাচ্চাদের ঝোঁক বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শরীফ ফ্যাশন হাউজের মালিক শরীফ মিয়া বলেন, ‘পুষ্পা রাজ গেঞ্জি অনেক ভাল চলছে। অবশ্য এসব বেশিরভাগ বাচ্চারাই কিনছে। সাথে কাঁচাবাদাম জিন্সের প্যান্টও বিক্রি হচ্ছে ভাল। এসব ট্রেন্ডি জিনিস। যখন যেটা বের হয় তখন সেটা চলে। এভাবেই চলছে ট্রেন্ডের সাথে মিলে। আমাদেরও একটা সুবিধা হইছে। এসবের কারণে আমাদের বেচাকেনা ভাল হয়।’ মালিহা ফ্যাশনে উঠেছে পুষ্পা নামে থ্রি-পিস। এসবের ব্যাপারে জানতে চাইলে দোকান মালিক শুভ ইসলাম বলেন, ‘পুষ্পা ছবিতে যদিও নায়িকা কোনো থ্রি-পিস পরে নাই। তারপরও আমরা এটা তুলেছি কাস্টমারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। ভালই বেচা হচ্ছে।’

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম নিউমার্কেট

আপডেট সময় : ০২:১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ক্রেতা সমাগমে আবারও জমে উঠেছে রাজধানীর নিউমার্কেটের বিপণিবিতানগুলো। যদিও সংঘর্ষের পর অনেকখানি বদলে গিয়েছিল নিউ মার্কেটের চিত্র। যেহেতু ঈদের মৌসম চলছে তাই ধারণা করা হচ্ছিল বিশাল একটা লোকসানের মুখে পড়বেন নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের সমাগমে কিছু ব্যবসায়ীর সেই ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে।
কেউ কেউ বলছেন সংঘর্ষের কোনো প্রভাব তাদের ব্যবসায় পড়েনি। আগের মতোই গতানুগতিক ধারায় চলছে। ক্রেতার সংখ্যা কমেনি আবার বাড়েওনি। আর কিছু ব্যবসায়ী বলছেন, এই সংঘর্ষের ফলে তাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আগের মতো ক্রেতারা বাজারে আসছেন না। অনেকের মনে আতঙ্ক কাজ করছে। এতে করে অনেকেই নিউমার্কেটকে এড়িয়ে চলছেন। যার প্রভাব পড়ছে মার্কেটে। ঈদ মৌসুম ছাড়াই আগে মানুষের ভীড়ের জন্য হাঁটা যেত না। আর এখন বাজারে ক্রেতা সংখ্যা অনেকাংশেই কম। এই একটা সংঘর্ষ আমাদের বেচাকেনায় অনেক বড় একটা ক্ষতি করে দিয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা বসেই থাকি রমাজানের আশায়। আর এই সময় এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা সব শেষ করে দিয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবসায়ী।
নিউ মার্কেট এলাকার এয়াকুব সুপার মার্কেটের শুভ ফ্যাশনের স্বত্তাধিকারী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এই সংঘর্ষ আমাদের অনেক বড় ক্ষতি করে দিয়েছে। আমরা রমজানের আশায় বসে থাকি ভাল বেচাবিক্রি হবে এই আশায়। দশ থেকে পনের রমজানের পরই মূলত আমাদের বেচাকেনা শুরু হয়। এমন একটা সময়ে এতবড় একটা ক্ষতি অপ্রত্যাশিত।’
বিল্লাল বলেন, ‘সংঘর্ষের ফলে আমাদের অনেক কাপড় নষ্ট হয়ে গেছে। যখন সংঘর্ষ লাগে তখন এলোপাতাড়ি ছোটাছুটিতে অনেক কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আবার সংঘর্ষের সময় আগুনও লাগে যা কাপড়ের অনেক বড় ক্ষতি করে দেয়। এ ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠব জানিনা। অহেতুক একটা ঘটনা ঘটল। যা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর। এখনো মার্কেট জমতেছে না। মানুষ আতঙ্কে আসছে না।’ এম আর কালেকশনের ম্যানেজার মুনির বলেন, দআমাদের ব্যবসায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আমাদের ব্যবসা অনেক ভাল হচ্ছে। সংঘর্ষের কোনো প্রভাবই আমাদের কাছে তেমন কোনো ক্ষতির কারণ মনে হচ্ছে না। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের বেচাকেনা অনেক ভাল।’ বাচ্চাদের পোশাক বিক্রয়ের দোকান রাহাত বঙ্গ ফ্যাশন। দোকানের মালিক আলামিন ভূইয়া বলেন, ‘সংঘর্ষের জন্য বিশাল একটা ক্ষতি হইছে। তারপরও আমরা ভাবছিলাম যে কয়দিন বাকি আছে ঈদের এতে করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো। তবে তেমন মনে হচ্ছে না। অনেকেই ভয়ে অনেকে আসছে না।’ শাড়ি বিপণিবিতান নাজমা শাড়ি ফ্যাশন দোকানের মালিক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘তেমন হচ্ছে না আগের মতো। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন এমনিই অনেক ক্রেতা থাকে। আর এখন ঈদের মৌসুম। এখন তো বেচাকেনা তু্ঙ্েগ থাকার কথা। কিন্তু সে অনুযায়ী হচ্ছে না। তবে আমরা আশা ছাড়িনি।’ নিউ বেবি কালেকশনে বিক্রি হয় বাচ্চাদের নানা রকমের বাহারি পোশাক। দোকান মালিক শাওন আলী বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা আল্লাহর রহমতে ভাল চলছে। যদিও সামান্য একটু সাময়িক সমস্যা হয়েছে দুই দিন। কিন্তু এখন অনেক ভাল বেচাকেনা হচ্ছে। সে অনুযায়ী বলা যায় তেমন একটা প্রভাব পড়েনি বাজারে।’
বাজারে হরদমে চলছে বলিউডের মুভির নামে তৈরি হওয়া পুষ্পা রাজ, কেজিএফ টু ও কাঁচাবাদাম পোশাক। এসব পোশাকের প্রতি বাচ্চাদের ঝোঁক বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শরীফ ফ্যাশন হাউজের মালিক শরীফ মিয়া বলেন, ‘পুষ্পা রাজ গেঞ্জি অনেক ভাল চলছে। অবশ্য এসব বেশিরভাগ বাচ্চারাই কিনছে। সাথে কাঁচাবাদাম জিন্সের প্যান্টও বিক্রি হচ্ছে ভাল। এসব ট্রেন্ডি জিনিস। যখন যেটা বের হয় তখন সেটা চলে। এভাবেই চলছে ট্রেন্ডের সাথে মিলে। আমাদেরও একটা সুবিধা হইছে। এসবের কারণে আমাদের বেচাকেনা ভাল হয়।’ মালিহা ফ্যাশনে উঠেছে পুষ্পা নামে থ্রি-পিস। এসবের ব্যাপারে জানতে চাইলে দোকান মালিক শুভ ইসলাম বলেন, ‘পুষ্পা ছবিতে যদিও নায়িকা কোনো থ্রি-পিস পরে নাই। তারপরও আমরা এটা তুলেছি কাস্টমারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। ভালই বেচা হচ্ছে।’