ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

কিশমিশ খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সকালে খালি পেটে কয়েকটি ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কেউ বলেন হজম ভালো থাকে, কেউ বলেন রক্তস্বল্পতা কমে, আবার কেউ একে ত্বকের জন্য ন্যাচারাল টনিক মনে করেন।

কিন্তু এটা কি শুধু লোকজ ধারণা, নাকি সত্যিই এর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে, সকালে কিশমিশ খাওয়ার কিছু বাস্তব উপকারিতা আছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতাও জরুরি।

কিশমিশ মূলত শুকনো আঙুর। শুকানোর ফলে এতে প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার, আয়রন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘনত্ব বেড়ে যায়। সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীর সহজে এসব পুষ্টি শোষণ করতে পারে। বিশেষ করে রাতে ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশ নরম হয় এবং হজমের জন্য আরো উপযোগী হয়ে ওঠে।

১. হজমের বন্ধু
সকালে কিশমিশ খাওয়ার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো হজমে সহায়তা। এতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং গাট হেলথ ভালো রাখে। নিয়মিত সকালে অল্প পরিমাণ কিশমিশ খেলে অনেকের গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমে।

২. হিমোগ্লোবিন তৈরি
রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগা মানুষের জন্যও কিশমিশ উপকারী হতে পারে। এতে উদ্ভিজ্জ আয়রন থাকে, যা নিয়মিত গ্রহণ করলে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে কিশমিশ খেলে আয়রন শোষণ আরও ভালো হয়।

৩. ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য
কিশমিশে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি কমিয়ে কোষের সুরক্ষা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও ত্বকের জন্য ভালো।

সবার জন্য নিরাপদ নয়
১. ডায়াবেটিস
কিছু উপকারীতা থাকলেও সব জিনিস সবার জন্য নয়। যেমন – ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি অনেক বেশি থাকে এবং এর গ্লাইসেমিক লোড তুলনামূলকভাবে উচ্চ। সকালে খালি পেটে বেশি কিসমিস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া কিশমিশ খাওয়া উচিত নয়।

২. স্থূলতা
যাদের ওজন বেশি বা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কিশমিশ ক্যালোরি-ঘন খাবার, যা অল্প খেলেও ক্যালোরি দ্রুত যোগ হয়। দিনে ৮–১০টির বেশি না খাওয়াই নিরাপদ।

৩. পেটের সমস্যা
এ ছাড়া যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস , দীর্ঘদিনের গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে কিশমিশ পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

৪. কিডনির অসুখ
কিডনির সমস্যা থাকলে উচ্চ পটাশিয়ামের কারণে কিশমিশ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া সুস্থ মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে, যদি পরিমাণ কম ও নিয়মিত হয়। তবে এটি কোনো ম্যাজিক ফুড নয়। নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে, প্রয়োজন অনুযায়ী কিশমিশকে খাদ্যতালিকায় রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) ফুডডাটা সেন্ট্রাল, এনএইচএস ইউকে

এসি/আপ্র/১৭/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

কিশমিশ খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

আপডেট সময় : ০৪:৫০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সকালে খালি পেটে কয়েকটি ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কেউ বলেন হজম ভালো থাকে, কেউ বলেন রক্তস্বল্পতা কমে, আবার কেউ একে ত্বকের জন্য ন্যাচারাল টনিক মনে করেন।

কিন্তু এটা কি শুধু লোকজ ধারণা, নাকি সত্যিই এর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে, সকালে কিশমিশ খাওয়ার কিছু বাস্তব উপকারিতা আছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতাও জরুরি।

কিশমিশ মূলত শুকনো আঙুর। শুকানোর ফলে এতে প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার, আয়রন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘনত্ব বেড়ে যায়। সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীর সহজে এসব পুষ্টি শোষণ করতে পারে। বিশেষ করে রাতে ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশ নরম হয় এবং হজমের জন্য আরো উপযোগী হয়ে ওঠে।

১. হজমের বন্ধু
সকালে কিশমিশ খাওয়ার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো হজমে সহায়তা। এতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং গাট হেলথ ভালো রাখে। নিয়মিত সকালে অল্প পরিমাণ কিশমিশ খেলে অনেকের গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমে।

২. হিমোগ্লোবিন তৈরি
রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগা মানুষের জন্যও কিশমিশ উপকারী হতে পারে। এতে উদ্ভিজ্জ আয়রন থাকে, যা নিয়মিত গ্রহণ করলে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে কিশমিশ খেলে আয়রন শোষণ আরও ভালো হয়।

৩. ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য
কিশমিশে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি কমিয়ে কোষের সুরক্ষা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও ত্বকের জন্য ভালো।

সবার জন্য নিরাপদ নয়
১. ডায়াবেটিস
কিছু উপকারীতা থাকলেও সব জিনিস সবার জন্য নয়। যেমন – ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি অনেক বেশি থাকে এবং এর গ্লাইসেমিক লোড তুলনামূলকভাবে উচ্চ। সকালে খালি পেটে বেশি কিসমিস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া কিশমিশ খাওয়া উচিত নয়।

২. স্থূলতা
যাদের ওজন বেশি বা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কিশমিশ ক্যালোরি-ঘন খাবার, যা অল্প খেলেও ক্যালোরি দ্রুত যোগ হয়। দিনে ৮–১০টির বেশি না খাওয়াই নিরাপদ।

৩. পেটের সমস্যা
এ ছাড়া যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস , দীর্ঘদিনের গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে কিশমিশ পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

৪. কিডনির অসুখ
কিডনির সমস্যা থাকলে উচ্চ পটাশিয়ামের কারণে কিশমিশ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া সুস্থ মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে, যদি পরিমাণ কম ও নিয়মিত হয়। তবে এটি কোনো ম্যাজিক ফুড নয়। নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে, প্রয়োজন অনুযায়ী কিশমিশকে খাদ্যতালিকায় রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) ফুডডাটা সেন্ট্রাল, এনএইচএস ইউকে

এসি/আপ্র/১৭/০১/২০২৬