ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি বাড়াচ্ছে তালেবান

  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জানুয়ারী ২০২২
  • ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এবার কাবুলসহ সারাদেশে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি খাতের হাজার হাজার কর্মীকে কাজের বিনিময়ে গম দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে তারা।
এদিকে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ আফগানিস্তানের জন্য বিশ্বের দাতা সংস্থাগুলোর কাছে ৪৪০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তার আবেদন করেছে বলে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়,আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হওয়ায় এই পরিমাণ তহবিল গঠন করা জরুরি। অগাস্টে তালিবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশটির অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট তীব্র হতে থাকে। দেশটির কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, যে গম দেওয়া হবে তার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আফগানিস্তান সরকারকে সহায়তা হিসেবে দিয়েছিল ভারত। এর থেকে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে কাজের বিনিময়ে প্রতিদিন ১০ কেজি গম দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচিটি এতদিন কেবল রাজধানী কাবুলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা দেশব্যাপি বিস্তৃত করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আফগানিস্তানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ও অর্থ বিষয়ক উপমন্ত্রী ফাজেল বারি ফজলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তালিবান পাকিস্তান থেকে ১৮ টন গম গ্রহণ করেছে, আরও ৩৭ টন গম সহাযতার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এদিকে ভারতের কাছ থেকে আরও ৫৫ টন গম সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তবে সহায়তা পাওয়া গমের কতটা শ্রমিকদের বেতন ও কতটা মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে তা উল্লেখ করেননি এই উপমন্ত্রী। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের সদস্যদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং বিদেশী সহায়তা স্থগিতের মত বিষয়গুলো সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। আফগানিস্তান অনেকদিন ধরেই তীব্র মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত। তাছাড়া ভয়াবহ খরায় বেশিরভাগ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে; তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সংকট আরও গভীর হয়ে ওঠে।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি বাড়াচ্ছে তালেবান

আপডেট সময় : ১২:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জানুয়ারী ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এবার কাবুলসহ সারাদেশে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি খাতের হাজার হাজার কর্মীকে কাজের বিনিময়ে গম দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে তারা।
এদিকে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ আফগানিস্তানের জন্য বিশ্বের দাতা সংস্থাগুলোর কাছে ৪৪০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তার আবেদন করেছে বলে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়,আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হওয়ায় এই পরিমাণ তহবিল গঠন করা জরুরি। অগাস্টে তালিবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশটির অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট তীব্র হতে থাকে। দেশটির কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, যে গম দেওয়া হবে তার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আফগানিস্তান সরকারকে সহায়তা হিসেবে দিয়েছিল ভারত। এর থেকে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে কাজের বিনিময়ে প্রতিদিন ১০ কেজি গম দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচিটি এতদিন কেবল রাজধানী কাবুলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা দেশব্যাপি বিস্তৃত করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আফগানিস্তানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ও অর্থ বিষয়ক উপমন্ত্রী ফাজেল বারি ফজলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তালিবান পাকিস্তান থেকে ১৮ টন গম গ্রহণ করেছে, আরও ৩৭ টন গম সহাযতার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এদিকে ভারতের কাছ থেকে আরও ৫৫ টন গম সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তবে সহায়তা পাওয়া গমের কতটা শ্রমিকদের বেতন ও কতটা মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে তা উল্লেখ করেননি এই উপমন্ত্রী। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের সদস্যদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং বিদেশী সহায়তা স্থগিতের মত বিষয়গুলো সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। আফগানিস্তান অনেকদিন ধরেই তীব্র মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত। তাছাড়া ভয়াবহ খরায় বেশিরভাগ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে; তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সংকট আরও গভীর হয়ে ওঠে।