ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কলাপাড়ায় অবৈধ গরুর হাট, নীরব প্রশাসন

  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজারে সরকারি রাস্তার ওপরে অবৈধ গরুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। ইজারাবিহীন হাটে চোরাই গরু বেচা-কেনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরদের ধারণা। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে অবৈধ গরুর হাট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে উপজেলার ইজারা দেওয়া অন্যান্য হাটে বেচা-কেনার পরিমাণ কমে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় আছেন ইজারাদাররা। রয়েছে সরকারি রাজস্বের ঘাটতির আশঙ্কা। অবৈধ এ বাজারটি অতিসত্বর বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজারে প্রতি সপ্তাহের শনিবার বসে এই হাটটি। স্থানীয়দের কাছে এ বাজারটি শনিবারের বাজার নামে পরিচিতি লাভ করেছে। ওই ইউনিয়নের বানাতী বাজারে একটি গরুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। তাই শনিবারের হাটে সরকারিভাবে কোনো গরুর হাট বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ গত বৈশাখ মাস থেকে স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যক্তি অবৈধ এ গরুর হাটটি বসিয়েছে বলে জানা যায়। অবৈধ হাট হওয়ায় প্রথমদিকে কোন ধরনের চালানপত্র ছাড়াই গরু বেচা-কেনা করা হতো। এতে কোনটি বৈধ বা কোনটি চোরাই গরু তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ফলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বাজারে চোরাই গরু বিক্রি হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। পরে একেক সপ্তাহে একেক ইজারা দেয়া হাটের রিসিভ কপি দিয়ে গরু বেচা-কেনা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।এতে সরকারিভাবে ইজারা দেয়া বানাতী বাজার গরুর হাট, বালিয়াতলীর গাজীর হাট, মহিপুরের গরু হাট, বাবলাতলার হাট, ডালবুগঞ্জের হাট ও পইক্কা হাটসহ পার্শ্ববর্তী গরুর হাটগুলোতে বেচা-কেনার পরিমাণ উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমে গেছে বলে ইজারাদাররা জানান। ফলে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া থেকে আগত গরু বিক্রেতা জমির মৃধা ও আলমাছ হাওলাদারসহ একাধিক বিক্রেতা জানান, এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় তারা এ বাজারে গরু বিক্রি করতে আসছেন। তবে ইজারা না থাকায় এ বাজারটি বৈধ নয় বলে তারা স্বীকার করেন। বানাতী বাজারের ইজারাদার মো. দুদাল বলেন, শনিবারের গরুর হাটের কারণে আমাদের বেচা-কেনা কমে গিয়েছে। এখন প্রতি সপ্তাহের হাটে মাত্র ৪ থেকে ৫ টি গরু বেচা-কেনা হয়। ১৪ লাখ টাকায় বানাতী বাজারের ইজারা নিয়েছি এখন ৭ লাখ টাকা আসবে কিনা সেই শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বৈদ্য বলেন, যদি অবৈধ হয়ে থাকে তা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একটি শক্তি নির্বাচন বিলম্বিতের চেষ্টা করছে, তবে পেছানোর সুযোগ নেই

কলাপাড়ায় অবৈধ গরুর হাট, নীরব প্রশাসন

আপডেট সময় : ১১:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজারে সরকারি রাস্তার ওপরে অবৈধ গরুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। ইজারাবিহীন হাটে চোরাই গরু বেচা-কেনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরদের ধারণা। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে অবৈধ গরুর হাট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে উপজেলার ইজারা দেওয়া অন্যান্য হাটে বেচা-কেনার পরিমাণ কমে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় আছেন ইজারাদাররা। রয়েছে সরকারি রাজস্বের ঘাটতির আশঙ্কা। অবৈধ এ বাজারটি অতিসত্বর বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজারে প্রতি সপ্তাহের শনিবার বসে এই হাটটি। স্থানীয়দের কাছে এ বাজারটি শনিবারের বাজার নামে পরিচিতি লাভ করেছে। ওই ইউনিয়নের বানাতী বাজারে একটি গরুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। তাই শনিবারের হাটে সরকারিভাবে কোনো গরুর হাট বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ গত বৈশাখ মাস থেকে স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যক্তি অবৈধ এ গরুর হাটটি বসিয়েছে বলে জানা যায়। অবৈধ হাট হওয়ায় প্রথমদিকে কোন ধরনের চালানপত্র ছাড়াই গরু বেচা-কেনা করা হতো। এতে কোনটি বৈধ বা কোনটি চোরাই গরু তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ফলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বাজারে চোরাই গরু বিক্রি হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। পরে একেক সপ্তাহে একেক ইজারা দেয়া হাটের রিসিভ কপি দিয়ে গরু বেচা-কেনা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।এতে সরকারিভাবে ইজারা দেয়া বানাতী বাজার গরুর হাট, বালিয়াতলীর গাজীর হাট, মহিপুরের গরু হাট, বাবলাতলার হাট, ডালবুগঞ্জের হাট ও পইক্কা হাটসহ পার্শ্ববর্তী গরুর হাটগুলোতে বেচা-কেনার পরিমাণ উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমে গেছে বলে ইজারাদাররা জানান। ফলে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া থেকে আগত গরু বিক্রেতা জমির মৃধা ও আলমাছ হাওলাদারসহ একাধিক বিক্রেতা জানান, এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় তারা এ বাজারে গরু বিক্রি করতে আসছেন। তবে ইজারা না থাকায় এ বাজারটি বৈধ নয় বলে তারা স্বীকার করেন। বানাতী বাজারের ইজারাদার মো. দুদাল বলেন, শনিবারের গরুর হাটের কারণে আমাদের বেচা-কেনা কমে গিয়েছে। এখন প্রতি সপ্তাহের হাটে মাত্র ৪ থেকে ৫ টি গরু বেচা-কেনা হয়। ১৪ লাখ টাকায় বানাতী বাজারের ইজারা নিয়েছি এখন ৭ লাখ টাকা আসবে কিনা সেই শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বৈদ্য বলেন, যদি অবৈধ হয়ে থাকে তা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।