ফারজানা কাশেমী : কলমের সাথে সন্ধি যেন এক অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ। কিছু সময়ে পরিনতি দুর্বিষহ, অসহনীয় ও অস্বাভাবিক। জীবন কিছুটা স্বেচ্ছায় মৃত্যুকুপে নিমজ্জিত হওয়ার সাদৃশ্য। অথবা জীবন মরণের এক বিশাল ফাঁদে তাদের দিনযাপন।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। তবুও অলিখিত শর্ত সাপেক্ষ চিন্তার স্বাধীনতা সমীচীন হওয়া প্রাসঙ্গিক। মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ যেন স্বাধীনতা হননের সমতুল্য। এ যেন ব্যক্তি স্বাধীনতার খর্বতা।
উপনবেশিক কাল থেকে প্রচলিত রীতি, নীতির বাইরে সংস্কার চাওয়া এক রক্ত চক্ষুর সম্মুখীন হবার নামান্তর। অস্তিত্বের প্রকাশ যেন অস্থিত্ব বিলীন হওয়ার কৌশল। এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এক ভ্রান্ত ধারণা।
তবুও আমাদের গোড়াপত্তন থেকে চলমান গতিতে সভ্যতার ক্রমবিকাশ ও অগ্রযাত্রায় সহযাত্রী হয় কলমের সৈনিক। বিনম্র শ্রদ্ধায় অবনতচিত্তে চির অম্লান সকল কলম যোদ্ধা ও মুক্ত মননের ধারক। জাগ্রত বিবেক এ তাদের সত্যবচন চলার পথের কুপমুন্ডকতা ও অর্বাচীন দূরীকরণের এক মহা অস্ত্র।
আমাদের চিন্তাধারা, ভাবনায় মত ভেদ থাকা খুব স্বাভাবিক বিষয়। তবুও বাস্তবতার নামান্তর অস্তিত্বের সংকট থেকে সত্য বলার সৎ সাহসকে বিচ্ছিন্নবাদিতায় আখ্যায়িতকরণে পারদর্শী। গতানুগতিক পথ ধরে কলমের যোদ্ধা হয় লাঞ্চিত, উপেক্ষিত, বঞ্চিত ও পরাজিত এক প্রাণ প্রদীপ। আলোর দিশারীর আলো যেন আলেয়ায় মহুর্মুহ নিভে যায়। আর সংস্কারের চিন্তা শক্তি বিচ্ছন্নবাদের কালো তালিকাভুক্ত হয়। অপশক্তির করালগ্রাসে মুক্তচিন্তার সামগ্রিক চর্চা স্থবিরতায় রূপ নেয়।
দুরভিসন্ধির ভয়াবহ থাবায় দন্ত পাতে নিপাত হয় সামগ্রিক মুক্তচিন্তার নিরলস যাত্রী। যাত্রাপথে বিমর্ষ হয় অরুণ আলোর ধারক ও বাহক। করুণ কাহিনির সমাপ্তি কলম যোদ্ধার জীবন নাশের এক নিষ্ঠুর গল্পে। ছায়াতলে ছায়াবিথীতে আশ্রয়হীন হয় স্বাধিকারের স্বপক্ষের যোদ্ধা।
তবুও স্বমহিমায় ভাস্বর হোক কলম যোদ্ধা। গল্পের, জীবনের আয়োজনে বেঁচে থাকুক তাদের চিন্তাশক্তির অনিন্দ্যধারা। হেরে যাক, পরাজিত হোক সকল অপশক্তির কালো থাবা। বিচার প্রক্রিয়ার অংশে শাস্তি সুনিশ্চিত হোক শকুনের, হায়েনার। ব্লগার অভিজিৎ হত্যার সকল সহযোগীর শাস্তি কার্যকরে কিছুটা সুবাতাসে যেন স্বস্তি মিলে মুক্ত চিন্তার আলোর দিশারী। হে আলোর পথের যাত্রী-এ যে রাত্রি, এখানে থেমো না….।
লেখক : আইনজীবী
কলম যোদ্ধার যাপিত জীবনধারা
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ