ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

ঈদের বাজার তুঙ্গে, জমজমাট কলকাতার নিউমার্কেট

  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তারপরেই খুশির ঈদ। রমজান মাসের রোজা শেষ করেই ঈদের আনন্দে মেতে ওঠার পালা। আর তাই এখন থেকেই ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। মার্কেট, শপিংমলে কেনাবেচার হিড়িক বেড়েছে। প্রতিদিনই কলকাতার বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা।
তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় চোখে পড়ছে কলকাতার নিউমার্কেটে। ছোট থেকে বড় প্রত্যেকেই নতুন জামা-কাপড় থেকে শুরু করে ব্যাগ, প্রসাধনী ও অন্যান্য জিনিস কিনতে ব্যস্ত।
কলকাতার নিউমার্কেট হরেক রকম পসরা সাজিয়ে ঈদের বেচাকেনা করতে প্রস্তুত ক্রেতারা। মহামারির কারণে গত দু’বছর ধরে সেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব হয়নি। অনেক মানুষই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ঈদের কেনাকাটায় প্রভাব পড়ছে না। যে যার সাধ্যমতো জিনিসপত্র কিনছেন।
ইতোমধ্যেই ভারত সরকার পর্যটন ভিসা দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিন থেকে চার হাজার মানুষ ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় আসছেন চিকিৎসা, ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটার জন্য।
মূলত ঈদের সময় প্রচুর বাংলাদেশি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র উপভোগ করতে এবং একইসঙ্গে কেনাকাটা করতে পশ্চিমবঙ্গে আসেন। সদ্য বাংলাদেশ থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, মূলত আমরা এখানে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে এসেছি। এর সঙ্গে আমরা নিউ মার্কেটে এসেছি ঈদের কেনাকাটা করার জন্য।
ভিকি নামের এক বিক্রেতা জানান সব মিলিয়ে মোটামুটি বেচাকেনা চলছে। তবে বেশি দামের জিনিসপত্র কম বিক্রি হচ্ছে। এখনো বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে সে রকম সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তবে ঈদের মার্কেটের প্রভাব একটু একটু করে পড়তে শুরু করেছে। ভিকি আশা প্রকাশ করেছেন যে, চলতি বছর কোনরকম চললেও আগামী বছর ব্যবসা আরও ভালো হবে।
আরেক বিক্রেতা মোহাম্মদ আজম বলেন, বাজার ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করেছে আশা করা যায়। আগামী শনি এবং রোববার মার্কেটে কেনাবেচা আরো বেড়ে যাবে।
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা আজিয়া বলেন, গত দু’বছর করোনার জন্য ঈদ সেভাবে পালন করতে পারিনি। এবার ভারত সরকার সবকিছু খুলে দিয়েছে। তাই ঈদের আনন্দ আমরা সম্পূর্ন ভাবে উপভোগ করতে পারব।
বাংলাদেশ থেকে আসা অপর এক ক্রেতা সানা জানান, নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসার মজাই আলাদা। কারণ এখানে এলে সব ধরনের সবকিছু একই জায়গায় পাওয়া যায়।
পোশাক বিক্রেতা মোঃ সাইদুল বলেন, আমরা নিউমার্কেটের দোকানদাররা ঈদের সময় অনেকটাই বাংলাদেশি মানুষদের উপর ভরসা করে থাকি। গত দু’বছর সেই বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। এখন কিছু মানুষ বাংলাদেশ থেকে আসছেন এবং কেনাকাটা করছেন। যদি এরকম চলতে থাকে তবে আগামী দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যের হাল ফিরবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর কাছেও কদর রয়েছে নিউমার্কেটের। এখানে আসলে সবকিছুই হাতের মুঠোয় পাওয়া যায়। রেডিমেড জামা কাপড় থেকে শুরু করে আনস্টিচড ক্লথ, বিভিন্ন প্রসাধনী, জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, শুকনো খাবার, ফল, ফুল সবই মেলে নিউমার্কেটে। তাই বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের কাছে কেনাকাটার স্বর্গ উদ্যান হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট।
জ্বালানি তেলের দাম কয়েকদিন ধরে না বাড়লেও রমজান মাসে ফলের চাহিদা অনেক বেশি থাকায় দাম বেড়েছে অতিরিক্ত। ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ ওমর জানান প্রতিটি ফলেরই দাম বেড়েছে। যোগান কম কিন্তু চাহিদা বেশি তাই সাধারণ মানুষকে বেশি দাম দিয়ে ফল কিনতে হচ্ছে।
আপেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ রুপিতে, আম বিক্রি হচ্ছে দেড়শ থেকে দুইশ রুপি। অপরদিকে আঙুর ১০০ রুপি, লেবু ১০০ রুপি, বিভিন্ন ধরনের খেজুর পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এছাড়া তরমুজ, পেঁপে এবং পেয়ারার দাম বেড়েছে অনেকটাই।
মোহাম্মদ ওমর বলেন, যে মানুষ আগে ৩০০ টাকার ফল কিনতেন তিনি এখন দেড়শ টাকার ফল কিনছেন। মানুষের হাতে পয়সা কম তাই বিক্রিও কম হচ্ছে। আবার অনেক ক্রেতা বলছেন, ঈদের বাজার তো একবারই করব। তাই কোনো কার্পণ্য করছি না। যেভাবেই হোক ছেলে মেয়েদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে।
জামাকাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন খাবার স্টলেও দেখা গেছে প্রচুর ভিড়। মানুষ কেনাকাটা করছেন, ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন আবার কিছু মুখে দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের বাজার তুঙ্গে, জমজমাট কলকাতার নিউমার্কেট

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তারপরেই খুশির ঈদ। রমজান মাসের রোজা শেষ করেই ঈদের আনন্দে মেতে ওঠার পালা। আর তাই এখন থেকেই ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। মার্কেট, শপিংমলে কেনাবেচার হিড়িক বেড়েছে। প্রতিদিনই কলকাতার বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা।
তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় চোখে পড়ছে কলকাতার নিউমার্কেটে। ছোট থেকে বড় প্রত্যেকেই নতুন জামা-কাপড় থেকে শুরু করে ব্যাগ, প্রসাধনী ও অন্যান্য জিনিস কিনতে ব্যস্ত।
কলকাতার নিউমার্কেট হরেক রকম পসরা সাজিয়ে ঈদের বেচাকেনা করতে প্রস্তুত ক্রেতারা। মহামারির কারণে গত দু’বছর ধরে সেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব হয়নি। অনেক মানুষই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ঈদের কেনাকাটায় প্রভাব পড়ছে না। যে যার সাধ্যমতো জিনিসপত্র কিনছেন।
ইতোমধ্যেই ভারত সরকার পর্যটন ভিসা দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিন থেকে চার হাজার মানুষ ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় আসছেন চিকিৎসা, ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটার জন্য।
মূলত ঈদের সময় প্রচুর বাংলাদেশি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র উপভোগ করতে এবং একইসঙ্গে কেনাকাটা করতে পশ্চিমবঙ্গে আসেন। সদ্য বাংলাদেশ থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, মূলত আমরা এখানে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে এসেছি। এর সঙ্গে আমরা নিউ মার্কেটে এসেছি ঈদের কেনাকাটা করার জন্য।
ভিকি নামের এক বিক্রেতা জানান সব মিলিয়ে মোটামুটি বেচাকেনা চলছে। তবে বেশি দামের জিনিসপত্র কম বিক্রি হচ্ছে। এখনো বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে সে রকম সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তবে ঈদের মার্কেটের প্রভাব একটু একটু করে পড়তে শুরু করেছে। ভিকি আশা প্রকাশ করেছেন যে, চলতি বছর কোনরকম চললেও আগামী বছর ব্যবসা আরও ভালো হবে।
আরেক বিক্রেতা মোহাম্মদ আজম বলেন, বাজার ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করেছে আশা করা যায়। আগামী শনি এবং রোববার মার্কেটে কেনাবেচা আরো বেড়ে যাবে।
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা আজিয়া বলেন, গত দু’বছর করোনার জন্য ঈদ সেভাবে পালন করতে পারিনি। এবার ভারত সরকার সবকিছু খুলে দিয়েছে। তাই ঈদের আনন্দ আমরা সম্পূর্ন ভাবে উপভোগ করতে পারব।
বাংলাদেশ থেকে আসা অপর এক ক্রেতা সানা জানান, নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসার মজাই আলাদা। কারণ এখানে এলে সব ধরনের সবকিছু একই জায়গায় পাওয়া যায়।
পোশাক বিক্রেতা মোঃ সাইদুল বলেন, আমরা নিউমার্কেটের দোকানদাররা ঈদের সময় অনেকটাই বাংলাদেশি মানুষদের উপর ভরসা করে থাকি। গত দু’বছর সেই বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। এখন কিছু মানুষ বাংলাদেশ থেকে আসছেন এবং কেনাকাটা করছেন। যদি এরকম চলতে থাকে তবে আগামী দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যের হাল ফিরবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর কাছেও কদর রয়েছে নিউমার্কেটের। এখানে আসলে সবকিছুই হাতের মুঠোয় পাওয়া যায়। রেডিমেড জামা কাপড় থেকে শুরু করে আনস্টিচড ক্লথ, বিভিন্ন প্রসাধনী, জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, শুকনো খাবার, ফল, ফুল সবই মেলে নিউমার্কেটে। তাই বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের কাছে কেনাকাটার স্বর্গ উদ্যান হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট।
জ্বালানি তেলের দাম কয়েকদিন ধরে না বাড়লেও রমজান মাসে ফলের চাহিদা অনেক বেশি থাকায় দাম বেড়েছে অতিরিক্ত। ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ ওমর জানান প্রতিটি ফলেরই দাম বেড়েছে। যোগান কম কিন্তু চাহিদা বেশি তাই সাধারণ মানুষকে বেশি দাম দিয়ে ফল কিনতে হচ্ছে।
আপেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ রুপিতে, আম বিক্রি হচ্ছে দেড়শ থেকে দুইশ রুপি। অপরদিকে আঙুর ১০০ রুপি, লেবু ১০০ রুপি, বিভিন্ন ধরনের খেজুর পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এছাড়া তরমুজ, পেঁপে এবং পেয়ারার দাম বেড়েছে অনেকটাই।
মোহাম্মদ ওমর বলেন, যে মানুষ আগে ৩০০ টাকার ফল কিনতেন তিনি এখন দেড়শ টাকার ফল কিনছেন। মানুষের হাতে পয়সা কম তাই বিক্রিও কম হচ্ছে। আবার অনেক ক্রেতা বলছেন, ঈদের বাজার তো একবারই করব। তাই কোনো কার্পণ্য করছি না। যেভাবেই হোক ছেলে মেয়েদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে।
জামাকাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন খাবার স্টলেও দেখা গেছে প্রচুর ভিড়। মানুষ কেনাকাটা করছেন, ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন আবার কিছু মুখে দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে।