নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও তাদের জোটে ফিরে আসার সুযোগ থাকার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পরদিন শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। ইসলামী আন্দোলনের জন্য জামায়াতের দরজা এখনো খোলা রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবার জন্য জামায়াতের দরজা খোলা আছে।
চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন ছিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলে। কিন্তু আসন ভাগাভাগিতে টানাপোড়েনের জেরে তারা গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানায়।
ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন রেখে জামায়াত জোটের আসন ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই আসনগুলোর বিষয়ে এখন কী সিদ্ধান্ত হবে-জানতে চাইলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে লিয়াজোঁ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে জানালে শীর্ষ নেতৃত্ব বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে দেখা করার পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এই ৪৭টি আসন এখন জোটে থাকা ১০টি দলের মধ্যে বণ্টিত হবে। এদিকে এই জোটে ৩০টি আসনে ছাড়া পাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আশা করছে, তাদের আসন এখন ১৫টির মতো বাড়তে পারে।
ইশতেহার চূড়ান্তে বৈঠকে জামায়াত: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। সেই নির্বাচনের জন্য দলীয় ইশতেহার চূড়ান্ত করাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এ বৈঠক শুরু হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দলের আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্যসহ মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
২২ জানুয়ারি থেকে দলের নির্বাচনী প্রচারের সূচিও ঠিক হবে এ বৈঠকে। নির্বাচনী সফর কবে, কীভাবে হবে, সেই পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হবে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কিছু ‘পলিসি পেপার’ বৈঠকে প্রস্তাব আকারে এসেছে। বিশেষজ্ঞ দল তা বৈঠকে পেশ করছে। বৈঠকে সেটিও চূড়ান্ত হবে।
‘পলিসি পেপার’-এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গেলে পলিসি পেপার প্রয়োজন হয়। এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত হলে জাতিকে জানানো হবে এবং দলের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/১৭/০১/২০২৬



















