ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০

  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ইরানের বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানান। তিনি একজন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছেন।

২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হয়েছিল ইরানের বর্তমান বিক্ষোভ।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এখন সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে ইরানের শাসকগোষ্ঠী। এই সংকট মোকাবেলায় তারা নজিরবিহীন ব্যবস্থা নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির হিসাবে, মাত্র দুই সপ্তাহের অস্থিরতার মধ্যে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালছে এবং প্রায় পুরোপুরিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগের কোনো সংকটেই তাদের এমনটা করতে দেখা যায়নি। দেশটির যেসব সড়কে কিছুদিন আগেও সরকারবিরোধী স্লোগানের গর্জন শোনা যাচ্ছিল, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে।

বিবিসি পার্সিয়ানকে তেহরানের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার ইরানের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।

সেদিন অবিশ্বাস্য রকমের ভিড় ছিল, আর ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার রাত থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত।’ একজন ইরানি সাংবাদিকের ভাষায়, ‘এখন রাস্তায় নামা মানে মৃত্যুকে আহ্বান করা।’
ইরানের এবারের সংকট শুধু দেশের ভেতরের বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাইরের চাপও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আর এটি তিনি দিচ্ছেন এমন এক সময়ে, যখন মাত্র সাত মাস আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। ওই সংঘাত ইরানের শাসনব্যবস্থাকে স্পষ্টভাবে দুর্বল করে দেয়।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই পরিস্থিতি ইরানের হাতে আরেকটি তাস তুলে দিয়েছে। ইরান এখন আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহী।

সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি

ওআ/আপ্র/১৩/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ইরানের বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানান। তিনি একজন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছেন।

২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হয়েছিল ইরানের বর্তমান বিক্ষোভ।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এখন সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে ইরানের শাসকগোষ্ঠী। এই সংকট মোকাবেলায় তারা নজিরবিহীন ব্যবস্থা নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির হিসাবে, মাত্র দুই সপ্তাহের অস্থিরতার মধ্যে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালছে এবং প্রায় পুরোপুরিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগের কোনো সংকটেই তাদের এমনটা করতে দেখা যায়নি। দেশটির যেসব সড়কে কিছুদিন আগেও সরকারবিরোধী স্লোগানের গর্জন শোনা যাচ্ছিল, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে।

বিবিসি পার্সিয়ানকে তেহরানের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার ইরানের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।

সেদিন অবিশ্বাস্য রকমের ভিড় ছিল, আর ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার রাত থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত।’ একজন ইরানি সাংবাদিকের ভাষায়, ‘এখন রাস্তায় নামা মানে মৃত্যুকে আহ্বান করা।’
ইরানের এবারের সংকট শুধু দেশের ভেতরের বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাইরের চাপও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আর এটি তিনি দিচ্ছেন এমন এক সময়ে, যখন মাত্র সাত মাস আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। ওই সংঘাত ইরানের শাসনব্যবস্থাকে স্পষ্টভাবে দুর্বল করে দেয়।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই পরিস্থিতি ইরানের হাতে আরেকটি তাস তুলে দিয়েছে। ইরান এখন আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহী।

সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি

ওআ/আপ্র/১৩/০১/২০২৬