প্রত্যাশা ডেস্ক: ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, আহত বিক্ষোভকারীরা ইলাম প্রদেশের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছে এমন খবর পেয়ে সেখানেও পুলিশি অভিযান চালানো হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ভিন্নমত দমনে কর্তৃপক্ষ কতটা নীচে নামতে প্রস্তুত, তা আরো স্পষ্ট করে তোলে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএনএ) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং দুইজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া ৬০ জনের বেশি আহত এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ২৭টি প্রদেশে। ইলাম ও তেহরানে দমন-পীড়ন সবচেয়ে তীব্র হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরান হিউম্যান রাইটস এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের দীর্ঘ ও নথিভুক্ত ইতিহাস রয়েছে। এবার দমন-পীড়নের মাত্রা আরো বেশি সহিংস ও ব্যাপক হতে পারে, এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
বিবিসি পার্সিয়ান অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইলাম প্রদেশে এক পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা “স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক” স্লোগান দিচ্ছে এবং মালেকশাহি এলাকায় ব্যাংকে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ থেকে এই অস্থিরতা শুরু হয়। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক পতন ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যমূল্যের ব্যাপক হারে বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামেন। পরে শিক্ষার্থীরা যোগ দিলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গণঅভ্যুত্থানে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, তার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বিস্তৃত আন্দোলন বলে মনে করা হচ্ছে।
সানা/ওআ/আপ্র/৭/১/২০২৬


























