প্রত্যাশা ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে কারাগারে অন্তরীণ নেতা ইমরান খানের মুক্তি চেয়েছেন তার ছোটো ছেলে কাসিম খান। বাবার মুক্তি দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় কাসিম বলেন, গত ৬ সপ্তাহ ধরে আমার বাবা পাকিস্তানের কারাগারের ডেথ সেলে বন্দি আছেন এবং তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। আদালতের অনুমোদন সত্ত্বেও তার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না তার বোনরা এবং অন্যান্য স্বজনরা। আমরা তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে পারছি না, সাক্ষাৎ করতে পারছি না এমন কি তিনি কেমন আছেন- তা ও জানতে পারছি না। আমি এবং আমার ভাই (সুলাইমান ইসা খান) বাবার সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না।
আমি স্পষ্টভাবে বলছি- বাবার নিরাপত্তাহীনতা এবং যে অমানবিক বিচ্ছিন্ন পরিবেশে আমার বাবাকে রাখা হয়েছে- তার আইনগত, আদর্শগত এবং আন্তর্জাতিক, এককথায় সম্পূর্ণ দায় পাকিস্তানের সরকারকে নিতে হবে। নিজের পোস্টে কাসিম খান জানিয়েছেন, গত ৮৪৫ দিন ধরে কারা অন্তরীন আছেন ইমরান খান।
দেশজুড়ে আন্দোলনের হুমকি বিরোধীদের: এদিকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে তার বোন ও দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধী জোট। একই সঙ্গে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকতুন্খওয়া মিল্লি আওয়ামী পার্টির (পিকেএমএপি) সভাপতি মাহমুদ আচ্ছাকজাই বলেন, আমরা সিন্ধু, বেলুচ, পশতুন ও পাঞ্জাবিদের রাস্তায় নামা থেকে বিরত রেখেছি, না হলে সরকার আরো বড় সমস্যায় পড়তো। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংসদকে রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করেছে এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক অন্য কোথাও থেকে নির্দেশ নিচ্ছেন। তার দাবি, উপজাতীয় এলাকায় মানুষ নিহত হচ্ছিল, কিন্তু এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগও বিরোধীদের দেওয়া হয়নি।
ইমরান খানকে কারাগারে আটক রাখার কারণ ও তাকে কেন তার বোন ও দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না- এ প্রশ্নও তোলেন আচ্ছাকজাই। তিনি বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আদিয়ালা জেলের বাইরে বসে আছেন, কিন্তু তার আবেদন কেউ শুনছে না।
সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হারিপুরের উপনির্বাচনে-যেখানে সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ওমর আয়ূবের স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন- সেখানে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, ফর্ম-৪৭-এর ফলাফল কম্পিউটারে পরিবর্তিত ফলাফলের সঙ্গে মেলেনি।
পিটিআই নেতা গোহর বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ থাকতে চান, কিন্তু উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে। তিনি আরো বলেন, যতদূর আমি ইমরান খানকে চিনি, তিনি আমাদের আর সংসদে থাকতে দেবেন না। সূত্র: ডন
প্রসঙ্গত, কিংবদন্তী ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খান সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের শীর্ষ নির্বাহীর পদে কে আরোহন করবেন- তা নিয়ে সেনবাহিনীর সঙ্গে দন্দ্বের জেরে সংকটে পড়েন তিনি। পরে ২০২২ সালের পার্লামেন্টের বিরোধী সদস্যদের অনাস্থাভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন।
এদিকে ক্ষমতা হারানোর পরপরই একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। সেসব মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে আছেন তিনি। ক্রিকেটার জীবনে ‘প্লেবয়’ ইমেজ ছিল ইমরান খানের। তবে সেই ইমেজ ঝেড়ে ফেলে রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে ১৯৯৫ সালে ব্রিটেনের নাগরিক জেমিমা গোল্ডস্মিথকে বিয়ে করেন ইমরান খান। পরে ২০০৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সুলাইমান ইসা ও কাসিম এই দম্পতির সন্তান। জেমিমার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আরো দু’বার বিয়ে করেছেন ইমরান। অন্যদিকে জেমিমা পাকিস্তান থেকে নিজের দেশ ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে পেশাদার লেখালেখি, চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মাণে মন দেন। সুলাইমান ও কাসিম তাদের মায়ের সঙ্গেই থাকেন।
সানা/আপ্র/২৯/১১/২০২৫























