ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

আশ্বাসে সড়ক ছাড়লেন সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুতরা

  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

রোববার জাহাঙ্গীর গেটে অবরোধ করেন সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুতরা- ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরি পুনর্বহাল, পেনশনসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেটের সামনের সড়ক অবরোধ করেছেন সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ও জোরপূর্বক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে সামরিক বাহিনী থেকে তাদের চাকরিচ্যুত ও জোরপূর্বক অবসর দেওয়া হয়েছে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পুনর্বহাল করতে হবে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই সড়ক অবরোধ শুরু করেন তারা। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা অবরোধে আশপাশের সব সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। তবে তাদের দাবি পর্যালোচনা করা হবে বলে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আশ্বাস দেন। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হবে বলে জানান। এরপর দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

এর আগে সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ও জোরপূর্বক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো–

১. সামরিক বাহিনী থেকে যাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের পুনর্বহাল করা
২. যাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে না পারবে, তাদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা
৩. এছাড়া সেনাবাহিনীর বিদ্যমান চাকরিবিধিমালা বা আইন সংস্কার করা

অবরোধ চলাকালে বক্তারা বলেন, আমরা আমাদের কষ্ট ও দাবিগুলো তুলে ধরতে গত ২১ আগস্ট ‘সহযোদ্ধা’ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করি। আমরা গত ২৭ আগস্ট চাকরিচ্যুত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, সেনাপ্রধানের কাছে তিনটি দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এছাড়া গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রায় সাড়ে তিনশো সদস্যের উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নামের তালিকাসহ স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। পরে আমরা ৫ অক্টোবর রাওয়া ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছি। এই সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আরও বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে আমরা সব কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করেছি এবং অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানসহ তিন বাহিনী প্রধানকে অবগত করার পরও ওনারা আমাদের প্রতি দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেননি। তাই আজ আমরা তিন দফা দাবিতে সপরিবারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।

অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে ‘সহযোদ্ধার’ প্রধান সমন্বয়ক মো. নাইমুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, তিন বাহিনীকে আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। বিগত সরকারের আমলে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। অনেককে জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আমরা আমাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার রয়েছি।

‘সহযোদ্ধার’ নৌবাহিনীর সমন্বয়ক মো. আব্দুল হাকিম বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৩৫০ জন অফিসার, ৬০০ জন সৈনিককে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও অবসরে পাঠানো হয়েছে। এখন তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর নিয়ম রয়েছে- কাউকে চাকরিচ্যুত বা অবসরে পাঠানো হলে তিনি পুনর্নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন না। এ নিয়ম ব্রিটিশ আইনে রয়েছে। আমরা আইনটির সংস্কারে আবেদন জানিয়েছে। পুলিশসহ সরকারের অন্য যেকোনো সংস্থা থেকে কাউকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হলে তার আবেদন বা আদালতে সুবিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সামরিক বাহিনীতে এই সুযোগ নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও এই আইনের সংস্কার প্রয়োজন।

 

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

আশ্বাসে সড়ক ছাড়লেন সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুতরা

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরি পুনর্বহাল, পেনশনসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেটের সামনের সড়ক অবরোধ করেছেন সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ও জোরপূর্বক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে সামরিক বাহিনী থেকে তাদের চাকরিচ্যুত ও জোরপূর্বক অবসর দেওয়া হয়েছে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পুনর্বহাল করতে হবে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই সড়ক অবরোধ শুরু করেন তারা। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা অবরোধে আশপাশের সব সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। তবে তাদের দাবি পর্যালোচনা করা হবে বলে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আশ্বাস দেন। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হবে বলে জানান। এরপর দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

এর আগে সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ও জোরপূর্বক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো–

১. সামরিক বাহিনী থেকে যাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের পুনর্বহাল করা
২. যাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে না পারবে, তাদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা
৩. এছাড়া সেনাবাহিনীর বিদ্যমান চাকরিবিধিমালা বা আইন সংস্কার করা

অবরোধ চলাকালে বক্তারা বলেন, আমরা আমাদের কষ্ট ও দাবিগুলো তুলে ধরতে গত ২১ আগস্ট ‘সহযোদ্ধা’ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করি। আমরা গত ২৭ আগস্ট চাকরিচ্যুত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, সেনাপ্রধানের কাছে তিনটি দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এছাড়া গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রায় সাড়ে তিনশো সদস্যের উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নামের তালিকাসহ স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। পরে আমরা ৫ অক্টোবর রাওয়া ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছি। এই সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আরও বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে আমরা সব কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করেছি এবং অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানসহ তিন বাহিনী প্রধানকে অবগত করার পরও ওনারা আমাদের প্রতি দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেননি। তাই আজ আমরা তিন দফা দাবিতে সপরিবারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।

অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে ‘সহযোদ্ধার’ প্রধান সমন্বয়ক মো. নাইমুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, তিন বাহিনীকে আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। বিগত সরকারের আমলে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। অনেককে জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আমরা আমাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার রয়েছি।

‘সহযোদ্ধার’ নৌবাহিনীর সমন্বয়ক মো. আব্দুল হাকিম বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৩৫০ জন অফিসার, ৬০০ জন সৈনিককে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও অবসরে পাঠানো হয়েছে। এখন তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর নিয়ম রয়েছে- কাউকে চাকরিচ্যুত বা অবসরে পাঠানো হলে তিনি পুনর্নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন না। এ নিয়ম ব্রিটিশ আইনে রয়েছে। আমরা আইনটির সংস্কারে আবেদন জানিয়েছে। পুলিশসহ সরকারের অন্য যেকোনো সংস্থা থেকে কাউকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হলে তার আবেদন বা আদালতে সুবিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সামরিক বাহিনীতে এই সুযোগ নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও এই আইনের সংস্কার প্রয়োজন।