আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজার ১৫ বছর বয়সী কিশোর ওমর হালাওয়া এখন প্রতিদিন সেই কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং তার বিয়োগান্তক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে। জীবন ও যুদ্ধের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ১৩ বছরের এই কিশোর গভীর আবেগ নিয়ে বলে যে, তার পা তার আগেই বেহেশতে চলে গেছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসন অসংখ্য ফিলিস্তিনির জীবনকে পঙ্গু করে দিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলায় হাজার হাজার শিশু এখন হাত, পা কিংবা চোখ হারিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এমনই এক হৃদয়বিদারক গল্প তুলে ধরেছে ১৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিশোর ওমর হালাওয়াকে নিয়ে, যে মাত্র তিন মাস আগে তার ডান পা হারিয়েছে। ওমরের মা ইয়াসমিন হালাওয়া তার সন্তানের এই করুণ পরিণতি দেখে অত্যন্ত ব্যথিত এবং তিনি জানান যে এই দৃশ্য সহ্য করা তাদের পরিবারের জন্য খুবই যন্ত্রণাদায়ক।
ওমরের মা ইয়াসমিন জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তাদের পরিবারকে অন্তত ১৫ বার বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০০০ শেকেল জোগাড় করতে না পেরে তারা উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকাতেই থেকে যেতে বাধ্য হন। ওই এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় তৃষ্ণা মেটাতে শিশুরা ভোর হওয়ার সাথে সাথেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকত। গত ১ অক্টোবর ওমর তার ১১ বছর বয়সী বোন লায়ান, সমবয়সী চাচাতো ভাই মোয়াথ হালাওয়া এবং বন্ধু মোহাম্মদ আল সিকসিকের সাথে জাবালিয়া শিবিরের কাছের একটি ট্যাঙ্কার থেকে পানি আনতে যায়। সেখানেই ইসরাইলি গোলার মুখে পড়ে তারা।
গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত ইয়াসমিন যখন সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তখনই খবর পান যে ওমর গুরুতর আহত হয়েছে। হাসপাতালে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর ওমর প্রথমেই তার সাথে থাকা বন্ধু ও চাচাতো ভাইয়ের কথা জানতে চেয়েছিল। কিন্তু নির্মম সত্য ছিল, পানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা তার বন্ধু মোহাম্মদ ও চাচাতো ভাই মোয়াথ ইসরাইলি হামলায় সেই মুহূর্তে প্রাণ হারিয়েছিল।
হালাওয়া পরিবার ওমরের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া পা-টি তাদের তাঁবুর কাছেই কবর দিয়েছে।
ওআ/আপ্র/১৪/০১/২০২৬






















