ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আমরা পর্যবেক্ষণ করবো, হস্তক্ষেপ নয়

  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনের সংবাদ সম্মেলন -ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়। মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে বলেন, ‘আমরা শুধু পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি, কোনো হস্তক্ষেপ করতে আসিনি। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আমাদের মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূলায়নে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’

ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের জন্য সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ প্রদান করে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল দলের বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

ইন্তা লাসে বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষকরা দুজনের এক-একটি দল হয়ে কাজ করবেন এবং তাদের পর্যবেক্ষণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তারা শুধু শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’

পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত। তাদের মাঠ পর্যায়ে মোতায়েনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই মিশনটি নিয়োজিত করা হয়েছে। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস, যিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই মিশনটিকে আরো জোরদার করতে যুক্ত হবেন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকেরা। তারা নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম- ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল যুক্ত হয়ে এই মিশনের কার্যক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড মিলিয়ে এই মিশনে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।

পর্যবেক্ষক মিশন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হবে। উভয় নথিই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

সানা/আপ্র/১৭/০১/২০২৬

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

আমরা পর্যবেক্ষণ করবো, হস্তক্ষেপ নয়

আপডেট সময় : ০৯:৫০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়। মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে বলেন, ‘আমরা শুধু পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি, কোনো হস্তক্ষেপ করতে আসিনি। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আমাদের মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূলায়নে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’

ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের জন্য সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ প্রদান করে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল দলের বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

ইন্তা লাসে বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষকরা দুজনের এক-একটি দল হয়ে কাজ করবেন এবং তাদের পর্যবেক্ষণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তারা শুধু শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’

পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত। তাদের মাঠ পর্যায়ে মোতায়েনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই মিশনটি নিয়োজিত করা হয়েছে। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস, যিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই মিশনটিকে আরো জোরদার করতে যুক্ত হবেন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকেরা। তারা নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম- ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল যুক্ত হয়ে এই মিশনের কার্যক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড মিলিয়ে এই মিশনে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।

পর্যবেক্ষক মিশন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হবে। উভয় নথিই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

সানা/আপ্র/১৭/০১/২০২৬