ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০২৪, ১৫ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আখেরি মোনাজাতে কল্যাণ কামনায় বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি

  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর প্রতিনিধি : সকলের কল্যাণ, দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাতের তিন দিনের সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব। বেলা সোয়া ১২টা থেকে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ভারতের মাওলানা ইউসুফ বিন সা’দ কান্ধলভী। আধা ঘণ্টার এই মোনাজাত টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এদিন ফজরের পর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুরসালিন, এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার শেষ দিনের কার্যক্রম। তার বয়ান তর্জমা করে শোনান বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফুল।
বয়ানের পর নাস্তার বিরতি দিয়ে ৯টা থেকে মাওলানা মোশাররফ তালিমের বয়ান করেন। সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয় হেদায়েতি বয়ান। হেদায়তি বয়ানের পর হয় আখেরি মোনাজাত। প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয় কয়েক লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে তাবলিগ জামাতের বিদেশি অনুসারী থাকেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার। তাবলিগ জামাতের নিয়মিত অনুসারী নন, এমন অনেকও বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শামিল থাকতে চান।
গত শুক্রবার আম বয়ানের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এই পর্বে অংশ নেন দিল্লির মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীরা। এর বাইরে শুধু আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসতে থাকে শনিবার থেকেই। বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রোবাস, ট্রেন, লঞ্চে করে এসে টঙ্গীতে পৌঁছে অবস্থান নিতে শুরু করেন।
রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার লোকজন শীত আর কুয়াশা উপেক্ষা করে রাতেই টঙ্গীমুখো হন। মধ্যরাত থেকে টঙ্গীমুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় ১৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেও ইজতেমা মাঠে পৌঁছেছেন অনেকে। ইজতেমার মাঠে যাদের জায়গা হয়নি, আশপাশের বাসাবাড়ি, ভবন, ভবনের ছাদ কিংবা করিডোর, সড়কের পাশে ফুটপাতে এমনকি গাছতলায় এস তারা মোনাজাতে হাত তুলেছেন।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সায়েম বলেন, রোববার সকাল পর্যন্ত আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স ৬২টি বিভিন্ন দেশ থেকে ৭ হাজার ৯২১জন বিদেশি মেহমান বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। মূল ইজতেমা ময়দানে নারীদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। সে কারণে ময়দানের বাইরে খালি জায়গায়, কলকারখানা ও বসত বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন বহু নারী। এবার কাকরাইলের মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা ১৩-১৫ জানুয়ারি প্রথম পর্বে ইজতেমায় অংশ নেন। মাওলানা সা’দ এর অনুসারীদের অংশগ্রহণে রোববার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাতের এই বিশ্ব সম্মেলন। আগে এক মঞ্চ থেকেই একবারই বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন হতো। কিন্তু মাওলানা জোবায়ের এবং মাওলানা সা’দ পক্ষের অনুসারীরা এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ বিশ্ব ইজতেমা দুইবারে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

আখেরি মোনাজাতে কল্যাণ কামনায় বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি

আপডেট সময় : ১০:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩

গাজীপুর প্রতিনিধি : সকলের কল্যাণ, দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাতের তিন দিনের সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব। বেলা সোয়া ১২টা থেকে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ভারতের মাওলানা ইউসুফ বিন সা’দ কান্ধলভী। আধা ঘণ্টার এই মোনাজাত টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এদিন ফজরের পর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুরসালিন, এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার শেষ দিনের কার্যক্রম। তার বয়ান তর্জমা করে শোনান বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফুল।
বয়ানের পর নাস্তার বিরতি দিয়ে ৯টা থেকে মাওলানা মোশাররফ তালিমের বয়ান করেন। সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয় হেদায়েতি বয়ান। হেদায়তি বয়ানের পর হয় আখেরি মোনাজাত। প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয় কয়েক লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে তাবলিগ জামাতের বিদেশি অনুসারী থাকেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার। তাবলিগ জামাতের নিয়মিত অনুসারী নন, এমন অনেকও বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শামিল থাকতে চান।
গত শুক্রবার আম বয়ানের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এই পর্বে অংশ নেন দিল্লির মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীরা। এর বাইরে শুধু আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসতে থাকে শনিবার থেকেই। বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রোবাস, ট্রেন, লঞ্চে করে এসে টঙ্গীতে পৌঁছে অবস্থান নিতে শুরু করেন।
রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার লোকজন শীত আর কুয়াশা উপেক্ষা করে রাতেই টঙ্গীমুখো হন। মধ্যরাত থেকে টঙ্গীমুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় ১৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেও ইজতেমা মাঠে পৌঁছেছেন অনেকে। ইজতেমার মাঠে যাদের জায়গা হয়নি, আশপাশের বাসাবাড়ি, ভবন, ভবনের ছাদ কিংবা করিডোর, সড়কের পাশে ফুটপাতে এমনকি গাছতলায় এস তারা মোনাজাতে হাত তুলেছেন।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সায়েম বলেন, রোববার সকাল পর্যন্ত আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স ৬২টি বিভিন্ন দেশ থেকে ৭ হাজার ৯২১জন বিদেশি মেহমান বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। মূল ইজতেমা ময়দানে নারীদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। সে কারণে ময়দানের বাইরে খালি জায়গায়, কলকারখানা ও বসত বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন বহু নারী। এবার কাকরাইলের মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা ১৩-১৫ জানুয়ারি প্রথম পর্বে ইজতেমায় অংশ নেন। মাওলানা সা’দ এর অনুসারীদের অংশগ্রহণে রোববার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাতের এই বিশ্ব সম্মেলন। আগে এক মঞ্চ থেকেই একবারই বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন হতো। কিন্তু মাওলানা জোবায়ের এবং মাওলানা সা’দ পক্ষের অনুসারীরা এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ বিশ্ব ইজতেমা দুইবারে করার সিদ্ধান্ত নেয়।