প্রযুক্তি ডেস্ক: ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কনটেন্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স। এক্সের এআই চ্যাটবট গ্রোক নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, গ্রোকের মাধ্যমে ‘অশ্লীল’ ও বেআইনি কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। এমন কনটেন্ট দ্রুত বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিতে হবে তাৎক্ষণিক কারিগরি ও নীতিগত ব্যবস্থা।
গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্দেশ জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, নগ্নতা, যৌন উত্তেজক, যৌন নির্যাতনমূলক বা আইনের পরিপন্থী কনটেন্ট তৈরি বা ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। এ জন্য গ্রোকের প্রযুক্তিগত কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে। ভারত সরকার এক্সকে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। একে বলা হয়েছে ‘অ্যাকশন-টেকেন রিপোর্ট’।
নির্দেশনায় স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এক্সের ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা বাতিল হতে পারে। এই সুরক্ষা থাকলে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের কনটেন্টের দায় থেকে অব্যাহতি পায়। সুরক্ষা হারালে আইনি ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। গ্রোক নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ব্যবহারকারী অভিযোগ তুলেছেন। তারা দাবি করেন, গ্রোক দিয়ে নারীদের ছবি এআইয়ের মাধ্যমে বিকৃত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ছবিতে কৃত্রিমভাবে বিকিনি বা যৌন আবেদন যুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগ সংসদেও গড়ায়। ভারতের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন। এর পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে সরকার। এর আগে আরো গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রোক দিয়ে নাবালকদের যৌনভাবে উপস্থাপন করা ছবি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এক্স পরে স্বীকার করে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল। কিছু ছবি সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানায় তারা। তবে সব কনটেন্ট এখনো সরানো হয়নি বলে দাবি করেছে একাধিক পর্যবেক্ষক। টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক এআই-পরিবর্তিত ছবি এখনও এক্সে দেখা যাচ্ছে।
সানা/আপ্র/০৩/০১/২০২৬
























