ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

অন্য দলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানও খাটো করে দেখা হয়নি: সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২
  • ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য যাদের দল-মতে ভিন্নতা রয়েছে, তাদের অবদানও কখনও ছোট করে দেখেনি আওয়ামী লীগ সরকার। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান। এ অনুষ্ঠানে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেওয়া। পাশাপাশি ২০২১-২২ সালের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্ত সদস্যদেরকে হাতে তুলে দেওয়া হয় পদক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গব্ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া যোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের কল্যাণে সব ধরনের ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সরকার নিচ্ছে। “আমার এটাই চেষ্টা, যারা আমার বাবার ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র তুলে নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের সম্মান করা, তাদের মর্যাদা দেওয়া, এটাই তো আমাদের কাজ। দল মত পৃথক থাকতে পারে, কিন্তু তাদের অবদানটা কখনো ছোট করে দেখিনি আমি। কখনো এটা নিয়ে অবহেলা করিনি।” একটানা তিনবার ক্ষমতায় থাকতে পারায় দেশের মানুষের জন্য ‘কিছু কাজ করার সুযোগ পাওয়া গেছে’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা যারা একেবারে অবহেলিত পড়ে ছিল, আজকে আমরা খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের (কল্যাণে) সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা, কোনো মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করলে সে যেন রাষ্ট্রীয় সম্মান পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। এমনকি তাদের দাফন কাফনের ব্যবস্থাটাও যাতে হয়, সেই ব্যবস্থাটাও আমরা করে দিয়েছি।”
মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনাদের যে অবদান, মুক্তিযোদ্ধাদের যে অবদান সেটা কখনো আমরা ভুলি নাৃ। ভিত্তিটা তৈরি করে সামনের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধাদের যে দুর্দশায় পড়তে হয়েছিল, সে কথা প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় তুলে ধরে। “কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেছে এই কথাটা বলবার মত কারো মনোবল তখন ছিল না। আর বললে পরে, হ্যাৃঁ ক্ষমতাসীন অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের সাথে যারা হাত মিলিয়েছিল, তারা ভালো ছিল। সকলে তো এভাবে থাকতে পারে না।ৃ কাজেই তাদের (মুক্তিযোদ্ধা) জীবন দুর্বিষহ হয়ে গিয়েছিল।”
জাতির পিতাকে হত্যার পর যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বিকৃত করা হয়েছিল, সে কথা অনুষ্ঠানে মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়, জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মনে হল যেন আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে নাই। এটাকে যেন পাকিস্তানের আরেকটা প্রদেশে রূপান্তর করার অপচেষ্টা।”
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন। “প্রত্যেকটা উপজেলায় আমরা জায়গা দিয়েছি, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলো যেন থাকে এবং ওই অঞ্চলে যে যুদ্ধ হয়েছে তার ইতিহাসটা যেন আমাদের ছেলেমেয়েরা জানতে পারে, কারণ আমাদের বিজয়ের ইতিহাস জানলে আমাদের ছেলেমেয়েদের ভেতরেও সেই ধরনের একটা উদ্দীপনা আসবে।”
গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ ‘বদলে’ গেছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে পেরেছি, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন যখন করেছি, তখনই আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, উন্নত দেশে উন্নীত করতে হবে।” রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে ‘বিপদের’ কথাও অনুষ্ঠানে বলেন শেখ হাসিনা। “রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সাথে সাথে আমেরিকা ইউরোপের স্যাংশান, যেটা আমাদেরকে অনেক বিপদে ফেলে দিয়েছে। আমাদানিকৃত পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে।
“তারপরও আমরা থেমে নেই। দেশের মানুষের যেন কোনো কষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবাইকে আহ্বান করেছি এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। আমরা যেন আমাদের অর্থনীতির মন্দাটা কাটিয়ে চলতে পারি।”
উৎসাহ-উদ্দীপনায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত : যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়। কর্মসূচির শুরুতে দেশের সব সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোতে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। গতকাল সোমবার (২১ নভেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে পৃথক পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ের স্বাক্ষর করেন। এর আগে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছালে তিন বাহিনী প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার তাদের স্বাগত জানান।
মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনী সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে গমন করেন। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং মহাপরিচালক। সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্ধারিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেন। তিনি তাদের হাতে সম্মানী চেক এবং উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এছাড়াও চারজন সেনা, দুজন নৌ এবং দুজন বিমানবাহিনী সদস্যদের ২০২১-২২ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের কাছে আত্মীয়সহ প্রায় ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী জনাব আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্তকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে চা-চক্রে অংশগ্রহণ করেন। এরপর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সদস্য এবং তাদের পরিবারবর্গের সম্মানার্থে পৃথক সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

অন্য দলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানও খাটো করে দেখা হয়নি: সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য যাদের দল-মতে ভিন্নতা রয়েছে, তাদের অবদানও কখনও ছোট করে দেখেনি আওয়ামী লীগ সরকার। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান। এ অনুষ্ঠানে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেওয়া। পাশাপাশি ২০২১-২২ সালের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্ত সদস্যদেরকে হাতে তুলে দেওয়া হয় পদক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গব্ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া যোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের কল্যাণে সব ধরনের ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সরকার নিচ্ছে। “আমার এটাই চেষ্টা, যারা আমার বাবার ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র তুলে নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের সম্মান করা, তাদের মর্যাদা দেওয়া, এটাই তো আমাদের কাজ। দল মত পৃথক থাকতে পারে, কিন্তু তাদের অবদানটা কখনো ছোট করে দেখিনি আমি। কখনো এটা নিয়ে অবহেলা করিনি।” একটানা তিনবার ক্ষমতায় থাকতে পারায় দেশের মানুষের জন্য ‘কিছু কাজ করার সুযোগ পাওয়া গেছে’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা যারা একেবারে অবহেলিত পড়ে ছিল, আজকে আমরা খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের (কল্যাণে) সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা, কোনো মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করলে সে যেন রাষ্ট্রীয় সম্মান পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। এমনকি তাদের দাফন কাফনের ব্যবস্থাটাও যাতে হয়, সেই ব্যবস্থাটাও আমরা করে দিয়েছি।”
মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনাদের যে অবদান, মুক্তিযোদ্ধাদের যে অবদান সেটা কখনো আমরা ভুলি নাৃ। ভিত্তিটা তৈরি করে সামনের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধাদের যে দুর্দশায় পড়তে হয়েছিল, সে কথা প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় তুলে ধরে। “কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেছে এই কথাটা বলবার মত কারো মনোবল তখন ছিল না। আর বললে পরে, হ্যাৃঁ ক্ষমতাসীন অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের সাথে যারা হাত মিলিয়েছিল, তারা ভালো ছিল। সকলে তো এভাবে থাকতে পারে না।ৃ কাজেই তাদের (মুক্তিযোদ্ধা) জীবন দুর্বিষহ হয়ে গিয়েছিল।”
জাতির পিতাকে হত্যার পর যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বিকৃত করা হয়েছিল, সে কথা অনুষ্ঠানে মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়, জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মনে হল যেন আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে নাই। এটাকে যেন পাকিস্তানের আরেকটা প্রদেশে রূপান্তর করার অপচেষ্টা।”
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন। “প্রত্যেকটা উপজেলায় আমরা জায়গা দিয়েছি, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলো যেন থাকে এবং ওই অঞ্চলে যে যুদ্ধ হয়েছে তার ইতিহাসটা যেন আমাদের ছেলেমেয়েরা জানতে পারে, কারণ আমাদের বিজয়ের ইতিহাস জানলে আমাদের ছেলেমেয়েদের ভেতরেও সেই ধরনের একটা উদ্দীপনা আসবে।”
গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ ‘বদলে’ গেছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে পেরেছি, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন যখন করেছি, তখনই আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, উন্নত দেশে উন্নীত করতে হবে।” রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে ‘বিপদের’ কথাও অনুষ্ঠানে বলেন শেখ হাসিনা। “রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সাথে সাথে আমেরিকা ইউরোপের স্যাংশান, যেটা আমাদেরকে অনেক বিপদে ফেলে দিয়েছে। আমাদানিকৃত পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে।
“তারপরও আমরা থেমে নেই। দেশের মানুষের যেন কোনো কষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবাইকে আহ্বান করেছি এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। আমরা যেন আমাদের অর্থনীতির মন্দাটা কাটিয়ে চলতে পারি।”
উৎসাহ-উদ্দীপনায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত : যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়। কর্মসূচির শুরুতে দেশের সব সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোতে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। গতকাল সোমবার (২১ নভেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে পৃথক পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ের স্বাক্ষর করেন। এর আগে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছালে তিন বাহিনী প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার তাদের স্বাগত জানান।
মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনী সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে গমন করেন। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং মহাপরিচালক। সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্ধারিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেন। তিনি তাদের হাতে সম্মানী চেক এবং উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এছাড়াও চারজন সেনা, দুজন নৌ এবং দুজন বিমানবাহিনী সদস্যদের ২০২১-২২ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের কাছে আত্মীয়সহ প্রায় ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী জনাব আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্তকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে চা-চক্রে অংশগ্রহণ করেন। এরপর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সদস্য এবং তাদের পরিবারবর্গের সম্মানার্থে পৃথক সংবর্ধনার আয়োজন করেন।