The Daily Ajker Prottasha

সময় গণনা থেকে বাদ হচ্ছে লিপ সেকেন্ড

0 0
Read Time:7 Minute, 29 Second

প্রযুক্তি ডেস্ক : গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রতি চার বছর পরপর একদিন যোগ হয়। ২৯ ফেব্রুয়ারির ওই বছরগুলো পরিচিত লিপ ইয়ার হিসেবে। এমন যোগ করার ঘটনা যে কেবল দিনের হিসাবে হয়, তা নয়। সময়ের হিসাব ঠিক রাখতে সামঞ্জস্য আনতে হয় সেকেন্ডের বেলাতেও। তবে, সময়ের হিসাব রাখা বৈশ্বিক সংস্থা বলছে, ২০৩৫ সালের পর থেকে আর থাকবে না এই লিপ সেকেন্ড যোগের বিষয়টি। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ২০৩৫ সাল নাগাদ লিপ সেকেন্ড তুলে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও সরকারি প্রতিনিধিরা। বৈশ্বিক সময়ের হিসাব রাখার দায়িত্বে থাকা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল বুরো অব ওয়েইটস অ্যান্ড মেজার্স (বিআইপিএম)’ সম্প্রতি জানিয়েছে এ বিষয়ে।
অধিবর্ষের (লিপ ইয়ার) মতোই, গত অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে সঠিক পারমাণবিক সময় ও অক্ষের ওপর পৃথিবীর ঘূর্ণন সময়ের তারতম্যের ঘাটতি পূরণে ঘড়িতে পর্যায়ক্রমে লিপ সেকেন্ড যুক্ত হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, লিপ সেকেন্ড বেশিরভাগ লোকজনের অগোচরে থাকলেও এগুলো বিভিন্ন সিস্টেমে সমস্যা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে সঠিক ও নিরবচ্ছিন্ন সময়ের প্রবাহ জরুরী। এর মধ্যে রয়েছে, স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন, সফটওয়্যার, টেলিযোগাযোগ, বাণিজ্য এমনকি মহাকাশ ভ্রমণও। বিষয়টি মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল বুরো অফ ওয়েইটস অ্যান্ড মেজার্স (বিআইপিএম)’-এর জন্য। সংস্থাটি সমন্বিত বৈশ্বিক সময় পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। ২৭ তম ‘জেনারেল কনফারেন্স অন ওয়েটস অ্যান্ড মেজার্সে’ ২০৩৫ সাল নাগাদ লিপ সেকেন্ড সংযোজন বন্ধের একটি পরিকল্পনা পাশ করেছেন সংস্থাটির সদস্যরা। প্রতি চার বছরে একবার এর সভা বসে প্যারিসের পশ্চিমে অবস্থিত ভার্সাই প্যালেসে। বিআইপিএম-এর সময় বিভাগের প্রধান ড. পাত্রিজিয়া তাভেল্লা একে একটি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘বর্তমানে অনিয়মিত লিপ সেকেন্ডের কারণে সৃষ্ট বিরতি মুছে ফেলবে এটি, এর বদলে সেকেন্ডের একটি অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ’ তৈরির সুযোগ মিলবে এবার। “এই পরিবর্তন কার্যকর হবে ২০৩৫ সালের মধ্যে বা তার আগেই।” –বলেন তিনি।
“ইউটিসি ও পৃথিবীর ঘুর্ণণের সংযোগ হারিয়ে যায়নি। ইউটিসি পৃথিবীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবেই আছে।” তিনি আরও যোগ করেন, আর সাধারণ জনগণের জন্য ‘কিছুই বদলাবে না’।
অতীতে পৃথিবীর ঘূর্ণন বিশ্লেষণ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে সেকেন্ড পরিমাপ করেছেন। তবে, পারমাণবিক ঘড়ির আবির্ভাব সময়ের হিসাব রাখার তুলনামূলক সুনির্দিষ্ট একটি যুগের সূচনা করে। এতে পরমাণুর কম্পাংক ব্যবহার সময় মাপা সম্ভব হয়। সমস্যা হলো, পৃথিবীর ঘুর্ণনের বিষয়টি অনিশ্চিত। ফলে যখন এর গতি কমে যায়, তখন সময় গণনায় দুই ধরনের পদ্ধতিতে সামঞ্জস্যের ঘাটতি দেখা দেয়। এই ঘাটতি পূরণে, ১৯৭২ সালে লিপ সেকেন্ড চালু হয়েছিল। এর পর থেকে ২৭টি অনিয়মিত বিরতিতে এটি যোগ হয়েছে, যা সর্বশেষ ঘটেছে ২০১৬ সালে। “নতুন এই প্রস্তাবনার অধীনে, আপাতত স্বাভাবিক নিয়মেই লিপ সেকেন্ড যুক্ত হতে থাকবে। তবে, ২০৩৫ সাল থেকে পারমাণবিক ও জ্যোতির্বিদ্যার সময়ের মধ্যে পার্থক্য এক সেকেন্ডের চেয়েও বড় মানে বৃদ্ধি পাবে।” –বলেছেন ‘ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি’র পদার্থবিদ জুডাহ লিভাইন। “এই বড় মান এখনও নির্ধারিত হয়নি”-বলেন তিনি। এই খসড়া পরিকল্পনা তৈরিতে বেশ কয়েকবছর তাভেল্লার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুসারে, ওই মান ও কীভাবে এটি পরিচালিত হবে, সেইসব বিষয় নির্ধারণের জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি প্রস্তাবনা খুঁজে পেতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিকল্পনার পক্ষে কোন কোন দেশ ভোট দিয়েছে, তা এখনও জানা সম্ভব না হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
লিভাইন বলেছেন, ইউটিসি সময় রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি ‘একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টার’ মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করে। ৫৯টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের পরামর্শও যোগ হয় এতে। অন্যদিকে “জিপিএস সময়, পারমাণবিক ঘড়ির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, যেটি ‘বৈশ্বিক তদারকি ছাড়াই’ মার্কিন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।” ইউটিসি’র প্রতিদ্বন্দ্বী এই সময় নির্ধারণ পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছেন লিভাইন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর সম্ভাব্য একটি সমাধান হতে পারে, পৃথিবীর ঘূর্ণন ও পারমাণবিক সময়ের পার্থক্য এক মিনিট পর্যন্ত বাড়তে দেওয়া। তবে, ঠিক কতোদিনে এর প্রয়োজন পড়তে পারে, ওই বিষয়টি বলা কঠিন। তবে, লিভাইনের অনুমান বলছে, ৫০ থেকে একশ বছরের মধ্যে। ঘড়িতে অতিরিক্ত লিপ মিনিট সংযোজনের বদলে নতুন এক ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন লিভাইন। এর ফলে, দিনের শেষ মিনিট শেষ হতে সময় নেবে দুই মিনিট। “ঘড়ির কাঁটা ধীর হয়ে গেলেও, এটি কখনও থেমে যায় না।” – বলেন তিনি।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *