The Daily Ajker Prottasha

রোহিঙ্গাদের ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু’ বলল জাতিসংঘ, প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি

0 0
Read Time:4 Minute, 33 Second

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু’ সম্প্রদায় বলে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকা-ের পর বিষয়টিতে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছিল ইউএনএইচসিআর। সেখানে রোহিঙ্গা নিরাপত্তায় বাংলাদেশের পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে রোহিঙ্গা নেতার হত্যাকা-ের আগে ও পরে বাংলাদেশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং কী ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছে তা জানানো হয়েছে। ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর জাতিসংঘ থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ দূতকে বাংলাদেশ পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। আর সাময়িকভাবে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয়।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ দূতকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সঠিকভাবে উল্লেখ করতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।’ চিঠিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে এক হাজার ৬১৬ জন পুলিশ সদস্য এবং ৪২৭ জন আনসার সদস্যকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের রাজনৈতিক অনিচ্ছা ও প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে ঢাকা। এছাড়া ক্যাম্প এলাকা ঘিরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৯ আগস্ট শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে লিখিতভাবে হত্যার হুমকির কথা জানিয়েছিলেন মুহিবুল্লাহ। একই সঙ্গে নিজ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন করেছিলেন নিহত এই রোহিঙ্গা নেতা। গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নিতে থাকে। এর আগেও বিভিন্ন সময় দলে দলে রোহিঙ্গারা এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। এতে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক এখন কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে। বারবার চেষ্টা করেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারায় কক্সবাজারের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করে সরকার। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *