The Daily Ajker Prottasha

মাউশির নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা

0 0
Read Time:6 Minute, 9 Second

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাউশির অধীন বিভিন্ন অফিসে ২৮টি পদে চার হাজারের বেশি কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। ছয় ধাপের মধ্যে চার ধাপের পরীক্ষা এরই মধ্যে শেষ। বিপত্তি দেখা দেয় পঞ্চম ধাপে গিয়ে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে এ ধাপের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়। তারপর থেকে প্রায় দেড় মাস কার্যক্রম স্থগিত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশ্নফাঁস নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে মাউশি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার শিক্ষা অফিস এবং সরকারি স্কুল-কলেজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ২৮টি পদের বিপরীতে চার হাজার ৩২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি। এর মধ্যে ক্যাশিয়ার, স্টোরকিপার, অফিস সহকারী, সাঁটলিপি ও মুদ্রাক্ষরিকসহ বিভিন্ন পদে আলাদাভাবে ছয় ধাপে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা। ২০২০ সালের মাঝামাঝি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা হয়। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা হয় ২০ মার্চ, চতুর্থ ধাপেরটা ২৭ আগস্ট। ১৩ মে পঞ্চম ধাপের পরীক্ষা বাতিল হয়। ষষ্ঠ ধাপের পরীক্ষা ৩ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হয়নি।
নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাউশির পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠন করা পাঁচ সদস্যের কমিটি। জানা যায়, গত ১৩ মে ৫১৩ জন অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক নিয়োগ পরীক্ষায় ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ ও মোহাম্মদপুর সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বাইরে থেকে একাধিক প্রার্থীকে উত্তরপত্র পাঠানোর প্রমাণ মেলে। এর সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের গোয়েন্দা সংস্থা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জড়িত সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে মাউশির দুই কর্মচারী। অন্যজন ৩৪তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও পটুয়াখালী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম। তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সে কারণে এ ধাপের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এতে নিয়োগ কার্যক্রম হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত।
নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মাউশির উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) অধ্যাপক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে কারণে বাকি দুই ধাপের লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত চারটি ধাপে লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। সেগুলোর উত্তরপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সহায়তায় মূল্যায়ন কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করে মৌখিক পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত দুই কর্মচারী আটক হওয়ার পর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে মাউশি। এ সিন্ডিকেটের একজন কর্মকর্তাও গ্রেফতার রয়েছেন। বর্তমানে মাউশিসহ শিক্ষা প্রশাসনের অনেকে গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী মাসে এ প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু এটি বড় নিয়োগ কার্যক্রম, এখানে ৯ লাখের মতো প্রার্থী রয়েছে। সে কারণে দ্রুত শেষ করতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তা না হলে ভাইবা বোর্ডের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। যেসব লিখিত পরীক্ষা এরই মধ্যে হয়েছে বর্তমানে সেগুলোর ফলাফল প্রকাশ করে ভাইবা পরীক্ষা শুরু করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published.