The Daily Ajker Prottasha

মণপ্রতি ৩০০ টাকা বৃদ্ধি, আমন চাষির মুখে হাসি

0 0
Read Time:6 Minute, 24 Second

পঞ্চগড় সংবাদদাতা : প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার চাষিরা সম্পূরক সেচ ও বাড়তি শ্রমের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন পেয়েছে। চলতি মৌসুমে ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের এই দুই জেলার চাষিরা বেশ খুশি। বৃষ্টি-নির্ভর আমন চাষের রোপণ ও বেড়ে ওঠার সময় অল্প বৃষ্টিপাতের কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনে আশঙ্কা ও সেচের বাড়তি খরচের কারণে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এ এলাকার কৃষকরা। কিন্তু ধান কাটার এই সময়ে শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ ফলন ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিগত বছরের তুলনায় বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় এখন আমন চাষিদের মুখে হাসি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন। জেলায় আমন চাষ হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে।
জেলায় এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৭৮৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে।
পঞ্চগড়ে ১ লাখ ৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। সেখানে ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমি আবাদ করে ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৩ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজার ১৭ হেক্টর জমির ধান কেটে উৎপাদন করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭ মেট্রিক টন চাল।
হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক ১ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গড় উৎপাদন পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৪ টন।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে আমন চাষ করতে সাধারণত ৬ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বাড়তি সেচের কারণে চাষিদের উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে।’ এমন পরিস্থিতির পরও চারা রোপণ ও ফসল বৃদ্ধির সময় বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের গভীর নলকূপ চালু, সরকারি সহায়তা ও কৃষকদের অতিরিক্ত প্রচেষ্টার কারণে ভালো ফলন ফলানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রিয়াজ আহমেদ জানান, এই জেলার কৃষকরা বারি ধান-৫১, বারি ধান-৭৫, বারি ধান-৮৭, বারি ধান-৯৩ ও ভারতীয় উচ্চ ফলনশীল জাতের গুটি স্বর্ণা ধান চাষ করেন যা থেকে প্রতি একরে সাধারণত ৫০-৬০ মণ ফলন পাওয়া যায়।
ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ক্ষেতে সেচের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত পাম্পসহ ১০ হাজার ৮০ অগভীর নলকূপ ও বিএমডিএ-এর ৯১০ গভীর নলকূপ আছে।
পঞ্চগড়ে ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত প্রায় ৫ হাজার ৫০০ অগভীর পাম্প ও বিএমডিএর ২২৫ গভীর নলকূপ আমন মৌসুমে খরার কারণে চালু ছিল বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিস ও বিএমডিএ’র কর্মকর্তারা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বৈকন্ঠপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন (৪৮) জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেন। তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে আমন চাষে সাধারণত ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এই মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়ায় বিঘাপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।’
আমজাদ জানান, ৩ বিঘা জমি চাষে তার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা এবং ধান পেয়েছেন ৫১ মণ। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় ৬৪ হাজার টাকা পেয়েছেন। এতে তার লাভ হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার টাকা।
এখন গম ও আলু চাষের জন্য খেত প্রস্তুত করছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমনের ভালো দাম পাওয়ায় গম ও আলু চাষে বেগ পেতে হবে না।’
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম (৬০) বলেন, ‘৭ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। ১২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছি। ভালো ফলন ও বাজারমূল্যের কারণে অতিরিক্ত সেচের জন্য অর্থ খরচের পরও যা ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হবে।’
সাকোয়া বাজারের চাল ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘জাত ও মান ভেদে বর্তমানে প্রতি মণ ধান স্থানীয় বাজারে ১ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর ফসল কাটার মৌসুমে তা ছিল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা।’

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *