ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিশ্ব শান্তি সূচক ২০২৪ ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

বিদেশের খবর ডেস্ক : অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে থাকলেও শান্তিতে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে পেছনে ফেলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রভাবশালী দেশ ভারত, পাকিস্তানের চেয়েও অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ব শান্তি সূচক ২০২৪-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই)-২০২৪ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস। ১৬৩টি দেশের ওপর চালানো সমীক্ষায় তিনটি মাপকাঠির ভিত্তিতে শান্তি সূচকটি তৈরি করা হয়- নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা; অর্থনৈতিক মূল্য, ট্রেন্ড এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে দেশগুলোর নেওয়া পদক্ষেপ। যে দেশের স্কোর পয়েন্ট যত কম সে দেশে শান্তি তত বেশি।
সূচকে দেখা যায়- ২০০৮ সাল থেকে শান্তিপূর্ণ দেশের শীর্ষে থাকা আইসল্যান্ড এবারও প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। এরপরেই প্রথম ১০টি যথাক্রমে রয়েছে- আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, স্লোভেনিয়া, মালয়েশিয়া এবং কানাডা।
এদিকে বাংলাদেশ ২ দশমিক ১২৬ স্কোর নিয়ে ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯৩তম অবস্থানে রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটান সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্ব শান্তি সূচকে দেশটি ২০১১ সাল থেকে এই অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সূচকে দেশটির অবস্থান ২১তম। বৈশ্বিক সূচকে নেপাল ৮১তম আর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ১১০তম স্থানে আর দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ এবং ভারত ১১৬তম আর দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে। আর পাকিস্তানের অবস্থান ১৪০তম। অপরদিকে সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের হিসেবে আফগানিস্তানে জায়গা দখল করেছে ইয়েমেন (১৬৩)। ইয়েমেনের ঠিক ওপরেই রয়েছে- সুদান (১৬২), দক্ষিণ সুদান (১৬১), আফগানিস্তান (১৬০) এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন (১৫৯)। জিপিআই প্রতিবেদনে ইউরোপকে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ অঞ্চল বলা হয়েছে। এরপরই রয়েছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিশ্বের দশটি সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের চারটিই এই অঞ্চলে। তা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে শান্তিতে সবচেয়ে বড় উন্নতি রেকর্ড করেছে ২০২৪ সালে ৫৩তম স্থানে রয়েছে দেশটি। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দুদেশেই সহিংস অপরাধ ও সহিংসতার ভীতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। তবে সূচকে ১ দশমিক ৪৪৯ পয়েন্ট নিয়ে কানাডা যেখানে মাত্র ১১তম সেখানে ২ দশমিক ৬২২ পয়েন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৩২তম। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের সূচনা হওয়ার পর থেকে যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি ৯৭টি দেশের শান্তির অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে ৫৬টি সংঘাত হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ৯২টি দেশ তাদের সীমানার বাইরে সংঘাতে জড়িত। গত বছর যুদ্ধ-সংঘাতে ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৩০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইউক্রেন এবং গাজার সংঘাতে।

 

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

আমানতের অর্থ লুটে খাচ্ছে ব্যাংক : পিআরআই

বিশ্ব শান্তি সূচক ২০২৪ ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০১:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

বিদেশের খবর ডেস্ক : অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে থাকলেও শান্তিতে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে পেছনে ফেলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রভাবশালী দেশ ভারত, পাকিস্তানের চেয়েও অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ব শান্তি সূচক ২০২৪-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই)-২০২৪ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস। ১৬৩টি দেশের ওপর চালানো সমীক্ষায় তিনটি মাপকাঠির ভিত্তিতে শান্তি সূচকটি তৈরি করা হয়- নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা; অর্থনৈতিক মূল্য, ট্রেন্ড এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে দেশগুলোর নেওয়া পদক্ষেপ। যে দেশের স্কোর পয়েন্ট যত কম সে দেশে শান্তি তত বেশি।
সূচকে দেখা যায়- ২০০৮ সাল থেকে শান্তিপূর্ণ দেশের শীর্ষে থাকা আইসল্যান্ড এবারও প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। এরপরেই প্রথম ১০টি যথাক্রমে রয়েছে- আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, স্লোভেনিয়া, মালয়েশিয়া এবং কানাডা।
এদিকে বাংলাদেশ ২ দশমিক ১২৬ স্কোর নিয়ে ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯৩তম অবস্থানে রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটান সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্ব শান্তি সূচকে দেশটি ২০১১ সাল থেকে এই অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সূচকে দেশটির অবস্থান ২১তম। বৈশ্বিক সূচকে নেপাল ৮১তম আর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ১১০তম স্থানে আর দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ এবং ভারত ১১৬তম আর দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে। আর পাকিস্তানের অবস্থান ১৪০তম। অপরদিকে সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের হিসেবে আফগানিস্তানে জায়গা দখল করেছে ইয়েমেন (১৬৩)। ইয়েমেনের ঠিক ওপরেই রয়েছে- সুদান (১৬২), দক্ষিণ সুদান (১৬১), আফগানিস্তান (১৬০) এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন (১৫৯)। জিপিআই প্রতিবেদনে ইউরোপকে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ অঞ্চল বলা হয়েছে। এরপরই রয়েছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিশ্বের দশটি সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের চারটিই এই অঞ্চলে। তা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে শান্তিতে সবচেয়ে বড় উন্নতি রেকর্ড করেছে ২০২৪ সালে ৫৩তম স্থানে রয়েছে দেশটি। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দুদেশেই সহিংস অপরাধ ও সহিংসতার ভীতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। তবে সূচকে ১ দশমিক ৪৪৯ পয়েন্ট নিয়ে কানাডা যেখানে মাত্র ১১তম সেখানে ২ দশমিক ৬২২ পয়েন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৩২তম। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের সূচনা হওয়ার পর থেকে যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি ৯৭টি দেশের শান্তির অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে ৫৬টি সংঘাত হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ৯২টি দেশ তাদের সীমানার বাইরে সংঘাতে জড়িত। গত বছর যুদ্ধ-সংঘাতে ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৩০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইউক্রেন এবং গাজার সংঘাতে।