The Daily Ajker Prottasha

বিজাতীয় ও অপসংস্কৃতি বর্জনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

0 0
Read Time:6 Minute, 18 Second

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশি সংস্কৃতি আকর্ষণীয় হলেই তা লুফে নেয়ার মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, আকাশ সংস্কৃতির জন্য প্রতিনিয়ত ভীনদেশি সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। তাই বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যতটুকু সামঞ্জস্য ততটুকুই গ্রহণ করতে হবে। বিজাতীয় ও অপসংস্কৃতির সবকিছু বর্জন করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শিল্পকলা পদক-২০১৯ ও ২০ নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রধান অস্ত্রের ভূমিকা রাখতে পারে সংস্কৃতি। সামাজিক অবক্ষয় রোধে সংস্কৃতি হচ্ছে রক্ষাকবচ। সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে সংস্কৃতির বিকাশ খুবই জরুরি। গ্রাম থেকে শহর, নি¤œবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত প্রতিটি স্তরে সংস্কৃতির চর্চা যত বেশি হবে, সমাজও ততবেশি আলোকিত হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে.এম খালিদের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আলোচনা ও পদক প্রদান শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন অতিথিরা।
আবদুল হামিদ বলেন, ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে আর যুব সম্প্রদায় ফেইসবুক, ইউটিউব, টিকটক, গেমসসহ বিভিন্ন অ্যাপস-এর পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত। তাদের কাছে মোবাইল আর ল্যাপটপই বিনোদন আর খেলাধুলার প্রধান সামগ্রী হয়ে ওঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ইতিহাস- ঐতিহ্যকেই একদিন ভুলে যাবে।
‘তাই তাদেরকে সুস্থ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। সংস্কৃতির চর্চা তৃণমূল বিশেষ করে পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে’ বলেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশে তৃণমূল পর্যায়েই উদ্যোগ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন আব্দুল হামিদ। বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনের দর্পণ। দেশের যুবসমাজকে আধুনিক, দক্ষ ও সংস্কৃতিমনস্ক জনশক্তিতে পরিণত করতে হলে তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করতে জোর দেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন উপকরন আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম এখন ৬৪ জেলা থেকে ৪৯২টি উপজেলায় সম্প্রসারিত হয়েছে।
‘শিল্পী ও শিল্পের বিকাশ সাধনে জেলা থেকে উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমির অবকাঠামো নির্মাণসহ, লোকশিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক পরিম-লে শিল্প সংস্কৃতির প্রচার-প্রসার এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিল্পযজ্ঞ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখছে।’
শিল্পকলা পদক-২০২০ পাচ্ছেন যারা
নাট্যকলা বিভাগে মাসুদ আলী খান, কণ্ঠ সংগীত বিভাগে হাসিনা মমতাজ, চারুকলা বিভাগে আবদুল মান্নান, চলচ্চিত্র বিভাগে অনুপম হায়াৎ, নৃত্যকলা বিভাগে লুবনা মারিয়াম, লোকসংস্কৃতি বিভাগে শুম্ভু আচার্য্য, যন্ত্রসংগীত বিভাগে মনিরুজ্জামান, ফটোগ্রাফি এম এ তাহের, আবৃত্তি বিভাগে হাসান আরিফ ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসাবে ছায়ানট।
শিল্পকলা পদক- ২০১৯ পাচ্ছেন যারা- নাট্যকলা বিভাগে মলয় ভৌমিক, কণ্ঠ সংগীত বিভাগে মাহমুদুর রহমান বেণু, চারুকলা বিভাগে শহিদ কবীর, চলচ্চিত্র বিভাগে শামীম আখতার, নৃত্যকলা বিভাগে শিবলী মোহাম্মদ, লোকসংস্কৃতি বিভাগে শাহ আলম সরকার, যন্ত্রসংগীত বিভাগে মো. সামসুর রহমান, ফটোগ্রাফি আ ন ম শফিকুল ইসলাম স্বপন, আবৃত্তি বিভাগে ডালিয়া আহমেদ ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসাবে দিনাজপুর নাট্য সমিতি।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published.