ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফ্রেম

  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে

ফারজানা কাশেমী : পৃথিবী একটা ফ্রেমে আবদ্ধ। এই ফ্রেমের মাঝে হাজারো চিত্রপট। কত-শত রঙে বিন্যস্ত হয় পৃথিবীর ফ্রেম। একই ফ্রেমে বসবাসরত দু’জন মানুষের জীবনধারা ভিন্নতর। একটা মেয়ে যখন বাবা হারানোর দুঃখে কাঁদে, একই পৃথিবীর ফ্রেমে বসবাসরত কোন এক বাবা কন্যা সন্তানের আগমনে রাজ্য জয় সম আনন্দিত হয়। একই পৃথিবীতে একটা বাবা যখন তার মেয়ের জন্য পুতুল কিনে, ঠিক একই ফ্রেমে বসবাসরত কোন একটি মেয়ে তার বাবার জীবন প্রদীপ বাঁচানোর জন্য স্রষ্টার তরে হাজারো মিনতি করে। রঙিন প্রচ্ছদের এই পৃথিবীতে একটা মেয়ে যখন প্রতিদিন বাবার সাথে খুনসুটির স্মৃতি রোমন্থন করে, তখন সেই পৃথিবীর কোন একপ্রান্তে কোন এক বাবা তার আদরের কন্যার মান ভাঙায় বাহারি বেলুনে।
বর্ণিল আলোকসজ্জার এই পৃথিবীতে কোন এক কন্যা যখন তার বাবার সাথে হাসিতে মুখরিত হয়, ঠিক একই পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে অন্য কোন এক মেয়ে তার বাবার মৃত্যুর মতো কঠিন প্রহর শূন্যতায় নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মেয়ের জীবনের নিরাপত্তার জন্য বাবা তার মেয়েকে কখনো ভিন্ন যানবাহনে উঠতে দেয় না; অথচ বাবার শেষযাত্রার অ্যাম্বুলেন্সে মেয়ে থাকতে পারে না। পৃথিবীর একপ্রান্তে কোন একজন পুরুষ যখন মেয়ে সন্তানের বাবা হয়, একই পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে একটা মেয়ে বাবা হারিয়ে এতিম হয়। কোন একজন বাবা তার মেয়ের জন্মদিনের জন্য যে সময়ে কেক কিনে বাড়ি ফেরে, ঠিক একই সময়ে অন্য কোন এক মেয়ে তার বাবাকে শেষ দেখা দেখে। একই ফ্রেমের পৃথিবীতে যখন কেউ বাবা হিসেবে তার মেয়ের জন্য দায়িত্ব পালন করে. সেই একই ফ্রেমে বসবাসরত পৃথিবীর অন্য কোন মেয়ে তার বাবার জন্য ন্যূনতম দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারিয়ে ফেলে।
লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

ফ্রেম

আপডেট সময় : ১১:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৩

ফারজানা কাশেমী : পৃথিবী একটা ফ্রেমে আবদ্ধ। এই ফ্রেমের মাঝে হাজারো চিত্রপট। কত-শত রঙে বিন্যস্ত হয় পৃথিবীর ফ্রেম। একই ফ্রেমে বসবাসরত দু’জন মানুষের জীবনধারা ভিন্নতর। একটা মেয়ে যখন বাবা হারানোর দুঃখে কাঁদে, একই পৃথিবীর ফ্রেমে বসবাসরত কোন এক বাবা কন্যা সন্তানের আগমনে রাজ্য জয় সম আনন্দিত হয়। একই পৃথিবীতে একটা বাবা যখন তার মেয়ের জন্য পুতুল কিনে, ঠিক একই ফ্রেমে বসবাসরত কোন একটি মেয়ে তার বাবার জীবন প্রদীপ বাঁচানোর জন্য স্রষ্টার তরে হাজারো মিনতি করে। রঙিন প্রচ্ছদের এই পৃথিবীতে একটা মেয়ে যখন প্রতিদিন বাবার সাথে খুনসুটির স্মৃতি রোমন্থন করে, তখন সেই পৃথিবীর কোন একপ্রান্তে কোন এক বাবা তার আদরের কন্যার মান ভাঙায় বাহারি বেলুনে।
বর্ণিল আলোকসজ্জার এই পৃথিবীতে কোন এক কন্যা যখন তার বাবার সাথে হাসিতে মুখরিত হয়, ঠিক একই পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে অন্য কোন এক মেয়ে তার বাবার মৃত্যুর মতো কঠিন প্রহর শূন্যতায় নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মেয়ের জীবনের নিরাপত্তার জন্য বাবা তার মেয়েকে কখনো ভিন্ন যানবাহনে উঠতে দেয় না; অথচ বাবার শেষযাত্রার অ্যাম্বুলেন্সে মেয়ে থাকতে পারে না। পৃথিবীর একপ্রান্তে কোন একজন পুরুষ যখন মেয়ে সন্তানের বাবা হয়, একই পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে একটা মেয়ে বাবা হারিয়ে এতিম হয়। কোন একজন বাবা তার মেয়ের জন্মদিনের জন্য যে সময়ে কেক কিনে বাড়ি ফেরে, ঠিক একই সময়ে অন্য কোন এক মেয়ে তার বাবাকে শেষ দেখা দেখে। একই ফ্রেমের পৃথিবীতে যখন কেউ বাবা হিসেবে তার মেয়ের জন্য দায়িত্ব পালন করে. সেই একই ফ্রেমে বসবাসরত পৃথিবীর অন্য কোন মেয়ে তার বাবার জন্য ন্যূনতম দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারিয়ে ফেলে।
লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ