ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পোশাকে ছত্রাক দূর করতে হয় যেভাবে

  • আপডেট সময় : ১০:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ছাতা পড়া বা চিতা ধরার সমস্যার কথা অজানা নয়। আর বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়াতে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রিয় পোশাকে ছত্রাকের আক্রমণ হলে, ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। বরং সমস্যা সমাধান করা যায় সহজেই। তবে সিল্ক, জিন্স বা সুতি কাপড় ভেদে পদ্ধতিও আলাদা।
ছত্রাক বলতে যা বোঝায়: একই সাথে ভেজা কিন্তু গরম আবহাওয়াতে ছত্রাক গজানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। ‘ইউনিভার্সিটি অফ মিজোরি’র দেওয়া তথ্যানুসারে, স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওতে কাপড় বেশি সময় ধরে ভেজা থাকলে ছত্রাক জন্মানোর সুযোগ পায়। বিশেষ করে ভেজা তোয়ালে বা গামছা, ব্যায়াম করার ঘামে ভেজা কাপড় ইত্যাদি। কাপড়ে পড়া ছত্রাকের রং সাদা ছাড়াও হালকা কালো বা সবুজাভ দাগের মতো দেখাতে পারে। এরফলে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। কাপড়ের রং নষ্ট হয় এমনকি ছিদ্রও তৈরি করতে পারে। আর প্রাথমিক অবস্থায় এই সমস্যা দেখা না গেলেও পরে ছত্রাকের বিস্তৃতির কারণে নজরে আসে।
ক্ষতির পরিমাণ বোঝা: কাপড় থেকে ছত্রাক দূর করার আগে ক্ষতির পরিমাণটা বের করতে হবে। এই বিষয়ে ‘ক্লথসলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুধু উপরিভাগেই নয় বরং কাপড়ের গভীরে, ভাঁজে, পকেটের কোনায় ছাতা পড়তে বেশি দেখা যায়। আর সিনথেটিক’য়ের চাইতে সুতি ধরনের কাপড়ে এই সমস্যা বেশি হয়। তাই কাপড় বা পোশাকের কোথাও ছত্রাক দেখা দিলে ভালো মতো সেটা পরখ করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে কাপড়টি রাখা ছিল সেই জায়গাসহ অন্যান্য কাপড় থাকলে সেগুলোও পরীক্ষা করতে হবে।
কাপড় ভেদে সমাধানের পন্থা আলাদা: কাপড় ভেদে ছত্রাকের ভিন্নতা দেখা দেয়। সে কারণে সমাধানের কৌশলও আলাদা।
সুতি ও লিনেন: এই ধরনের কাপড় সাধারণত দৈনিক পরা হয়। প্রাকৃতিক তন্তুর বলে ছত্রাক জন্মানোর জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভিনেগার ও পানির মিশ্রণ এই ক্ষেত্রে ভালো সমাধান। প্রথমে কাপড়ের যেসব জায়গায় ছত্রাকের আক্রমণ হয়েছে সেখানে ব্রাশ দিয়ে হালকাভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপর সাদা ডিস্টিল্ড ভিনিগার পানিতে মিশিয়ে কাপড় ভিজিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষণ। এরপর ভালোমতো ধুয়ে শুকাতে হবে। ভিনেগার শুধু ছত্রাক ধ্বংস করতেই সাহায্য করে না, ছত্রাকের কারণে হওয়া বাজে গন্ধও দূর করে।
সিন্থেটিক এবং মিশ্র তন্তুর কাপড়: নায়লন বা পলিয়েস্টার কাপড়ে সাধারণত ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয় না। কারণ এগুলো প্রাকৃতিক তন্তু নয়। তারপরও ছাতা পড়ার সমস্যা দেখা দিলে এই ধরনের কাপড় কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালো মতো ধুয়ে শুকিয়ে নিলে সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।
‘ডেলিকেট’ বা নমনীয় কাপড়: সিল্ক-সহ এরকম দামি কোমল কাপড়ের ছত্রাক দূর করার ক্ষেত্রে সাবধাণ থাকতে হবে। ‘ড্রাই ক্লিনিং’ এক্ষেত্রে ভালো সমাধান হতে পারে।
ছত্রাক দূর করতে প্রাকৃতিক উপাদান:
ভিনেগার: ধোয়ার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হবে সেটার একভাগ পরিমাণ ভিনেগার মেশাতে হয়। এছাড়াও আরও কিছু উপাদান আছে যেগুলো ছত্রাকের বিরূদ্ধে ভালো কাজ করে।
বেইকিং সোডা: ব্যবহার করা নিরাপদ। পাঁচভাগ পানিতে একভাগ বেইকিং সোডা মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা ছাতা ধরা পোশাক ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর স্বাভাবিকভাবে ভালো মতো ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে।
টি ট্রি অয়েল: ছত্রাকরোধী উপাদানের জন্য পরিচিত। দুই কাপ পানিতে দুই চা-চামচ পরিমাণ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে কাপড়ের ছত্রাক আক্রান্ত জায়গায় স্প্রে করতে হবে। ঘণ্টাখানেক রেখে তারপর ধুতে হবে।
কাপড়ে কোনো বিক্রিয়া করে কি-না, বোঝার জন্য এই মিশ্রণ ব্যবহারের আগে পরখ করে নিতে হবে।
কাপড়ে ছত্রাক পড়া রোধ করতে: কাপড় ভালো মতো শুকিয়ে আলমারি বা ড্রয়ারে রাখতে হবে। অল্প ভেজা থাকলেও ছত্রাক পড়ার সম্ভাবনা বাড়াবে। যেখানেই কাপড় রাখা হোক না কোনো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আঁটসাঁট অবস্থায় কাপড় বা পোশাক রাখা যাবে না। যেসব কাপড় সবসময় ভেজে, যেমন- সাঁতারের বা ব্যায়ামের পোশাক, সেগুলো ব্যবহারের পর ভালো মতো ধুয়ে শুকাতে হবে। বৃষ্টিতে ভেজা কাপড়ের ক্ষেত্রেও একই বিষয়। ভেজা কাপড় বেশিক্ষণ ফেলে রাখলেই ছাতা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যেসব কাপড় কম পরা হয়, যেমন- অনুষ্ঠানের পোশাক, সেগুলো নিয়মিত পরখ করতে হবে। ওয়ারড্রোব, আলমারি বা সুটকেসে থাকা কাপড় অনেকদিন থাকলে ছত্রাক পড়তে পারে। এজন্য মাঝে মাঝে বের করে জীবাণুরোধক ‘ওয়াইপস্’ বা টিস্যু দিয়ে মুছে বা স্প্রে করে রোদে কিছুক্ষণ রাখলে ছাতা পড়ার সম্ভাবনা থাকে না।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

আমানতের অর্থ লুটে খাচ্ছে ব্যাংক : পিআরআই

পোশাকে ছত্রাক দূর করতে হয় যেভাবে

আপডেট সময় : ১০:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ছাতা পড়া বা চিতা ধরার সমস্যার কথা অজানা নয়। আর বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়াতে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রিয় পোশাকে ছত্রাকের আক্রমণ হলে, ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। বরং সমস্যা সমাধান করা যায় সহজেই। তবে সিল্ক, জিন্স বা সুতি কাপড় ভেদে পদ্ধতিও আলাদা।
ছত্রাক বলতে যা বোঝায়: একই সাথে ভেজা কিন্তু গরম আবহাওয়াতে ছত্রাক গজানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। ‘ইউনিভার্সিটি অফ মিজোরি’র দেওয়া তথ্যানুসারে, স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওতে কাপড় বেশি সময় ধরে ভেজা থাকলে ছত্রাক জন্মানোর সুযোগ পায়। বিশেষ করে ভেজা তোয়ালে বা গামছা, ব্যায়াম করার ঘামে ভেজা কাপড় ইত্যাদি। কাপড়ে পড়া ছত্রাকের রং সাদা ছাড়াও হালকা কালো বা সবুজাভ দাগের মতো দেখাতে পারে। এরফলে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। কাপড়ের রং নষ্ট হয় এমনকি ছিদ্রও তৈরি করতে পারে। আর প্রাথমিক অবস্থায় এই সমস্যা দেখা না গেলেও পরে ছত্রাকের বিস্তৃতির কারণে নজরে আসে।
ক্ষতির পরিমাণ বোঝা: কাপড় থেকে ছত্রাক দূর করার আগে ক্ষতির পরিমাণটা বের করতে হবে। এই বিষয়ে ‘ক্লথসলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুধু উপরিভাগেই নয় বরং কাপড়ের গভীরে, ভাঁজে, পকেটের কোনায় ছাতা পড়তে বেশি দেখা যায়। আর সিনথেটিক’য়ের চাইতে সুতি ধরনের কাপড়ে এই সমস্যা বেশি হয়। তাই কাপড় বা পোশাকের কোথাও ছত্রাক দেখা দিলে ভালো মতো সেটা পরখ করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে কাপড়টি রাখা ছিল সেই জায়গাসহ অন্যান্য কাপড় থাকলে সেগুলোও পরীক্ষা করতে হবে।
কাপড় ভেদে সমাধানের পন্থা আলাদা: কাপড় ভেদে ছত্রাকের ভিন্নতা দেখা দেয়। সে কারণে সমাধানের কৌশলও আলাদা।
সুতি ও লিনেন: এই ধরনের কাপড় সাধারণত দৈনিক পরা হয়। প্রাকৃতিক তন্তুর বলে ছত্রাক জন্মানোর জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভিনেগার ও পানির মিশ্রণ এই ক্ষেত্রে ভালো সমাধান। প্রথমে কাপড়ের যেসব জায়গায় ছত্রাকের আক্রমণ হয়েছে সেখানে ব্রাশ দিয়ে হালকাভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপর সাদা ডিস্টিল্ড ভিনিগার পানিতে মিশিয়ে কাপড় ভিজিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষণ। এরপর ভালোমতো ধুয়ে শুকাতে হবে। ভিনেগার শুধু ছত্রাক ধ্বংস করতেই সাহায্য করে না, ছত্রাকের কারণে হওয়া বাজে গন্ধও দূর করে।
সিন্থেটিক এবং মিশ্র তন্তুর কাপড়: নায়লন বা পলিয়েস্টার কাপড়ে সাধারণত ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয় না। কারণ এগুলো প্রাকৃতিক তন্তু নয়। তারপরও ছাতা পড়ার সমস্যা দেখা দিলে এই ধরনের কাপড় কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালো মতো ধুয়ে শুকিয়ে নিলে সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।
‘ডেলিকেট’ বা নমনীয় কাপড়: সিল্ক-সহ এরকম দামি কোমল কাপড়ের ছত্রাক দূর করার ক্ষেত্রে সাবধাণ থাকতে হবে। ‘ড্রাই ক্লিনিং’ এক্ষেত্রে ভালো সমাধান হতে পারে।
ছত্রাক দূর করতে প্রাকৃতিক উপাদান:
ভিনেগার: ধোয়ার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হবে সেটার একভাগ পরিমাণ ভিনেগার মেশাতে হয়। এছাড়াও আরও কিছু উপাদান আছে যেগুলো ছত্রাকের বিরূদ্ধে ভালো কাজ করে।
বেইকিং সোডা: ব্যবহার করা নিরাপদ। পাঁচভাগ পানিতে একভাগ বেইকিং সোডা মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা ছাতা ধরা পোশাক ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর স্বাভাবিকভাবে ভালো মতো ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে।
টি ট্রি অয়েল: ছত্রাকরোধী উপাদানের জন্য পরিচিত। দুই কাপ পানিতে দুই চা-চামচ পরিমাণ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে কাপড়ের ছত্রাক আক্রান্ত জায়গায় স্প্রে করতে হবে। ঘণ্টাখানেক রেখে তারপর ধুতে হবে।
কাপড়ে কোনো বিক্রিয়া করে কি-না, বোঝার জন্য এই মিশ্রণ ব্যবহারের আগে পরখ করে নিতে হবে।
কাপড়ে ছত্রাক পড়া রোধ করতে: কাপড় ভালো মতো শুকিয়ে আলমারি বা ড্রয়ারে রাখতে হবে। অল্প ভেজা থাকলেও ছত্রাক পড়ার সম্ভাবনা বাড়াবে। যেখানেই কাপড় রাখা হোক না কোনো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আঁটসাঁট অবস্থায় কাপড় বা পোশাক রাখা যাবে না। যেসব কাপড় সবসময় ভেজে, যেমন- সাঁতারের বা ব্যায়ামের পোশাক, সেগুলো ব্যবহারের পর ভালো মতো ধুয়ে শুকাতে হবে। বৃষ্টিতে ভেজা কাপড়ের ক্ষেত্রেও একই বিষয়। ভেজা কাপড় বেশিক্ষণ ফেলে রাখলেই ছাতা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যেসব কাপড় কম পরা হয়, যেমন- অনুষ্ঠানের পোশাক, সেগুলো নিয়মিত পরখ করতে হবে। ওয়ারড্রোব, আলমারি বা সুটকেসে থাকা কাপড় অনেকদিন থাকলে ছত্রাক পড়তে পারে। এজন্য মাঝে মাঝে বের করে জীবাণুরোধক ‘ওয়াইপস্’ বা টিস্যু দিয়ে মুছে বা স্প্রে করে রোদে কিছুক্ষণ রাখলে ছাতা পড়ার সম্ভাবনা থাকে না।