ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নিয়মিত পানির বোতল পরিষ্কার না করা কতটা খারাপ

  • আপডেট সময় : ১০:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বাসায়, স্কুলে শিশুর জন্য, রাস্তা-ঘাটে কিংবা অফিসে পানি পানের জন্য নিজের বোতল রাখা নিরাপদ। তবে প্রতিদিন যদি সেই বোতল পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে কী হতে পারে?
উত্তর হল- খুবই বাজে ব্যাপার ঘটতে পারে। কারণ পুনঃব্যবহার যোগ্য পানির বোতল প্রতিদিন পরিষ্কার না করলে ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর মাত্রা বাড়ে। আর সেটা থেকে পানি পানে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এই বিষয়ে নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘মাইক্রোব্যাক ল্যাবরেটরিজ’য়ের করপোরেট পরিচালক, প্রশিক্ষক ও খাদ্য বিশেষজ্ঞ ক্রেইগ বলেন, “বোতলের ঢাকনার রাবারের সিল, মুখ আর বোতলের সাথে যুক্ত থাকা ‘স্ট্র’ বা পাইপ ব্যাক্টেরিয়ার জন্মানোর আদর্শ স্থান।”
নিজের বোতল থেকে পানি পানের পরও কীভাবে ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন, “স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মুখ ও মুখের ভেতর, ত্বক, নাক- বিভিন্ন জায়গায় ব্যাকটেরিয়া থাকেই। যে কারণে পানি পানের সময় সহজেই বোতলে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে।”
সাধারণ চোখে ব্যাকটেরিয়া দেখা যায় না; আবার পানি দেখতে পরিষ্কার আর স্বাদে তারতম্য না লাগলেও কিছু মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া থেকেই যায়। সেই বোতল যদি প্রতিদিন পরিষ্কার না করা হয় তবে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশ বিস্তার করার মত পরিবেশ পেয়ে যায়। এই খাদ্য নিরাপত্তা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “ই.কোলি’র মতো বেশ কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যেগুলো ঘণ্টাখানেকের মধ্যে দ্বিগুণ হারে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। মানে হল এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া যুক্ত বোতলে যতই পরিষ্কার পানিতে পূর্ণ করা হোক না কেনো, পান করলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।”
ক্রেইগ আরও জানান, যেসব বোতলে স্বাদবর্ধক পাউডার বা কোনো জুস ভরা হয় সেগুলো থেকে ব্যাকটেরিয়া খাদ্য উপাদান পেয়ে আরও দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। তাই প্রতিদিন নিজের পানির বোতলটি ভালো মতো পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন তিনি।
পানির বোতল পরিষ্কার করার নিরাপদ উপায়: ক্রেইগ’য়ের মতে, অল্প গরম-সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করাই সব থেকে ভালো পন্থা। তিনি বলেন, “বোতলের সঙ্গে যুক্ত থাকা স্ট্র, ঢাকনা, বোতলের মুখ, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত-সব জায়গা আলাদাভাবে ভালোমত ঘষে পরিষ্কার করতে হবে সাবানযুক্ত গরম পানি দিয়ে।”
সবচেয়ে ভালো হয় বাসন ধোয়ার সাবান মিশ্রিত গরম পানির ভেতর বোতলটা কিছুক্ষণ চুবিয়ে রেখে পরিষ্কার করলে। আর কাজটা করতে হবে প্রতিদিন। এরপর বোতল, ঢাকনা এবং স্ট্র থাকলে সেগুলো ভালোমত পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে ব্লিচ ও ধাতব মাজুনি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন, ক্রেইগ। কারণ এগুলো বোতলটি নষ্ট করে দেবে। ভেতরে বা বাইরের প্রলেপ নষ্ট হলে ব্যাকটেরিয়া লেগের থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। ফ্রিজে রাখা বোতলের পানিতে কি ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে? “ঠান্ডা তাপমাত্রা ব্যাকটেরিয়ার জন্মানোর গতি ধীর করে”- বলেন ক্রেইগ। তবে ব্যাকটেরিয়া মারতে বা থামাতেও পারে না। এই কারণে তিনি, ফ্রিজে রাখা বোতলও নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

আমানতের অর্থ লুটে খাচ্ছে ব্যাংক : পিআরআই

নিয়মিত পানির বোতল পরিষ্কার না করা কতটা খারাপ

আপডেট সময় : ১০:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বাসায়, স্কুলে শিশুর জন্য, রাস্তা-ঘাটে কিংবা অফিসে পানি পানের জন্য নিজের বোতল রাখা নিরাপদ। তবে প্রতিদিন যদি সেই বোতল পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে কী হতে পারে?
উত্তর হল- খুবই বাজে ব্যাপার ঘটতে পারে। কারণ পুনঃব্যবহার যোগ্য পানির বোতল প্রতিদিন পরিষ্কার না করলে ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর মাত্রা বাড়ে। আর সেটা থেকে পানি পানে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এই বিষয়ে নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘মাইক্রোব্যাক ল্যাবরেটরিজ’য়ের করপোরেট পরিচালক, প্রশিক্ষক ও খাদ্য বিশেষজ্ঞ ক্রেইগ বলেন, “বোতলের ঢাকনার রাবারের সিল, মুখ আর বোতলের সাথে যুক্ত থাকা ‘স্ট্র’ বা পাইপ ব্যাক্টেরিয়ার জন্মানোর আদর্শ স্থান।”
নিজের বোতল থেকে পানি পানের পরও কীভাবে ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন, “স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মুখ ও মুখের ভেতর, ত্বক, নাক- বিভিন্ন জায়গায় ব্যাকটেরিয়া থাকেই। যে কারণে পানি পানের সময় সহজেই বোতলে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে।”
সাধারণ চোখে ব্যাকটেরিয়া দেখা যায় না; আবার পানি দেখতে পরিষ্কার আর স্বাদে তারতম্য না লাগলেও কিছু মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া থেকেই যায়। সেই বোতল যদি প্রতিদিন পরিষ্কার না করা হয় তবে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশ বিস্তার করার মত পরিবেশ পেয়ে যায়। এই খাদ্য নিরাপত্তা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “ই.কোলি’র মতো বেশ কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যেগুলো ঘণ্টাখানেকের মধ্যে দ্বিগুণ হারে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। মানে হল এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া যুক্ত বোতলে যতই পরিষ্কার পানিতে পূর্ণ করা হোক না কেনো, পান করলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।”
ক্রেইগ আরও জানান, যেসব বোতলে স্বাদবর্ধক পাউডার বা কোনো জুস ভরা হয় সেগুলো থেকে ব্যাকটেরিয়া খাদ্য উপাদান পেয়ে আরও দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। তাই প্রতিদিন নিজের পানির বোতলটি ভালো মতো পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন তিনি।
পানির বোতল পরিষ্কার করার নিরাপদ উপায়: ক্রেইগ’য়ের মতে, অল্প গরম-সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করাই সব থেকে ভালো পন্থা। তিনি বলেন, “বোতলের সঙ্গে যুক্ত থাকা স্ট্র, ঢাকনা, বোতলের মুখ, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত-সব জায়গা আলাদাভাবে ভালোমত ঘষে পরিষ্কার করতে হবে সাবানযুক্ত গরম পানি দিয়ে।”
সবচেয়ে ভালো হয় বাসন ধোয়ার সাবান মিশ্রিত গরম পানির ভেতর বোতলটা কিছুক্ষণ চুবিয়ে রেখে পরিষ্কার করলে। আর কাজটা করতে হবে প্রতিদিন। এরপর বোতল, ঢাকনা এবং স্ট্র থাকলে সেগুলো ভালোমত পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে ব্লিচ ও ধাতব মাজুনি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন, ক্রেইগ। কারণ এগুলো বোতলটি নষ্ট করে দেবে। ভেতরে বা বাইরের প্রলেপ নষ্ট হলে ব্যাকটেরিয়া লেগের থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। ফ্রিজে রাখা বোতলের পানিতে কি ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে? “ঠান্ডা তাপমাত্রা ব্যাকটেরিয়ার জন্মানোর গতি ধীর করে”- বলেন ক্রেইগ। তবে ব্যাকটেরিয়া মারতে বা থামাতেও পারে না। এই কারণে তিনি, ফ্রিজে রাখা বোতলও নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।