ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নিমন্ত্রণ করে বিয়ে হলো বট-পাকড়ের

  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জসংবাদদাতা:ধুতি-টোপড়সহ কোনো আনুষ্ঠানিকতার কমতি ছিল না। সনাতন ধর্মের রীতি অনুসারে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে শাখা-সিঁদুর পড়ে মহাধুমধামে বট-পাকুড়ের বিয়ে হয়েছে। এ বিয়েতে অতিথি ছাড়াও আশ-পাশের গ্রাম থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়েছে। পরিবার তথা গ্রামের পার্থিব মঙ্গল কামনায় নিজেদের বিশ্বাস থেকেই শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রায় দৌলতপুরের গোপালপুর গ্রামে ওই বিয়ের আয়োজন করেন তাঁত মালিক শীতল সরকার। মহাধুমধামের মধ্যদিয়ে বট-পাকড় গাছের ব্যতিক্রমী এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন পুরো গ্রামের মানুষেরা। সনাতনী শাস্ত্রের রীতি অনুসারে লগ্ন, তিথি ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বিয়ে শেষে প্রীতিভোজেরও ব্যবস্থা রাখা হয়। আয়োজক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের আগত দর্শনার্থীরাও সেখানে ভিড় জমান বট-পাকড়ের বিয়ে উপভোগ করতে।
বট-পাকড়ের বিয়ের আয়োজক তাঁত মালিক শীতল সরকার বলেন, আমার বাড়ির আঙ্গিনায় একটি তাল গাছ রয়েছে। পাশে প্রায় দেড় যুগ আগে সেখানে বট গাছের সাথে পরবর্তীতে একটি পাকড় গাছেরও জন্ম হয়। পাকড় গাছ ও বট গাছের পাশাপাশি জন্ম হলে পৌরণিক শাস্ত্র মতে একটিকে পুরুষ, অন্যটিকে নারী বিবেচনা করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। নানা সমস্যার কারণে আমরা এতদিন সেই বিয়ের আয়োজন করতে পারিনি। সেজন্য আমার পরিবারে ছোট-খাট নানা সংকট ও বিপদ প্রায়ই লেগেই থাকত। বিয়ের আয়োজনে পরিবারের লোকজন ইতোপূর্বে একাধিকবার স্বপ্নও দেখেছি। পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের সংকট কাটাতে সনাতনী ধর্মাবলম্বী প্রতিবেশীদের নিয়ে মুলত ওই বিয়ের আয়োজন। গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ ম-ল বলেন, অনেক দিন ধরেই শুনছিলাম বট-পাকড়ের বিয়ে হবে। অনেক প্রতীক্ষার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় শীতল সরকারের বাড়িতে পাকড় গাছের সাথে ধুতি, পাঞ্জাবি ও মুকুট জড়িয়ে এবং বট গাছের সাথে শাড়ি, শাখা, সিঁদুর ও মুকুট পরিয়ে আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বট ও পাকড় একই স্থানে জন্ম হলে তাদের মধ্যে বিয়ে পড়াতে হয়। এ কারণে শীতল সরকার বিশাল আয়োজনের মধ্যদিয়ে এই বিয়ে সম্পন্ন করে। ব্যতিক্রমী এ বিয়েতে অতিথি ছাড়াও আশ-পাশের গ্রাম থেকে আসা প্রায় ৫শ শতাধিক লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়েছে।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

নিমন্ত্রণ করে বিয়ে হলো বট-পাকড়ের

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২

সিরাজগঞ্জসংবাদদাতা:ধুতি-টোপড়সহ কোনো আনুষ্ঠানিকতার কমতি ছিল না। সনাতন ধর্মের রীতি অনুসারে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে শাখা-সিঁদুর পড়ে মহাধুমধামে বট-পাকুড়ের বিয়ে হয়েছে। এ বিয়েতে অতিথি ছাড়াও আশ-পাশের গ্রাম থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়েছে। পরিবার তথা গ্রামের পার্থিব মঙ্গল কামনায় নিজেদের বিশ্বাস থেকেই শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রায় দৌলতপুরের গোপালপুর গ্রামে ওই বিয়ের আয়োজন করেন তাঁত মালিক শীতল সরকার। মহাধুমধামের মধ্যদিয়ে বট-পাকড় গাছের ব্যতিক্রমী এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন পুরো গ্রামের মানুষেরা। সনাতনী শাস্ত্রের রীতি অনুসারে লগ্ন, তিথি ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বিয়ে শেষে প্রীতিভোজেরও ব্যবস্থা রাখা হয়। আয়োজক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের আগত দর্শনার্থীরাও সেখানে ভিড় জমান বট-পাকড়ের বিয়ে উপভোগ করতে।
বট-পাকড়ের বিয়ের আয়োজক তাঁত মালিক শীতল সরকার বলেন, আমার বাড়ির আঙ্গিনায় একটি তাল গাছ রয়েছে। পাশে প্রায় দেড় যুগ আগে সেখানে বট গাছের সাথে পরবর্তীতে একটি পাকড় গাছেরও জন্ম হয়। পাকড় গাছ ও বট গাছের পাশাপাশি জন্ম হলে পৌরণিক শাস্ত্র মতে একটিকে পুরুষ, অন্যটিকে নারী বিবেচনা করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। নানা সমস্যার কারণে আমরা এতদিন সেই বিয়ের আয়োজন করতে পারিনি। সেজন্য আমার পরিবারে ছোট-খাট নানা সংকট ও বিপদ প্রায়ই লেগেই থাকত। বিয়ের আয়োজনে পরিবারের লোকজন ইতোপূর্বে একাধিকবার স্বপ্নও দেখেছি। পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের সংকট কাটাতে সনাতনী ধর্মাবলম্বী প্রতিবেশীদের নিয়ে মুলত ওই বিয়ের আয়োজন। গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ ম-ল বলেন, অনেক দিন ধরেই শুনছিলাম বট-পাকড়ের বিয়ে হবে। অনেক প্রতীক্ষার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় শীতল সরকারের বাড়িতে পাকড় গাছের সাথে ধুতি, পাঞ্জাবি ও মুকুট জড়িয়ে এবং বট গাছের সাথে শাড়ি, শাখা, সিঁদুর ও মুকুট পরিয়ে আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বট ও পাকড় একই স্থানে জন্ম হলে তাদের মধ্যে বিয়ে পড়াতে হয়। এ কারণে শীতল সরকার বিশাল আয়োজনের মধ্যদিয়ে এই বিয়ে সম্পন্ন করে। ব্যতিক্রমী এ বিয়েতে অতিথি ছাড়াও আশ-পাশের গ্রাম থেকে আসা প্রায় ৫শ শতাধিক লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়েছে।