ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধীরগতির শহর নিয়ে শৈল্পিক প্রতিবাদ

  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩
  • ২৬০ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হওয়ার পর নগরীতে মানুষের চাপ বাড়ছে দিনদিন। নানা উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হলেও সড়ক ও জনপথের অধীনে থাকা বেশিরভাগ সড়ক প্রশস্ত না হওয়া এবং রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে অনেক। এতে বিশ্বের ধীরগতির শহরের তালিকায় নবম স্থানে এসেছে ময়মনসিংহের নাম। ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরে যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বের ধীরগতির শহরের তালিকায় ময়মনসিংহ যুক্ত হওয়ায় অভিনয়, গান, আবৃত্তির ভেতর দিয়ে নিজেদের আক্ষেপের প্রকাশ করেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
গত শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন ব্যাটবল চত্বরে ‘ধীরগতির দুর্গতি’ নামের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে শিল্পীরা প্রকাশ করে ধীর গতির এই শহরের নানা দুর্ভোগের চিত্র। বিকেল ৪টায় সংস্কৃতিকর্মী ও আয়োজক শামীম আশরাফের উপস্থাপনায় এ আয়োজনের সূচনা করেন বহুরূপী নাট্য সংস্থার সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন হিলু। এরপর কবিতা পড়েন, সীমান্ত জসিম, রুকন শাহরিয়ার। কবিতার পর নাটিকা পরিবেশন করে রঙ্গভূমি থিয়েটার। যেখানে দেখানো হয়- ‘লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল তরুণ সংঘর্ষে জড়ায়। বাবার সঙ্গে শহর দেখতে বের হওয়া কিশোরী মেয়ের মাথায় লাগে আঘাত। রক্তাক্ত মেয়ের মাথায় রুমাল চেপে যানবাহন খুঁজতে শুরু করেন বাবা। যানজটের শহরে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে পথেই মৃত্যু হয় মেয়ের। কিশোরী মেয়ের মরদেহ কোলে নিয়ে বাবার আর্তনাদের অভিনয় নাড়িয়ে তুলে দর্শক হৃদয়। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে যানজটের কবলে পড়ে মেয়ের প্রাণ হারানোর চিত্র তুলে আনেন আনিসুজ্জামান হাসান। এ সময় মঞ্চের সামনের দর্শনার্থীরা হৃদয় থেকেই যেন বলে উঠে ধীরগতি নয়, গতিময় শহর চাই আমরা।’
এরপর খায়রুল ইসলাম হীরকের নেতৃত্বে হিরন্ময় কালচারাল একাডেমির একদল শিল্লী গানে গানে নিজেদের আক্ষেপ তুলে ধরেন। ‘গাড়ি চলে না, গাড়ি চলে না’ গান দিয়ে শুরু করে বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করে দলটি। এরপর মিজান বাউলা, আফ্রিদ, শাহনাজ পারভীনসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী একে একে পরিবেশন করেন গান। বহুরূপী নাট্য সংস্থার সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন হিলু বলেন, নাগরিক সমস্যা নিয়ে চিৎকার করে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে বললেই প্রতিবাদ হয় না। সংস্কৃতির ভেতর দিয়েও যে নান্দনিকভাবে প্রতিবাদ করা যায় এবং মানুষকে জাগরিত করা যায় এটি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আশা করছি এই প্রতিবাদের ভাষা প্রশাসনের কাছে যাবে এবং তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। শিল্পী শাহানাজ সাথী বলেন, যানজট নিরসনের জন্য সবার দিক থেকে কিছু না কিছু করা উচিত। আমরা সংস্কৃতিকর্মীরা শিল্প-সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে আমাদের মতো করে প্রতিবাদ করছি। আয়োজক শামীম আশরাফ বলেন, আমরা কিছু তারুণ্য একত্রিত হয়ে কবিতা, কথা ও গানের মধ্য দিয়ে আমাদের ভাবনা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। আমরা আমাদের এই শহরটিকে সুস্থ, সুন্দর, বাসযোগ্য শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এর নেপথ্যে যার আছেন তারা যেন শহরটিকে বাসযোগ্য করে দেন, যানজট কমিয়ে দেন, চিকিৎসা সেবা বাড়িয়ে দেন। অপরিকল্পিতভাবে ভবন হচ্ছে, রাস্তা হচ্ছে এগুলো যেন বাসযোগ্য ও চলাচলযোগ্য করে দেন। এটিই আমাদের প্রত্যাশা। এই সবগুলোই সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে শহরের অসংখ্য সংস্কৃতি প্রাণ মানুষ শুধু নয়, সাধারণ মানুষেরাও বিপুলভাবে সমর্থন দিয়েছেন।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

ধীরগতির শহর নিয়ে শৈল্পিক প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হওয়ার পর নগরীতে মানুষের চাপ বাড়ছে দিনদিন। নানা উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হলেও সড়ক ও জনপথের অধীনে থাকা বেশিরভাগ সড়ক প্রশস্ত না হওয়া এবং রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে অনেক। এতে বিশ্বের ধীরগতির শহরের তালিকায় নবম স্থানে এসেছে ময়মনসিংহের নাম। ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরে যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বের ধীরগতির শহরের তালিকায় ময়মনসিংহ যুক্ত হওয়ায় অভিনয়, গান, আবৃত্তির ভেতর দিয়ে নিজেদের আক্ষেপের প্রকাশ করেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
গত শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন ব্যাটবল চত্বরে ‘ধীরগতির দুর্গতি’ নামের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে শিল্পীরা প্রকাশ করে ধীর গতির এই শহরের নানা দুর্ভোগের চিত্র। বিকেল ৪টায় সংস্কৃতিকর্মী ও আয়োজক শামীম আশরাফের উপস্থাপনায় এ আয়োজনের সূচনা করেন বহুরূপী নাট্য সংস্থার সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন হিলু। এরপর কবিতা পড়েন, সীমান্ত জসিম, রুকন শাহরিয়ার। কবিতার পর নাটিকা পরিবেশন করে রঙ্গভূমি থিয়েটার। যেখানে দেখানো হয়- ‘লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল তরুণ সংঘর্ষে জড়ায়। বাবার সঙ্গে শহর দেখতে বের হওয়া কিশোরী মেয়ের মাথায় লাগে আঘাত। রক্তাক্ত মেয়ের মাথায় রুমাল চেপে যানবাহন খুঁজতে শুরু করেন বাবা। যানজটের শহরে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে পথেই মৃত্যু হয় মেয়ের। কিশোরী মেয়ের মরদেহ কোলে নিয়ে বাবার আর্তনাদের অভিনয় নাড়িয়ে তুলে দর্শক হৃদয়। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে যানজটের কবলে পড়ে মেয়ের প্রাণ হারানোর চিত্র তুলে আনেন আনিসুজ্জামান হাসান। এ সময় মঞ্চের সামনের দর্শনার্থীরা হৃদয় থেকেই যেন বলে উঠে ধীরগতি নয়, গতিময় শহর চাই আমরা।’
এরপর খায়রুল ইসলাম হীরকের নেতৃত্বে হিরন্ময় কালচারাল একাডেমির একদল শিল্লী গানে গানে নিজেদের আক্ষেপ তুলে ধরেন। ‘গাড়ি চলে না, গাড়ি চলে না’ গান দিয়ে শুরু করে বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করে দলটি। এরপর মিজান বাউলা, আফ্রিদ, শাহনাজ পারভীনসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী একে একে পরিবেশন করেন গান। বহুরূপী নাট্য সংস্থার সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন হিলু বলেন, নাগরিক সমস্যা নিয়ে চিৎকার করে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে বললেই প্রতিবাদ হয় না। সংস্কৃতির ভেতর দিয়েও যে নান্দনিকভাবে প্রতিবাদ করা যায় এবং মানুষকে জাগরিত করা যায় এটি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আশা করছি এই প্রতিবাদের ভাষা প্রশাসনের কাছে যাবে এবং তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। শিল্পী শাহানাজ সাথী বলেন, যানজট নিরসনের জন্য সবার দিক থেকে কিছু না কিছু করা উচিত। আমরা সংস্কৃতিকর্মীরা শিল্প-সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে আমাদের মতো করে প্রতিবাদ করছি। আয়োজক শামীম আশরাফ বলেন, আমরা কিছু তারুণ্য একত্রিত হয়ে কবিতা, কথা ও গানের মধ্য দিয়ে আমাদের ভাবনা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। আমরা আমাদের এই শহরটিকে সুস্থ, সুন্দর, বাসযোগ্য শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এর নেপথ্যে যার আছেন তারা যেন শহরটিকে বাসযোগ্য করে দেন, যানজট কমিয়ে দেন, চিকিৎসা সেবা বাড়িয়ে দেন। অপরিকল্পিতভাবে ভবন হচ্ছে, রাস্তা হচ্ছে এগুলো যেন বাসযোগ্য ও চলাচলযোগ্য করে দেন। এটিই আমাদের প্রত্যাশা। এই সবগুলোই সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে শহরের অসংখ্য সংস্কৃতি প্রাণ মানুষ শুধু নয়, সাধারণ মানুষেরাও বিপুলভাবে সমর্থন দিয়েছেন।