The Daily Ajker Prottasha

দুই ভাইয়ের পুনর্মিলনে ৭৫ বছরের কান্না

0 0
Read Time:4 Minute, 9 Second

প্রত্যাশা ডেস্ক : ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় লাখো পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে বহু পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের ফিরে পায়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে বহু পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের মধ্যে পুনর্মিলনের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিকা খান ও সাদিক খান নামে শৈশবে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। সেসময় সিকার বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস। আর সাদিকের ১০ বছর। বড় ভাই সাদিক দাঙ্গার সময় পাকিস্তানে চলে যান। আর ছোট ভাই সিকা ভারতেই রয়ে যান। দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না। সম্প্রতি পাকিস্তানের ইউটিউবার নাসির ধীলনের সহায়তায় ৭৫ বছর পরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পুনর্মিলন হয়। পাকিস্তানের পাঞ্চাব প্রদেশের পশ্চিমের শহর ভাতি-ায় ইটের তৈরি একটি বাড়িতে বসে দেশভাগের কথা স্মরণ করছিলেন সিকা। তিনি বলেন, ‘আমার মা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজন আমাকে বড় করেন।’
দুই ভাইয়ের পুনর্মিলন সম্পর্কে বার্তা সংস্থা এএফপিকে ৩৮ বছর বয়সী ইউটিউবার ধীলন জানান, তিনি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ পরিবারকে একত্র হতে সহায়তা করেছেন। ধীলন পাকিস্তানে পেশায় কৃষক ও আবাসন ব্যবসার এজেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি রোজগারের জন্য এমন কাজ করি না। মনের স্নেহ ও আবেগ থেকে আমি এই কাজ করি। আমি মনে করি, এসব ঘটনা আমাদের নিজেদেরই ঘটনা। অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদের ঘটনা। তাই বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া এসব মানুষকে এক করাটা আমাদের পূর্বসূরিদের ইচ্ছাপূরণ।’
জানা যায়, পাকিস্তানের একটি মন্দির পরিদর্শনের জন্য ভিসা ছাড়াই ভারতের শিখধর্মাবলম্বীদের জন্য সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ওই করিডর খুলে দেওয়া হয়। এ করিডর খুলে দেওয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবারগুলো একত্রিত হওয়ার সুযোগ পায়। ওই করিডর ব্যবহার করেই গত জানুয়ারি মাসে করতারপুর করিডরে দুই ভাইয়ের দেখা হয়। সে অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সিকা খান বলেন, ‘প্রথমবার দেখা হওয়ার পর কথা বলতে পারিনি। আমরা একে অপরকে জড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে কেবল কেঁদেছি।’
সেসময় সেখানে প্রায় ৬০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দুই ভাইয়ের কান্না দেখে অনেকেই কেঁদে ওঠেন। এক প্রতিক্রিয়ায় সিকা বলেন, ‘আমি ভারত ও সাদিক পাকিস্তান থেকে এসেছে। কিন্তু আমাদের পরস্পরের জন্য অনেক ভালোবাসা রয়েছে। আমাদের যখন প্রথমবার দেখা হলো, তখন আমরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলাম। ভারত ও পাকিস্তানের বৈরিতা নিয়ে আমরা ভাবি না। আমরা ভারত ও পাকিস্তানের রাজনীতি নিয়েও ভাবি না।’

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published.