নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে গত এক দিনে এইডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; এই সময়ে মারা গেছেন তিনজন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ১২১ জন। আর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭৭ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪২৩ জন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ১৬৯ জন, ময়মনসিংহে ৪২ জন, চট্টগ্রামে ১৪৩ জন, খুলনায় ১১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৯৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রংপুর বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৩ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছেন ১ হাজার ৭৯২ জন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৭৫৯ জন। চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৯ হাজার ৩৩৮ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার। ঢাকার দুই মহানগর এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ৭৮৩ জন। এ বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে সবচেয়ে বেশি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সেপ্টেম্বরে। ওই মাসে ১৯ হাজার ২৪১ জন হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি অক্টোবরের প্রথম তিন দিনে ৩ হাজার ১৮৩ জন ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এর আগে জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৫৫ জন, যাদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩৩৯ জন, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। মার্চ মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১১ জন, মারা গেছেন পাঁচ জন। এপ্রিল মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০৪ জন, মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। মে মাসে ৬৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। জুন মাসে ৭৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে আটজনের। জুলাই মাসে ২ হাজার ৬৬৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, তাদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়। অগাস্টে ৬ হাজার ৫২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, যাদের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।