ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
স্বাস্থ্য প্রতিদিন======

টনসিলের ফোড়া হলে চিকিৎসা

  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী

তীব্র প্রদাহের ফলে টনসিলের ওপর ও আশপাশে এবং টনসিলের ক্যাপসুলের পাশে পুঁজ জমা হয়; যাকে পেরিটনসিলার অ্যাবসেস বলা হয়। সচরাচর এটিকে আমরা বলি টনসিলে ফোড়া হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা না করালে টনসিলের ইনফেকশনের জটিলতা থেকে এ রোগ হতে পারে।

ওই সমস্যা হলে তীব্র গলাব্যথা ও জ্বর হয়। গলাব্যথার জন্য কিছু গিলতে কষ্ট হয়, এমনকি অনেক সময় মুখ হাঁ করতে কষ্ট হয়। টনসিলের ফোড়া সাধারণত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। টনসিলাইটিস বা টনসিলে প্রদাহ যদিও দুই পাশে হয়, তবুও পেরিটনসিলার অ্যাবসেস সব সময় এক পাশে হয়ে থাকে।

রোগের লক্ষণ: যদিও টনসিলের প্রদাহ শিশুদের মধ্যে বেশি, তবুও টনসিলের ফোড়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি হয়। তীব্র গলাব্যথা। উচ্চ তাপমাত্রা (১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। খাবার খেতে কষ্ট ও মুখ হাঁ করতে অসুবিধা। কানে ব্যথা। মুখ দিয়ে লালা বের হয় ও কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যেতে পারে। মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে।

রোগীর গলা পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, টনসিল ও টনসিলের ওপরিভাগ এবং তালু লাল হয়ে ফুলে আছে। চিকিৎসা বিলম্ব করলে রোগীর মুখ হাঁ করতে কষ্ট হয় এবং আরো বিলম্ব হলে ফোড়া ফেটে পুঁজ বের হয়ে আসতে পারে।

জটিলতা: ইনফেকশন শ্বাসনালি পর্যন্ত ছড়ালে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। গলার ভেতর সেলুলাইটিস হতে পারে। সেপ্টেসেমিয়া বা ইনফেকশন সারা শরীরে ছড়াতে পারে। পুঁজ ফুসফুসে গেলে নিউমোনিয়া হতে পারে।

চিকিৎসা: ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুঁজ বের করে দিতে হবে। কালবিলম্ব না করে প্রথমে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং পরে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। ব্যথার জন্য ওষুধ দিতে হবে। অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে গড়গড়া করতে হবে।

ছয় সপ্তাহ পর টনসিলের অস্ত্রোপচার করে নিলে ভালো হয়। না হলে একই সমস্যা আবার হতে পারে।

লেখক: অধ্যাপক, ইএনটি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য প্রতিদিন======

টনসিলের ফোড়া হলে চিকিৎসা

আপডেট সময় : ০৮:১৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী

তীব্র প্রদাহের ফলে টনসিলের ওপর ও আশপাশে এবং টনসিলের ক্যাপসুলের পাশে পুঁজ জমা হয়; যাকে পেরিটনসিলার অ্যাবসেস বলা হয়। সচরাচর এটিকে আমরা বলি টনসিলে ফোড়া হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা না করালে টনসিলের ইনফেকশনের জটিলতা থেকে এ রোগ হতে পারে।

ওই সমস্যা হলে তীব্র গলাব্যথা ও জ্বর হয়। গলাব্যথার জন্য কিছু গিলতে কষ্ট হয়, এমনকি অনেক সময় মুখ হাঁ করতে কষ্ট হয়। টনসিলের ফোড়া সাধারণত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। টনসিলাইটিস বা টনসিলে প্রদাহ যদিও দুই পাশে হয়, তবুও পেরিটনসিলার অ্যাবসেস সব সময় এক পাশে হয়ে থাকে।

রোগের লক্ষণ: যদিও টনসিলের প্রদাহ শিশুদের মধ্যে বেশি, তবুও টনসিলের ফোড়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি হয়। তীব্র গলাব্যথা। উচ্চ তাপমাত্রা (১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। খাবার খেতে কষ্ট ও মুখ হাঁ করতে অসুবিধা। কানে ব্যথা। মুখ দিয়ে লালা বের হয় ও কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যেতে পারে। মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে।

রোগীর গলা পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, টনসিল ও টনসিলের ওপরিভাগ এবং তালু লাল হয়ে ফুলে আছে। চিকিৎসা বিলম্ব করলে রোগীর মুখ হাঁ করতে কষ্ট হয় এবং আরো বিলম্ব হলে ফোড়া ফেটে পুঁজ বের হয়ে আসতে পারে।

জটিলতা: ইনফেকশন শ্বাসনালি পর্যন্ত ছড়ালে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। গলার ভেতর সেলুলাইটিস হতে পারে। সেপ্টেসেমিয়া বা ইনফেকশন সারা শরীরে ছড়াতে পারে। পুঁজ ফুসফুসে গেলে নিউমোনিয়া হতে পারে।

চিকিৎসা: ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুঁজ বের করে দিতে হবে। কালবিলম্ব না করে প্রথমে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং পরে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। ব্যথার জন্য ওষুধ দিতে হবে। অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে গড়গড়া করতে হবে।

ছয় সপ্তাহ পর টনসিলের অস্ত্রোপচার করে নিলে ভালো হয়। না হলে একই সমস্যা আবার হতে পারে।

লেখক: অধ্যাপক, ইএনটি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ