ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

চিড়িয়াখানায় হায়েনার কামড়ে হাত হারানো সেই শিশুটির খোঁজ নেয় না কেউ

  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকাল ভাঙা কণ্ঠে হতাশার কথাগুলো বলছিলেন হায়েনার কামড়ে ডান হাতের কনুই পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিশু সাঈদের বাবা সুমন মিয়া। গত বছরের ৮ জুন পরিবারের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হয় সাঈদ। বর্তমানে শিশুটি অনেকটা সুস্থ। শুকিয়ে গেছে হায়েনার কামড়ে বিচ্ছিন্ন হাতের ক্ষত। কিন্তু অন্য শিশুদের মতো হাত স্বাভাবিক না হওয়ায় বাবা-মায়ের কাছে প্রায়ই নানা ধরনের হৃদয় বিদারক প্রশ্ন করে তিন বছরের অবুঝ শিশুটি। দিন দিন বড় হচ্ছে সাঈদ, বাবা-মায়ের ইচ্ছায় কিছু লিখতে গেলে কষ্ট হয় তার। সাঈদের পিতা সুমন মিয়া বলেন, ‘এসময় আমরা তাকে নানা-ভাবে বুঝিয়েছি, যে হাত আছে সেটা দিয়েই লেখার চেষ্টা করতে।’
দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে সাঈদকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন অনেকে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও প্রথমদিকে চিকিৎসা বিষয়ে সহযোগিতা করেছে। সাঈদের বাবা সুমন মিয়া বলেন, তখন অনেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। চিড়িয়াখানায় আমাকে চাকরি দেবে, ওর ভবিষ্যৎ করে দেবে। কিন্তু এখন আর কেউ নেই। গত রোজার ঈদের পরে চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলাম। তারা এখন আর আমাদের চেনে না। আমাদের সামর্থ্য থাকলে তাদের কাছে কোনোদিন সাহায্যের জন্য যাইতামও না, কিছু বলতামও না। আমাদের একটাই চাওয়া ওর ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে দিক। সবমিলিয়ে বর্তমানে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার। কারণ, সাইফের ডান হাতের অর্ধেক নেই। এই হাত দিয়ে কিছুই করতে পারবে না। সেসময় হাসপাতালে দেখতে এসে তাদের মধ্যে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘সাইফ বড় হলে তার কৃত্রিম হাত লাগিয়ে দেওয়া হবে।’ সেই আশায় আছে পরিবার। হাত লাগানো হলে আসল হাতের মতো না হলেও কোনোমতে চলতে পারবে সাইফ।
যা বলছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ: তবে সাঈদের পিতার অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, কিছুদিন আগে বাবা-বায়ের সঙ্গে শিশুটি চিড়িয়াখানায় এসেছিল। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। শিশুটি এখন সুস্থ আছে। তিনি বলেন, শিশুর বাবা-মায়ের ভুলে হোক আর অন্য কোনোভাবে হোক চিড়িয়াখানা থেকে হায়েনা শিশুর হাত খেয়ে ফেলেছে, অঙ্গহানি হয়েছে। আমাদের সাধ্যমতো তাৎক্ষণিক আমরা খরচ দিয়েছিলাম। আমরা এখনও খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের আর কী করার আছে? আমাদের যে সহানুভূতি থাকার কথা সেটা আছে, সবসময় থাকবে।’ চিড়িয়াখানায় শিশুর বাবা সুমনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান। অনেক নিয়মের মধ্য দিয়ে চালাতে হয়। সেরকম কোনো সুযোগ এলে, তাকে সাহায্য করার পরিস্থিতি তৈরি হলে আমাদের সহানুভূতির জায়গা থেকে আমরা করব।
যা ঘটেছিল: ২০২৩ সালের ৮ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুর নগরখাল এলাকা থেকে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যায় শিশু সাঈদ। সবাই মিলে হায়েনা দেখার সময় নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে হঠাৎ করে শিশুটি খাঁচার একদম কাছে চলে যায়। কিন্তু খাঁচার জিআই তারের নেটের ফাঁক বড় হওয়ায় তার ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দেয় সাঈদ। মুহূর্তেই শিশুর হাত কামড়ে কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে হায়েনা। এরপর শিশুটিকে তারা প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে পঙ্গুতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে দুর্ঘটনার পর হায়েনার খাঁচার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। দেড় ফুট উচ্চতার লোহার নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বাড়িয়ে ছয় ফুট করা হয়।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

আমানতের অর্থ লুটে খাচ্ছে ব্যাংক : পিআরআই

চিড়িয়াখানায় হায়েনার কামড়ে হাত হারানো সেই শিশুটির খোঁজ নেয় না কেউ

আপডেট সময় : ১১:৪১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকাল ভাঙা কণ্ঠে হতাশার কথাগুলো বলছিলেন হায়েনার কামড়ে ডান হাতের কনুই পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিশু সাঈদের বাবা সুমন মিয়া। গত বছরের ৮ জুন পরিবারের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হয় সাঈদ। বর্তমানে শিশুটি অনেকটা সুস্থ। শুকিয়ে গেছে হায়েনার কামড়ে বিচ্ছিন্ন হাতের ক্ষত। কিন্তু অন্য শিশুদের মতো হাত স্বাভাবিক না হওয়ায় বাবা-মায়ের কাছে প্রায়ই নানা ধরনের হৃদয় বিদারক প্রশ্ন করে তিন বছরের অবুঝ শিশুটি। দিন দিন বড় হচ্ছে সাঈদ, বাবা-মায়ের ইচ্ছায় কিছু লিখতে গেলে কষ্ট হয় তার। সাঈদের পিতা সুমন মিয়া বলেন, ‘এসময় আমরা তাকে নানা-ভাবে বুঝিয়েছি, যে হাত আছে সেটা দিয়েই লেখার চেষ্টা করতে।’
দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে সাঈদকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন অনেকে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও প্রথমদিকে চিকিৎসা বিষয়ে সহযোগিতা করেছে। সাঈদের বাবা সুমন মিয়া বলেন, তখন অনেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। চিড়িয়াখানায় আমাকে চাকরি দেবে, ওর ভবিষ্যৎ করে দেবে। কিন্তু এখন আর কেউ নেই। গত রোজার ঈদের পরে চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলাম। তারা এখন আর আমাদের চেনে না। আমাদের সামর্থ্য থাকলে তাদের কাছে কোনোদিন সাহায্যের জন্য যাইতামও না, কিছু বলতামও না। আমাদের একটাই চাওয়া ওর ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে দিক। সবমিলিয়ে বর্তমানে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার। কারণ, সাইফের ডান হাতের অর্ধেক নেই। এই হাত দিয়ে কিছুই করতে পারবে না। সেসময় হাসপাতালে দেখতে এসে তাদের মধ্যে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘সাইফ বড় হলে তার কৃত্রিম হাত লাগিয়ে দেওয়া হবে।’ সেই আশায় আছে পরিবার। হাত লাগানো হলে আসল হাতের মতো না হলেও কোনোমতে চলতে পারবে সাইফ।
যা বলছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ: তবে সাঈদের পিতার অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, কিছুদিন আগে বাবা-বায়ের সঙ্গে শিশুটি চিড়িয়াখানায় এসেছিল। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। শিশুটি এখন সুস্থ আছে। তিনি বলেন, শিশুর বাবা-মায়ের ভুলে হোক আর অন্য কোনোভাবে হোক চিড়িয়াখানা থেকে হায়েনা শিশুর হাত খেয়ে ফেলেছে, অঙ্গহানি হয়েছে। আমাদের সাধ্যমতো তাৎক্ষণিক আমরা খরচ দিয়েছিলাম। আমরা এখনও খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের আর কী করার আছে? আমাদের যে সহানুভূতি থাকার কথা সেটা আছে, সবসময় থাকবে।’ চিড়িয়াখানায় শিশুর বাবা সুমনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান। অনেক নিয়মের মধ্য দিয়ে চালাতে হয়। সেরকম কোনো সুযোগ এলে, তাকে সাহায্য করার পরিস্থিতি তৈরি হলে আমাদের সহানুভূতির জায়গা থেকে আমরা করব।
যা ঘটেছিল: ২০২৩ সালের ৮ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুর নগরখাল এলাকা থেকে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যায় শিশু সাঈদ। সবাই মিলে হায়েনা দেখার সময় নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে হঠাৎ করে শিশুটি খাঁচার একদম কাছে চলে যায়। কিন্তু খাঁচার জিআই তারের নেটের ফাঁক বড় হওয়ায় তার ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দেয় সাঈদ। মুহূর্তেই শিশুর হাত কামড়ে কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে হায়েনা। এরপর শিশুটিকে তারা প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে পঙ্গুতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে দুর্ঘটনার পর হায়েনার খাঁচার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। দেড় ফুট উচ্চতার লোহার নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বাড়িয়ে ছয় ফুট করা হয়।