ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ঘুমের মধ্যেও কাজের সুযোগ দেবে এই ডিভাইস

  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

প্রযুক্তি ডেস্ক: একটি হেডব্যান্ড ডিভাইসের সহায়তায় মানুষ ঘুমানোর সময়ও কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন –এমনই দাবি মার্কিন স্টার্টআপ কোম্পানি প্রফেটিকের।
প্রফেটিকের নতুন এ ডিভাইসের নাম ‘হেলো’, যা নকশা করা হয়েছে ‘লুসিড ড্রিমিং (সচেতন অবস্থায় স্বপ্ন দেখা)’ ধারণার ভিত্তিতে। কোম্পানির দাবি, এটি পরে ঘুমানোর সময় আগের চেয়ে সচেতন হয়ে ওঠার পাশাপাশি স্বপ্নে দেখতে পাওয়া বিভিন্ন ঘটনাও নিয়ন্ত্রণের সুবিধা মিলবে। হেলোকে ‘নন-ইনভেসিভ নিউরোস্টিমুলেশন ডিভাইস’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে প্রফেটিক, যেখানে ‘বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় সমস্যার পাকাপোক্ত সমাধান’ রয়েছে। কোম্পানি দাবি করেছে, এর একমাত্র সীমাবদ্ধতা হতে পারে পরিধানকারীর কল্পনা।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর লক্ষ্য হল বিভিন্ন ‘আল্ট্রাসাউন্ড’ সংকেত ব্যবহার করে স্বপ্নের রাজ্যকে সক্রিয় করা। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এরিক ওলবার্গের দাবি, এর মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন নমুনা অনুশীলনের বা জটিল কাজের সৃজনশীল সমাধান করার সুযোগ পেতে পারেন। “লুসিড ড্রিমে আপনি পদার্থবিদ্যা, মাধ্যাকর্ষণ, শক্তি ও ভরের নিত্যতার প্রচলিত নিয়মগুলো থেকে মুক্ত থাকেন।” –উল্লেখ রয়েছে কোম্পানির ওয়েবসাইটে।
“বিজ্ঞান, গণিত ও শিল্পের ইতিহাসের আলোকিত ব্যক্তিরা নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর জন্য যে তাদের উজ্জ্বল স্বপ্নকে কৃতিত্ব দেন, তার যথার্থ কারণ রয়েছে।”
হেডব্যান্ডটি তৈরির জন্য এরইমধ্যে ১০ লাখ ডলারের বেশি তহবিল পেয়েছে প্রফেটিক। এমনকি ইলন মাস্কের নিউরালিংক ডিভাইসের এক নকশাকারীর সঙ্গেও কোম্পানিটি কাজ করছে বলে খবর চাউর হয়েছে। বিজ্ঞানিদের অনুমান বলছে, বিশ্বের ৭০ শতাংশ মানুষই জীবনে অন্তত একবার হলেও লুসিড ড্রিমিংয়ের অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকেন। আর সাম্প্রতিক গবেষণায় এ কাল্পনিক পরিস্থিতিকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে লুসিড ড্রিমের প্রবণতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনটি উপায় পরীক্ষা করে দেখেছেন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডেলেডের বিজ্ঞানীরা। এর প্রথমটি হলো, কোনো ব্যক্তির আশপাশের পরিবেশ একাধিকবার পর্যবেক্ষণ করা, যার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় যে, তিনি সেই পরিবেশ নিজের স্বপ্নে দেখতে পাচ্ছেন কি না। দ্বিতীয় উপায়ে মানুষকে ঘুমানোর পাঁচ ঘণ্টা পর অ্যালার্ম সেট করতে বলা হয়। পরবর্তীতে, ঘুমের ‘আরইএম (র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট, যা স্বপ্ন দেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ)’ পর্যায়ে যেতে তাকে আবার ঘুমিয়ে পড়তে হয়। এ ছাড়া, তৃতীয় উপায়ে ‘আমি স্বপ্ন দেখার সময় মনে রাখব যে আমি স্বপ্ন দেখছি’-এ লাইনটি বার বার নিজের কাছে উচ্চারণ করতে হয়। এইসব পরীক্ষায় উঠে এসেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৪৬ শতাংশই তৃতীয় উপায় অবলম্বন করার সময় লুসিড ড্রিমের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। তবে, প্রফেটিক এমন সক্ষমতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রথম কোম্পানি, বিষয়টি এমন নয়। এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানিই গ্রাহকদেরকে নিয়মিত এমন অভিজ্ঞতা দেওয়ার মতো পণ্য বাজারে আনার কথা বলেছে। অবশ্য, শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়নি। মার্কিন সাময়িকী ফরচুনের তথ্য অনুসারে, প্রফেটিকের হেলো ডিভাইসের সম্ভাব্য দাম দেড় থেকে দুই হাজার ডলারের মধ্যে। আর এর উন্মোচন ঘটবে ২০২৫ সালে। এ ছাড়া, গ্রাহকরা একশ ডলার জমা রেখে ডিভাইসটি এখন থেকেই বুকিং দিতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

 

 

 

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

ঘুমের মধ্যেও কাজের সুযোগ দেবে এই ডিভাইস

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

প্রযুক্তি ডেস্ক: একটি হেডব্যান্ড ডিভাইসের সহায়তায় মানুষ ঘুমানোর সময়ও কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন –এমনই দাবি মার্কিন স্টার্টআপ কোম্পানি প্রফেটিকের।
প্রফেটিকের নতুন এ ডিভাইসের নাম ‘হেলো’, যা নকশা করা হয়েছে ‘লুসিড ড্রিমিং (সচেতন অবস্থায় স্বপ্ন দেখা)’ ধারণার ভিত্তিতে। কোম্পানির দাবি, এটি পরে ঘুমানোর সময় আগের চেয়ে সচেতন হয়ে ওঠার পাশাপাশি স্বপ্নে দেখতে পাওয়া বিভিন্ন ঘটনাও নিয়ন্ত্রণের সুবিধা মিলবে। হেলোকে ‘নন-ইনভেসিভ নিউরোস্টিমুলেশন ডিভাইস’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে প্রফেটিক, যেখানে ‘বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় সমস্যার পাকাপোক্ত সমাধান’ রয়েছে। কোম্পানি দাবি করেছে, এর একমাত্র সীমাবদ্ধতা হতে পারে পরিধানকারীর কল্পনা।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর লক্ষ্য হল বিভিন্ন ‘আল্ট্রাসাউন্ড’ সংকেত ব্যবহার করে স্বপ্নের রাজ্যকে সক্রিয় করা। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এরিক ওলবার্গের দাবি, এর মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন নমুনা অনুশীলনের বা জটিল কাজের সৃজনশীল সমাধান করার সুযোগ পেতে পারেন। “লুসিড ড্রিমে আপনি পদার্থবিদ্যা, মাধ্যাকর্ষণ, শক্তি ও ভরের নিত্যতার প্রচলিত নিয়মগুলো থেকে মুক্ত থাকেন।” –উল্লেখ রয়েছে কোম্পানির ওয়েবসাইটে।
“বিজ্ঞান, গণিত ও শিল্পের ইতিহাসের আলোকিত ব্যক্তিরা নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর জন্য যে তাদের উজ্জ্বল স্বপ্নকে কৃতিত্ব দেন, তার যথার্থ কারণ রয়েছে।”
হেডব্যান্ডটি তৈরির জন্য এরইমধ্যে ১০ লাখ ডলারের বেশি তহবিল পেয়েছে প্রফেটিক। এমনকি ইলন মাস্কের নিউরালিংক ডিভাইসের এক নকশাকারীর সঙ্গেও কোম্পানিটি কাজ করছে বলে খবর চাউর হয়েছে। বিজ্ঞানিদের অনুমান বলছে, বিশ্বের ৭০ শতাংশ মানুষই জীবনে অন্তত একবার হলেও লুসিড ড্রিমিংয়ের অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকেন। আর সাম্প্রতিক গবেষণায় এ কাল্পনিক পরিস্থিতিকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে লুসিড ড্রিমের প্রবণতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনটি উপায় পরীক্ষা করে দেখেছেন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডেলেডের বিজ্ঞানীরা। এর প্রথমটি হলো, কোনো ব্যক্তির আশপাশের পরিবেশ একাধিকবার পর্যবেক্ষণ করা, যার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় যে, তিনি সেই পরিবেশ নিজের স্বপ্নে দেখতে পাচ্ছেন কি না। দ্বিতীয় উপায়ে মানুষকে ঘুমানোর পাঁচ ঘণ্টা পর অ্যালার্ম সেট করতে বলা হয়। পরবর্তীতে, ঘুমের ‘আরইএম (র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট, যা স্বপ্ন দেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ)’ পর্যায়ে যেতে তাকে আবার ঘুমিয়ে পড়তে হয়। এ ছাড়া, তৃতীয় উপায়ে ‘আমি স্বপ্ন দেখার সময় মনে রাখব যে আমি স্বপ্ন দেখছি’-এ লাইনটি বার বার নিজের কাছে উচ্চারণ করতে হয়। এইসব পরীক্ষায় উঠে এসেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৪৬ শতাংশই তৃতীয় উপায় অবলম্বন করার সময় লুসিড ড্রিমের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। তবে, প্রফেটিক এমন সক্ষমতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রথম কোম্পানি, বিষয়টি এমন নয়। এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানিই গ্রাহকদেরকে নিয়মিত এমন অভিজ্ঞতা দেওয়ার মতো পণ্য বাজারে আনার কথা বলেছে। অবশ্য, শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়নি। মার্কিন সাময়িকী ফরচুনের তথ্য অনুসারে, প্রফেটিকের হেলো ডিভাইসের সম্ভাব্য দাম দেড় থেকে দুই হাজার ডলারের মধ্যে। আর এর উন্মোচন ঘটবে ২০২৫ সালে। এ ছাড়া, গ্রাহকরা একশ ডলার জমা রেখে ডিভাইসটি এখন থেকেই বুকিং দিতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট।