ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবনও হতে পারে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্য অসত্য, অপমানজনক: আইনমন্ত্রী তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত : প্রধানমন্ত্রী অপরাধীদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির হচ্ছে, বড় বড় জায়গার ফোন আসছে : এমপি আজিমের মেয়ে ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ে ব্যবস্থা বেনজীর পরিবারের আরও সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ বাংলাদেশ থেকে শিশু যৌন নিপীড়নের ২৫ লাখ রিপোর্ট গেছে যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ কমেছে সেন্ট্রাল এসিতে বাড়তি শুল্ক আরোপে খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ব্রামা বেশি মাংস বহনে সেরা সমাধান আরএফএল কার্গো বক্স

গরিবের ঝুপড়ি হোটেলেও বেড়েছে খাবারের দাম

  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • ১৩১ বার পড়া হয়েছে

মহানগর প্রতিবেদন : দুই প্লেট ভাত, এক গোল্লা আলুভর্তা, ডাল আর অর্ধেক ডিম ভাজা দিয়ে ভাত খাওয়া শেষে হাত ধুতে ধুতে বিল কত হলো জানতে চাইলেন রিকশাচালক মো. আবু হানিফ (৫২)। দোকানির মুখে ৬৫ টাকা বিলের কথা শুনে চমকে উঠলেন তিনি। আমতা আমতা করে একটু উঁচু স্বরে বললেন, ‘কীভাবে এত টাকা হলো?’ দোকানির উত্তর, ‘দুই প্লেট ভাত ৩০ টাকা, আলুভর্তা ১০ টাকা, ডাল ৫ টাকা, আর অর্ধেক ডিম ভাজা ২০ টাকা।’
রিকশাচালক আবু হানিফের জবাব, ডাল তো আগে ফ্রি ছিল। আলুভর্তার গোল্লা ছিল ৫ টাকা। অর্ধেক ডিম ভাজা ১৫ টাকা, আর ভাতের প্লেটের দাম ছিল ১০ টাকা। সেই হিসাবে বিল হয়েছে ৪০ টাকা। আপনি বেশি চান কেন? আবু হানিফের কথায় বিরক্ত হয়ে দোকানি জানালেন, বাজার-সদাই করেন না নাকি? ডাল, ডিম, আলুসহ সবকিছু বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। তাই এখানেও দাম বেড়েছে। এখন আর কোনও কিছু ফ্রি নাই।
নিরুপায় হয়ে পকেট থেকে দুই টাকা, পাঁচ টাকা ও ১০ টাকার নোট বের করে সব মিলিয়ে হোটেল মালিকের হাতে ৫৩ টাকা দিয়ে আবু হানিফ বললেন, ‘আমার কাছে আর নেই।’ এমন কথা শুনেই দোকানি ধমক দিয়ে বললেন, খাওয়ার আগে দাম জিজ্ঞেস করতে পারেন না? পরে বললে তো হবে না। সকাল সকাল ঝামেলা করতে এসেছেন! এরপর কিছু না বলে চুপচাপ গামছা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন রিকশাচালক হানিফ।
দোকানির সঙ্গে রিকশাচালকের কথোপকথনের পুরো ঘটনা ঘটে বাংলা ট্রিবিউনের এ প্রতিবেদকের সামনেই। দোকানির সঙ্গে কী নিয়ে বাকবিত-া হয়েছে, জানতে চাইলে আবু হানিফ এক কথায় বলেন, ‘দাম বেশি রেখেছে তাই।’
তিনি বলেন, ‘সকালে পরোটা-ভাজি খাওয়ার চেয়ে ডাল-আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাওয়া ভালো। পেট ভরে। রিকশা চালাতে দম পাওয়া যায়। তাই যখন যেখানে থাকি কম টাকায় আশেপাশে থেকে ভাত খাই। কিন্তু আজ খাওয়ার পর শুনি দাম বেড়েছে। আলুভর্তা, ভাত ও ডাল সব কিছুর দাম বাড়িয়েছে। খাওয়ার পর এটা শুনে মনে হলো মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। আমার পকেটে বেশি টাকা ছিল না। তাই একটু ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। শুধু ডাল-ভাতের দামটা কম হলে অন্তত শান্তিতে ভাত খাইতে পারতাম। মাছ-মাংস দিয়ে ভাত খেতে এখন অনেক কষ্ট হয়ে যায়। সারা দিন যা আয় করি, যদি মাছ দিয়ে ভাত খেতে যাই, তাহলে অর্ধেক টাকা চলে যাবে। বাড়িতে কী পাঠাবো?’
দৈনিক আয় কেমন হয়-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বয়স হয়েছে, কোমর আর হাঁটুর ব্যথার কারণে আগের মতো রিকশা চালাতে পারি না। যা আয় করি, অসুস্থ স্ত্রী আর তিন সন্তানের লেখাপড়ার পেছনে খরচ হয়ে যায়। বড় মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। একজন এলাকার হাইস্কুলে, আরেকজন সরকারি কলেজে পড়াশোনা করছে। রিকশা চালিয়ে যা আয় করি, দুই-এক সপ্তাহ পর তা বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। নয়তো চুরি বা ছিনতাই হয়ে যায়।’
চুরি-ছিনতাই কোথায় হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গুলিস্তান এলাকায় থাকলে চুরি হয়। পুরান ঢাকার সদরঘাট বা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকলে ছিনতাই হয়। একদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পাঁচ-ছয় জন আমাকে মেরে সব টাকা নিয়ে গেছে। তখন আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ ছিল। তার ওষুধের জন্য তিন হাজার ছয়শ’ টাকা জমিয়েছিলাম। সেটা নিয়ে নেয় তারা।’
দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে ঝুপড়ি হোটেলের মালিক রজ্জব আলী শরীফ বলেন, ‘আগে আলু, ডাল, ডিমসহ সবকিছুর দাম নাগালের মধ্যে ছিল। এ জন্য হোটেলে খাবারের দাম ছিল কম। ডাল ফ্রি ছিল। ডিম ভাজি, ভাতের প্লেট সবকিছুর দাম কম ছিল। এখন আর ফ্রি দিলে পোষায় না। দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। স্টাফদের বেতন বেড়েছে। ব্যবসা করেই আমাদের চলতে হয়।’ প্রতিদিন ৫০-৬০ জন খেয়ে কম টাকা দিয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে ফাও খেয়ে চলে যায়। তিন জন স্টাফের বেতন দিতে হয়। ছাত্রলীগ নেতাদের টাকা দিতে হয়, ফ্রিতে খাওয়াতে হয়। পুলিশ-আনসারও টাকা নেয়, ফ্রি খায়। সব মিলিয়ে আমাদের টানাটানির মধ্যে চলতে হয়। মাঝে হোটেল বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবার মনে হলো, আমার হোটেলে মানুষ কম দামে খেতে পারে। অন্য হোটেলে খাবারের দাম আরও বেশি। গরিব মানুষ অন্তত দুই বেলা খেতে পারবে। এই ভেবে আবার হোটেল চালুর সিদ্ধান্ত নেই।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ফুটপাতের খাবার হোটেলে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে সে সম্পর্কে কথা হয় তাহের মুন্সী নামের আরেকজন দিনমজুরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সব জায়গাতেই এখন দাম বেশি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো। এছাড়া খেটে খাওয়া মানুষের আর কোনও দাবি নাই। তিন বেলা ভাত খাওয়ার জায়গায় এখন আমরা কোনোভাবে দুই বেলা খাচ্ছি। দৈনিক পাঁচশ’ টাকা আয় করলে যদি দেড়-দুইশ’ টাকা খেতেই খরচ হয়, তাহলে সংসার চালাবো কীভাবে?’
পুরান ঢাকার এই ঝুপড়ি হোটেলে খেতে এসে মাহবুব শান্ত নামে কবি নজরুল কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে যে শুধু রিকশাচালক আর দিনমজুররা খায় তা না। আশেপাশের যত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেখানকার শিক্ষার্থীরাদের অনেকেই এই হোটেলের খাবার খায়। এমন অসংখ্য শিক্ষার্থী আছে, যারা ক্লাস শুরুর আগে ২০-৩০ টাকা দিয়ে সকালে ভাত খেতো। কিন্তু দাম বাড়ার কারণে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার লার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবনও হতে পারে

গরিবের ঝুপড়ি হোটেলেও বেড়েছে খাবারের দাম

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মহানগর প্রতিবেদন : দুই প্লেট ভাত, এক গোল্লা আলুভর্তা, ডাল আর অর্ধেক ডিম ভাজা দিয়ে ভাত খাওয়া শেষে হাত ধুতে ধুতে বিল কত হলো জানতে চাইলেন রিকশাচালক মো. আবু হানিফ (৫২)। দোকানির মুখে ৬৫ টাকা বিলের কথা শুনে চমকে উঠলেন তিনি। আমতা আমতা করে একটু উঁচু স্বরে বললেন, ‘কীভাবে এত টাকা হলো?’ দোকানির উত্তর, ‘দুই প্লেট ভাত ৩০ টাকা, আলুভর্তা ১০ টাকা, ডাল ৫ টাকা, আর অর্ধেক ডিম ভাজা ২০ টাকা।’
রিকশাচালক আবু হানিফের জবাব, ডাল তো আগে ফ্রি ছিল। আলুভর্তার গোল্লা ছিল ৫ টাকা। অর্ধেক ডিম ভাজা ১৫ টাকা, আর ভাতের প্লেটের দাম ছিল ১০ টাকা। সেই হিসাবে বিল হয়েছে ৪০ টাকা। আপনি বেশি চান কেন? আবু হানিফের কথায় বিরক্ত হয়ে দোকানি জানালেন, বাজার-সদাই করেন না নাকি? ডাল, ডিম, আলুসহ সবকিছু বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। তাই এখানেও দাম বেড়েছে। এখন আর কোনও কিছু ফ্রি নাই।
নিরুপায় হয়ে পকেট থেকে দুই টাকা, পাঁচ টাকা ও ১০ টাকার নোট বের করে সব মিলিয়ে হোটেল মালিকের হাতে ৫৩ টাকা দিয়ে আবু হানিফ বললেন, ‘আমার কাছে আর নেই।’ এমন কথা শুনেই দোকানি ধমক দিয়ে বললেন, খাওয়ার আগে দাম জিজ্ঞেস করতে পারেন না? পরে বললে তো হবে না। সকাল সকাল ঝামেলা করতে এসেছেন! এরপর কিছু না বলে চুপচাপ গামছা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন রিকশাচালক হানিফ।
দোকানির সঙ্গে রিকশাচালকের কথোপকথনের পুরো ঘটনা ঘটে বাংলা ট্রিবিউনের এ প্রতিবেদকের সামনেই। দোকানির সঙ্গে কী নিয়ে বাকবিত-া হয়েছে, জানতে চাইলে আবু হানিফ এক কথায় বলেন, ‘দাম বেশি রেখেছে তাই।’
তিনি বলেন, ‘সকালে পরোটা-ভাজি খাওয়ার চেয়ে ডাল-আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাওয়া ভালো। পেট ভরে। রিকশা চালাতে দম পাওয়া যায়। তাই যখন যেখানে থাকি কম টাকায় আশেপাশে থেকে ভাত খাই। কিন্তু আজ খাওয়ার পর শুনি দাম বেড়েছে। আলুভর্তা, ভাত ও ডাল সব কিছুর দাম বাড়িয়েছে। খাওয়ার পর এটা শুনে মনে হলো মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। আমার পকেটে বেশি টাকা ছিল না। তাই একটু ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। শুধু ডাল-ভাতের দামটা কম হলে অন্তত শান্তিতে ভাত খাইতে পারতাম। মাছ-মাংস দিয়ে ভাত খেতে এখন অনেক কষ্ট হয়ে যায়। সারা দিন যা আয় করি, যদি মাছ দিয়ে ভাত খেতে যাই, তাহলে অর্ধেক টাকা চলে যাবে। বাড়িতে কী পাঠাবো?’
দৈনিক আয় কেমন হয়-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বয়স হয়েছে, কোমর আর হাঁটুর ব্যথার কারণে আগের মতো রিকশা চালাতে পারি না। যা আয় করি, অসুস্থ স্ত্রী আর তিন সন্তানের লেখাপড়ার পেছনে খরচ হয়ে যায়। বড় মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। একজন এলাকার হাইস্কুলে, আরেকজন সরকারি কলেজে পড়াশোনা করছে। রিকশা চালিয়ে যা আয় করি, দুই-এক সপ্তাহ পর তা বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। নয়তো চুরি বা ছিনতাই হয়ে যায়।’
চুরি-ছিনতাই কোথায় হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গুলিস্তান এলাকায় থাকলে চুরি হয়। পুরান ঢাকার সদরঘাট বা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকলে ছিনতাই হয়। একদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পাঁচ-ছয় জন আমাকে মেরে সব টাকা নিয়ে গেছে। তখন আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ ছিল। তার ওষুধের জন্য তিন হাজার ছয়শ’ টাকা জমিয়েছিলাম। সেটা নিয়ে নেয় তারা।’
দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে ঝুপড়ি হোটেলের মালিক রজ্জব আলী শরীফ বলেন, ‘আগে আলু, ডাল, ডিমসহ সবকিছুর দাম নাগালের মধ্যে ছিল। এ জন্য হোটেলে খাবারের দাম ছিল কম। ডাল ফ্রি ছিল। ডিম ভাজি, ভাতের প্লেট সবকিছুর দাম কম ছিল। এখন আর ফ্রি দিলে পোষায় না। দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। স্টাফদের বেতন বেড়েছে। ব্যবসা করেই আমাদের চলতে হয়।’ প্রতিদিন ৫০-৬০ জন খেয়ে কম টাকা দিয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে ফাও খেয়ে চলে যায়। তিন জন স্টাফের বেতন দিতে হয়। ছাত্রলীগ নেতাদের টাকা দিতে হয়, ফ্রিতে খাওয়াতে হয়। পুলিশ-আনসারও টাকা নেয়, ফ্রি খায়। সব মিলিয়ে আমাদের টানাটানির মধ্যে চলতে হয়। মাঝে হোটেল বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবার মনে হলো, আমার হোটেলে মানুষ কম দামে খেতে পারে। অন্য হোটেলে খাবারের দাম আরও বেশি। গরিব মানুষ অন্তত দুই বেলা খেতে পারবে। এই ভেবে আবার হোটেল চালুর সিদ্ধান্ত নেই।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ফুটপাতের খাবার হোটেলে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে সে সম্পর্কে কথা হয় তাহের মুন্সী নামের আরেকজন দিনমজুরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সব জায়গাতেই এখন দাম বেশি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো। এছাড়া খেটে খাওয়া মানুষের আর কোনও দাবি নাই। তিন বেলা ভাত খাওয়ার জায়গায় এখন আমরা কোনোভাবে দুই বেলা খাচ্ছি। দৈনিক পাঁচশ’ টাকা আয় করলে যদি দেড়-দুইশ’ টাকা খেতেই খরচ হয়, তাহলে সংসার চালাবো কীভাবে?’
পুরান ঢাকার এই ঝুপড়ি হোটেলে খেতে এসে মাহবুব শান্ত নামে কবি নজরুল কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে যে শুধু রিকশাচালক আর দিনমজুররা খায় তা না। আশেপাশের যত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেখানকার শিক্ষার্থীরাদের অনেকেই এই হোটেলের খাবার খায়। এমন অসংখ্য শিক্ষার্থী আছে, যারা ক্লাস শুরুর আগে ২০-৩০ টাকা দিয়ে সকালে ভাত খেতো। কিন্তু দাম বাড়ার কারণে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।’