করোনায় সম্পদ বেড়েছে কোটিপতিদের, কমেছে গরিবদের

করোনায় সম্পদ বেড়েছে কোটিপতিদের, কমেছে গরিবদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসে ধনীদের চেয়ে গরিবরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফামের তথ্য বলছে, সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে যখন বিপর্যয়কর অবস্থা, তখন ১ হাজার শীর্ষ ধনী মাত্র ৯ মাসে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন। তবে করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বিশ্বের কয়েকশ কোটি দরিদ্র মানুষের এক দশকের বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
গত সোমবার অক্সফামের প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) উদ্বোধনী দিনে বিশ্বে ‘অসমতা ভাইরাস’ নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি চলার মধ্যেই গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এশিয়ায় ৭১১ জন শত কোটিপতির সম্পদ বেড়েছে দেড় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কোভিড–১৯ এর প্রভাবে দরিদ্র হয়ে গেছেন এমন ১৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রত্যেককে এই অর্থ দিয়ে ৯ হাজার ডলারের এক একটি চেক দেওয়া সম্ভব।

আর পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৬১০ জন কোটিপতির সম্পদ বেড়েছে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এ অর্থ দিয়ে করোনাকালে দরিদ্র হয়ে পড়া এখানকার ৬ কোটি ৪০ লাখ লোকের সবাইকে ২০ হাজার ডলারের এক একটি চেক দেওয়া সম্ভব।

এতে বলা হয়, কোভিডের প্রভাবে সৃষ্ট মন্দা শীর্ষ ধনীদের জন্য এরইমধ্যে কেটে গেছে। এ মহামারি শুরুর পর বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর সম্মিলিত সম্পদ বেড়েছে অর্ধ ট্রিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলার। এই অর্থে সবাইকে করোনা টিকা দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি এই মহামারির কারণে কাউকে দরিদ্র হতে হবে না—সে বিষয়টিও এই অর্থ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড–১৯ একযোগে বিশ্বের প্রায় সব দেশে ধনী–গরিবের মধ্যে আর্থিক বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলেছে। এক শতাব্দীর বেশি সময় আগে থেকে দেশে দেশে অর্থনৈতিক অসমতা দেখা দেওয়া শুরু হয়। তবে এই প্রথম একই সময়ে প্রায় প্রতিটি দেশে অসমতা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। অসমতা বাড়ার অর্থ হলো, বিশ্বের যে শীর্ষ ১০০০ ধনী (যাদের অধিকাংশই শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ও শত কোটিপতি) মাত্র ৯ মাসে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন, তাদের মতো কোভিড–পূর্ব অর্থনৈতিক অবস্থায় ফিরতে দরিদ্র মানুষের অন্তত ১৪ গুণ বেশি সময় লাগতে পারে।

অক্সফাম বলছে, করোনা মহামারি চলার মধ্যেই গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এশিয়ায় ৭১১ জন শত কোটিপতির সম্পদ বেড়েছে দেড় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কোভিড–১৯–এর প্রভাবে দরিদ্র হয়ে গেছেন এমন ১৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রত্যেককে এই অর্থ দিয়ে ৯ হাজার ডলারের এক একটি চেক দেওয়া সম্ভব।

এশিয়ার দরিদ্রতম অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ায় একই সময়ে ১০১ জন শত কোটিপতির সম্পদ বেড়েছে ১৭৪ বিলিয়ন ডলার। করোনাকালে দরিদ্র হয়ে পড়া এ অঞ্চলের ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের প্রত্যেককে ১ হাজার ৮০০ ডলারের চেক দেওয়ার জন্য এই অর্থ যথেষ্ট।

এই মহামারিতে বিশ্বে গত ৯০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থানের সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়েছে। বর্তমানে কোটি কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন বা কাজের বাইরে রয়েছেন।

এখন পর্যন্ত করোনার সর্বাধিক ধাক্কাটা পড়েছে নারীদের ওপর। বিশ্বজুড়ে কর্মজীবী নারীদের বেশিরভাগ অংশ অনিশ্চিত বা নিরাপত্তাহীন পেশায় যুক্ত। বেতনও তুলনামূলক কম পান তারা। স্বাভাবিকভাবে এ ধাক্কা লেগেছে তাদেরই বেশি। বিভিন্ন খাতে তাদের অবস্থান পুরুষের সমান হলে কোভিডের প্রভাবে ১১ কোটি ২০ লাখ নারীকে উপার্জন বা চাকরি হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে পড়তে হতো না। বিশ্বে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে কর্মরত জনশক্তির প্রায় ৭০ শতাংশ নারীরা। কিন্তু প্রায়ই তারা কম আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। এ অবস্থা তাদের বেশি ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।

অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা বুচার বলেন, ‘করোনা মহামারি শুরুর পর আমরা মানুষের মধ্যে বৈষম্য ব্যাপকভাবে বাড়তে দেখেছি। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে দেখা দেওয়া গভীর বিভক্তি ভাইরাসের মতোই প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।’ তিনি বলেন, চাতুর্যের অর্থনীতিতে সম্পদ দরিদ্রদের কাছ থেকে ধনীদের হাতে চলে যাচ্ছে, যারা মহামারিতেও বিলাসী জীবন যাপন করছেন।

Please follow and like us: