The Daily Ajker Prottasha

আগামীকাল ঢাকায় আসছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0 0
Read Time:5 Minute, 47 Second

প্রত্যাশা ডেস্ক : দুদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আগামীকাল শনিবার (৬ আগস্ট) তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, ৬ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন ওয়াং ই। ওই সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কম্বোডিয়ায় একটি সম্মেলনে থাকবেন বলে ওয়াং ইকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে পারবেন না। সেজন্য তাকে স্বাগত জানাবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে আগামী ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হবে। এর আগে সকাল ৮ টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে ঢাকা-বেইজিংয়ের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর আসন্ন ঢাকা সফরকালে ৮টি চুক্তি ও সমঝোতা সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এই সফরে ৮টি চুক্তি ও সমঝোতার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এসব সমঝোতা ও চুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কাজ করছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কয়টি চুক্তি ও সমঝোতা সই হবে সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে ৫ থেকে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা সইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক সহযোগিতা, দুর্যোগ প্রতিরোধ বিষয়ক সহযোগিতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সহযোগিতা ও দুই দেশের মধ্যে টেলিভিশন প্রোগ্রাম বিনিময় বিষয়ক সহযোগিতা। এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ঢাকা সফরে আসেন। সে সময় দুই দেশের মধ্যে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে এসবের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে সে সময়ের মতো এত বেশিসংখ্যক চুক্তি ও সমঝোতা সই হবে না। এছাড়া এখন কোনো ধরনের ঋণ চুক্তি করতেও আগ্রহী নয় ঢাকা। সে কারণে এবারের সফরে চীনের সঙ্গে কোনো ঋণ সহযোগিতা নিয়েও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ৭ আগস্ট তিনি ঢাকা ছেড়ে যাবেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরটিকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে থেকেই চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সম্প্রতি তাইওয়ান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। তার সফরে রোহিঙ্গা ইস্যু, চীনের সহায়তায় বিভিন্ন চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
তাইওয়ান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং এই অঞ্চলে ও এর বাইরে শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সাথে জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আহ্বান জানায়।
মার্কিন কংগ্রেসের নি¤œকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published.