জনতুষ্টির বাজেটে চাপ বাড়বে ব্যাংক খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার জনতুষ্টির  বাজেট দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তবে  এই বাজেটে চাপে পড়বে দেশে ব্যাংকিং খাত। সাধারণ জনগণকে খুশি রাখতে বাজেটে একদিকে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হতে পারে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের খুশি রাখতে করপোরেট করের হারও কমানো হতে পারে। এর ফলে বাজেটে যে ঘাটতি হবে।  এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিতে হবে। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লি¬ষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকঋণের টার্গেট ধরা হচ্ছে ৫৯ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে ঋণ নেওয়ার টার্গেট থেকে দ্বিগুণেরও বেশি। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় তিনগুণ। এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার ব্যাংক থেকে যদি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা চাহিদা মতো ঋণ পাবে না। যদিও তারল্য সংকটকে কেন্দ্র এখন ব্যাংক খাতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাত ব্যাংকঋণ থেকে বঞ্চিত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও প্রভাব পড়বে।’
জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (সংশোধিত বাজেটে) ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৪ কোটি টাকা। অবশ্য মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫৯ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক ঋণ নেওয়া হবে চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটে এই খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা বেশি। সংশোধিত বাজেটের চেয়ে এই অঙ্ক ৩৯ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা বেশি।
সরকারের ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়া হয়েছিল মাত্র ৫১৪ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ঋণের টার্গেট ছিল ৩১ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঋণ নেওয়ার টার্গেট ছিল ২৩ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। অবশ্য সম্প্রতি জনতা ব্যাংকের এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটে জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘এবার নির্বাচনি বছর। নির্বাচনি বছরে নতুন উদ্যোগ নেওয়া যায় না। আগামী বাজেটে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার চেয়ে পুরনোগুলো শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হবে।’

Please follow and like us:
0