রবি. ডিসে ৮, ২০১৯

সাংস্কৃতিক শিক্ষার অভাবে একশ্রেণীর শিক্ষিত মানুষ যখন হিংস্রতার পথে, তখনই আমি এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি : মো. ইমামুল কবীর শান্ত

সাংস্কৃতিক শিক্ষার অভাবে একশ্রেণীর শিক্ষিত মানুষ যখন হিংস্রতার পথে, তখনই আমি এ বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি : মো. ইমামুল কবীর শান্ত

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাংস্কৃতিক শিক্ষার অভাবে এদেশের একশ্রেণীর শিক্ষিত মানুষ যখন হিংস্ররতার পথ অবলম্বন করেছে; শিক্ষিত, সার্টিফিকেট সর্বস্বরা যখন দিশেহারা, বেকার, ঠিক তখনই আমি এ বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি। কথাগুলো বলেছেন শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত।
শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজি বিভাগের পুনর্মিলনী ২০১৭ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জরিপ গতকাল বিকেল চারটায় ঢাকার উত্তরা ‘পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারে’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত থেকেই জনাব শান্ত এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী মো. মফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রার স্থপতি হোসনে আরা রহমান, ফ্যাকাল্টি অব ডিজাইন এন্ড টেকনোলজির ডিন প্রফেসর ড. এম আবদুল হালীম শেখ, আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক মো. নুরুল মুকাদ্দিম, সিনিয়র শিক্ষক মো. আবদুল হাই এবং বিভাগীয় প্রধান ড. মাসুদ আল নুর।
শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. ইমামুল কবীর শান্ত বলেন, ‘বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে দেশের প্রথম সৃজনশীল, কর্মমুখী ও সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতিসাধন করতে চেয়েছে; এখনো বন্ধ হয়নি সেই ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, মানুষ-মানুষে সাম্য। শান্ত-মারিয়াম বিশ^বিদ্যালয় সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, ইতোমধ্যে মানুষের এবং রাষ্ট্রের আস্থার্জনে সক্ষম হয়েছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জনাব শান্ত বলেন, তোমরা আমার সন্তানতুল্য, আমি জীবনের সর্বস্ব ত্যাগ করে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। এর ভালো-মন্দের সাথে তোমরা জড়িয়ে আছো। এটা তোমাদের সম্পদ, দেশের সম্পদ। এটা কীভাবে আরো উন্নত হবে তা দেখভালের দায়িত্বও তোমাদের। সাংস্কৃতিক শিক্ষার অভাবে এদেশের একশ্রেণীর শিক্ষিত মানুষ যখন হিং¯্রতার পথ অবলম্বন করেছে; শিক্ষিত, সার্টিফিকেট সর্বস্বরা যখন দিশেহারা, বেকার, ঠিক তখনই আমি এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি। দেশে এখনো প্রায় আশি লক্ষ শিক্ষিত বেকার রয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে তারা যেন হতাশার গহ্বরে তলিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের বিশাল কর্মকা- পরিচালিত হচ্ছে। এদেশ আমাদের মায়ের মত, এদেশের মুখ উজ্জ্বল হলে মায়ের মুখ উজ্জ্বল হবে। আর এটাই আমাদের পরমব্রত এবং এটাই সুখ। এ সুখের জন্যে আমাদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও সততার চর্চা করতে হবে। বিশ^বিদ্যালয়ের কাজ শিক্ষার্থীকে স্বপ্ন দেখানো, পথ দেখানো, জ্ঞানের জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, পথ চলতে চলতে যেন থেমে না যায়, সেই শক্তি-সাহস যোগানো। শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভবত সে কাজটি নিষ্ঠার সাথে করতে পেরেছে। স্বপ্ন দেখতে হবে, স্বপ্নই মানুষকে বিশাল করে, ধৈর্যশীল করে। আমরা বিজয়ী জাতি, পরপর দুটি বিশ^যুদ্ধে পরাস্ত হবার পরও যদি জার্মানিরা মাথা উঁচু করে এখনো দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, আমরা কেন পারবো না? জীবনের সর্বক্ষেত্রে তোমরা সমস্ত বাধাকে সাহসের সাথে মোকাবেলা করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছুবে, এটাই আমার দোয়া, এটাই আমার প্রেরণা।’
ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী মো. মফিজুর রহমান বলেন, এ এলাকার প্রথম এবং অন্যতম প্রধান ডিজাইন ইউনিভার্সিটি হিসেবে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি যেমন সর্বজনস্বীকৃত, তেমনি বিভাগগুলির মধ্যে পথিকৃৎ হলো অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজি বিভাগ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়ার মতো মানুষ তৈরি করা। তোমরা আগামীতে দেশের সর্বক্ষেত্রে জাতিকে পথ দেখাবে আমি এ আশাবাদ ব্যক্ত করি।’
বিকেল চারটা থেকে চলে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের নিবন্ধন। সাড়ে পাঁচটায় শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন’ প্রদর্শিত হয়। এরপর শুরু হয় সেলফ এসেসমেন্ট বিষয়ক প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জরিপবিষয়ক অনুষ্ঠান। এটি পরিচালনা করেন আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদ ও অতিরিক্ত পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক। উপস্থাপনায় ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সুবর্ণ নওয়াদীর।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সঙ্গীত পরিবেশন করেন রুদমিলা নওরীন, ফাতেমা তুজ জোহরা ও আবুল হাসনাত। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন প্রিতম, মৌমিতা ও তাদের দল।

Please follow and like us:
3