মঙ্গল. অক্টো ১৫, ২০১৯

আমাদের শিক্ষার্থীরাই আমার আইডি কার্ড শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মো. ইমামুল কবীর শান্ত

আমাদের শিক্ষার্থীরাই আমার আইডি কার্ড শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মো. ইমামুল কবীর শান্ত

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চ্যালেঞ্জটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আমার যে সহযোদ্ধাদের হারিয়েছি, তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশে কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ফ্যাশন ডিজাইনের মতো ক্রিয়েটিভ শিক্ষা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে এক শ্রেণীর মানুষ আমাকে বাধা দেয়। তাদের অনেকে বলেন, এসব শিক্ষা দেশের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে। কিন্তু আমি পিছপা হইনি। সকল বাধা উপেক্ষা করে দেশে ফ্যাশন ডিজাইনের মতো কর্মমুখী শিক্ষার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করি। পরবর্তীতে এই শিক্ষার্থীরা যখন দেশব্যাপী নিজেদেরকে সেরা পেশাজীবী হিসেবে প্রমাণ করতে সমর্থ হলো, তখন মানুষ এই শিক্ষার মূল্যায়ন করতে শুরু করল এবং আমার এই সুদক্ষ শিক্ষার্থীরাই আমাদের আইডি কার্ড হিসেবে প্রমাণিত হলো।
গতকাল শুক্রবার শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’র ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের পুনর্মিলনী-২০১৭ অনুষ্ঠানে শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত এসব কথা বলেন।
বিকেল তিনটায় ঢাকার উত্তরা লেডিস ক্লাবে ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এই পুনর্মিলনী ও ব্যক্তিগত জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ আহসানুল কবীর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী মোঃ মফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রারার হোসনে আরা রহমান, ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. এম. আব্দুল হালিম শেখ, আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও কো-অর্ডিনেটর-এফডিটি মিসেস আফরোজা হক ডেইজী, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও মেম্বার অফ আইকিউএসি মোঃ ইসহাক।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন কর্মমুখী সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে এ দেশের শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এ অঞ্চলের প্রথম ক্রিয়েটিভ বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে শিক্ষার্থীরা দেশ বিদেশে উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী হিসেবে সাফল্যের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এবং প্রায় শতভাগ চাকরিপ্রাপ্তির রেকর্ড রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিক্রম শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। আর এই লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি শিক্ষা সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে হাতে কলমে যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করে পেশাগত জীবনে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আজকের এই মিলন মেলা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকেল তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন, গিফট ও ফুড কুপনসহ ব্যাজ বিতরণ। এরপর কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের প্রধান মাওলানা মোঃ ইসহাক।
চারটা একত্রিশ থেকে পাঁচটা পর্যন্ত মনোমুগ্ধকর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর মনোয়ারা বেগম। দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে ছিল স্মৃতিচারণ। অ্যালামনাইদের সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ও সার্ভেসংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আহমেদ, জনাব আনোয়ারুল হক, জুবায়ের, মিসেস ডালিয়া শবনম ও ফারহানা করিম প্রমুখ। প্রাক্তন অ্যালামনাইগণ চমৎকার উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রফিক সিদ্দিক। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিনার পর্বের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আনন্দঘন এই অ্যালামনাই সন্ধ্যা।

Please follow and like us:
2