বৃহঃ. জানু ১৭, ২০১৯

৯ বছরে রেলের লোকসান ৮২৫৫ কোটি টাকা

৯ বছরে রেলের লোকসান ৮২৫৫ কোটি টাকা

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন। এর মধ্যে ট্রেন ভ্রমণের ভাড়াও দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। এতে রেলের আয় প্রতি বছর বাড়ছে। তবে লাভজনক হলেও রেলপথে পণ্য পরিবহন আশানুরূপ বাড়েনি। ফলে খুব একটা বাড়েনি এ খাতের আয়। আবার আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতি বছর ব্যয় বাড়ছে রেলের। এর প্রভাবে প্রতি বছর রেলের লোকসান বাড়ছে। রেলওয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখানো হয়, গত ৯ বছরে সংস্থাটির লোকসান গুনেছে আট হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত তিন বছরে লোকসান অনেক বেড়ে গেছে। যদিও রেলের লোকসান হিসাবের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ব্যয় বিবেচনা করা হয়নি। শুধু অনুন্নয়ন ব্যয়ের ভিত্তিতে লোকসান হিসাব করেছে সংস্থাটি। তথ্যমতে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে রেলওয়ে লোকসান গুনে ৫৮৪ কোটি টাকা। পরের দুই অর্থবছর তা বেড়ে হয় যথাক্রমে ৭৪৫ ও ৮৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১২-১৩ অর্থবছরে রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়। এতে আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সে অর্থবছর রেলের লোকসান কমে দাঁড়ায় ৬৩৩ কোটি টাকা। পরের দুই বছর সংস্থাটির লোকসান কিছুটা ধীরে বাড়ে। এতে ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছর রেলের লোকসান গুনে যথাক্রমে ৬৮০ কোটি ও ৭৪৭ কোটি টাকা। যদিও এর পরের অর্থবছরই রেলের লোকসান এক লাফে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সে বছর এক হাজার ২০২ কোটি টাকা লোকসান গুনে রেলওয়ে। যদিও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মাঝামাঝি রেলের ভাড়া গড়ে সাড়ে সাত শতাংশ বাড়ানো হয়। এর পরের অর্থবছর রেলওয়ে লোকসান গুনেছে এক হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনেছে রেলওয়ে। এ সময় সংস্থাটি লোকসান গুনে এক হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এদিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে রেলওয়ে আয় করে ৬৭৩ কোটি টাকা। পরের অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪৭ কোটি টাকা। তবে ২০১১-১২ অর্থবছর রেলের আয় কিছুটা হোঁচট খায়। সে সময় সংস্থাটির আয় কমে দাঁড়ায় ৭২৬ কোটি টাকা। তবে ভাড়া বাড়ানোর প্রভাবে ২০১২-১৩ অর্থবছর রেলের আয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেড়ে যায়। সে বছর সংস্থাটির আয় দাঁড়ায় ৯২৯ কোটি টাকা। তবে পরের অর্থবছর তা আবার কিছুটা কমে ৯২২ কোটি টাকায় নেমে যায়। ২০১৪-১৫ অর্থবছর প্রথমবারের মতো রেলের আয় হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করে। সে সময় সংস্থাটির আয় বেড়ে হয় এক হাজার ৬১ কোটি টাকা। পরের অর্থবছর তা আবার কমে দাঁড়ায় এক হাজার ২৭ কোটি টাকা। তবে নতুন কোচ-ইঞ্জিন সংযোজনের পর ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছর রেলের ট্রেন ও বগির সংখ্যা বেড়েছে। এতে যাত্রী সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এর প্রভাবে দুই অর্থবছর সংস্থাটির আয়ও অনেক বাড়ে। এ দুই অর্থবছর রেলওয়ে আয় করে যথাক্রমে এক হাজার ৪৪৫ কোটি ও এক হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রেলের আয়ের উৎসগুলোর মধ্যে প্রধান হলো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন। পণ্য পরিবহনের মধ্যে রয়েছে কনটেইনার, জ্বালানি তেল, খাদ্যশস্য ও সার পরিবহন। এ খাতে আয়ও অনেক বেশি সংস্থাটি। তবে যাত্রী পরিবহনকেই বেশি গুরুত্ব দেয় রেলওয়ে। আর ইঞ্জিনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পণ্য পরিবহন করে থাকে সংস্থাটি। এছাড়া সম্পত্তি ইজারা ও রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ দেওয়ার মাধ্যমে আয় করে থাকে রেলওয়ে। এদিকে রেলওয়ের অনুন্নয়ন ব্যয় খাতের মধ্যে রয়েছে বেতন-ভাতা ও পেনশন পরিশোধ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, জ্বালানি তেল কেনা, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, রেলওয়ে পুলিশের ব্যয় এবং রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল পরিচালনা খাতে ভর্তুকি। এসব খাতে ২০০৯-১০ অর্থবছরে রেলওয়ের ব্যয় ছিল এক হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে হয় এক হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ও ২০১১-১২ অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। তবে ২০১২-১৩ অর্থবছরে রেলের অনুন্নয়ন ব্যয় কিছুটা কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। যদিও পরের বছরগুলোয় এ ব্যয় ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেলওয়ের ব্যয় ছিল এক হাজার ৬০২ কোটি টাকা ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এক হাজার ৮০৮ কোটি টাকা।
২০১৫-১৬ অর্থবছর রেলের অনুন্নয়ন ব্যয় দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সে অর্থবছর সংস্থাটির ব্যয় ছিল দুই হাজার ২২৯ কোটি টাকা। পরের দুই অর্থবছর তা বেড়ে হয় যথাক্রমে দুই হাজার ৮৩৬ কোটি ও দুই হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।

Please follow and like us:
2