৯ দাবি আদায়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান স্কপের

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসহ কলকারখানা রক্ষা, করোনাকালীন সুরক্ষা, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার রক্ষাসহ স্কপ ঘোষিত ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী এক্য পরিষদ (স্কপ)। একইসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার নীতি গ্রহণ করতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১টি জাতীয় শ্রমিক ফেরেশনের এই জোট। গতকাল শনিবার কর্নেল তাহের মিলনায়তনে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ঢাকা অঞ্চলের দিনব্যাপী কনভেনশনে এ আহ্বান জানানো হয়। স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে কনভেনশনে সঞ্চালনা করেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নঈমুল আহসান জুয়েল। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন। কনভেনশনে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রমজীবী মানুষ। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়। করোনাকালে কর্মহীন হয়ে সড়ক ও নৌযানসহ পরিবহন শ্রমিক, হোটেল রেস্টুরেন্টসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা চরম দুর্দশায় মানবেতর জীবন অতিবাহিত করেছে। কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মালিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ফলে তারাই সরকারের কাছ থেকে সমস্ত সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। আর প্রণোদনা নিয়েও মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই, সময়মত মজুরি পরিশোধ না করা, মজুরি কম দেওয়াসহ নানাভাবে শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছে। শ্রম আইন ও বিধিমালার দুর্বলতা আর শ্রমিক সংগঠন সমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই মালিকরা বাধাহীনভাবে নির্মম, অমানবিক শোষণ চালিয়ে যেতে পারছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে দেশের উৎপাদন আর অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে শ্রমিক। অথচ করোনার এই সংকটকালে শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফের পরামর্শে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপচয়ের দায় শ্রমিকদের কাঁধে চাপিয়ে রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চিনিকলগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। আউট সোর্সিং এর নামে শ্রমিক কার্চারীদের চাকরির নিশ্চয়তা হরণ করা হচ্ছে। শ্রম আইনের ৫ ও ৬ নং ধারা এবং বিধিমালায় নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদানের সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত তো এই সুরক্ষা থেকে পুরাপুরি বঞ্চিতই প্রাতিষ্ঠানিক খাতের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিকের ক্ষেত্রেও আইনের এই বিধানের বাস্তবায়ন নেই। ফলে শ্রমিকরা একদিকে অসৎ শ্রম আচরণের শিকার হয়ে আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ন্যায্য অর্থনৈতিক পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেআইনি কর্মচ্যুতির শিকার হয়ে খালি হাতে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছে। কনভেনশনে স্কপের পক্ষ থেকে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো হলোÑ অক্টোবর মাসে বিভাগীয় শহরে স্কপের বিভাগীয় কনভেশন আয়োজন। একইমাসে মাসব্যাপী আন্দোলনরত সেক্টর সমূহের শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করা, করোনাকালে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা ও শ্রম আইনের গণতান্ত্রিক সংশোধনীর দাবিতে শিল্পাঞ্চলে পথসভা, বিক্ষোভ মিছিলসহ শ্রমিক সমাবেশ। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের একই দিনে সমস্ত শিল্পাঞ্চলে প্রতিবাদ কর্সসূচি পালন এবং নভেম্বর মাসে স্কপের ৯ দফা দাবিতে ঢাকায় শ্রমিক সমাবেশ আয়োজন করা হবে বলে কনভেনশনে জানানো হয়। কনভেনশনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সঙ্ঘের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর আলম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাসরুল আহসান, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কনভেনশনে অংশ নিয়েছেন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ৪৮টি শিল্প ও সেবা খাতের দুই শতাধিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

Please follow and like us: