৪ বছর পূর্তিতে হইচইয়ে ২৫টি ওয়েব সিরিজ

বিনোদন প্রতিবেদক : ২০১৭ সালে মহাসমারোহে যাত্রা শুরু করা বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য সবচেয়ে বড় ওটিটি প্লাটফর্ম হইচই। সম্প্রতি ভারতীয় এই ওটিটি প্লাটফর্মটি চার বছরে পা রেখেছে। সে উপলক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে এই অনলাইন এন্টারটেইনমেন্ট প্লাটফর্মটি। এক বিজ্ঞপ্তিতে হইচই জানিয়েছে, এগিয়ে যাওয়ার পথে হইচই, সিজন ফোরে, অর্থাৎ তাঁদের চতুর্থ বছরে তিনটি ব্যাপারে মনোযোগ দিচ্ছে—কনটেন্ট, ডিস্ট্রিবিউশন এবং টেকনোলজি; যা কিনা কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে হইচইয়ের স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে বলে তারা বিশ্বাস করে। হইচই নতুন বছরের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আরো ২৫টি নতুন অরিজিনাল কন্টেন্ট এবং দুটি ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’র (চলচ্চিত্রের ডিরেক্ট ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার)। এই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে হইচইয়ের ‘ড্রিম টিম’, যাতে যুক্ত আছেন বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী, পার্থ বড়ুয়া, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সানজিদা প্রীতি, ইন্তেখাব দিনার, মনোজ প্রামাণিক এবং নির্মাতা আশফাক নিপুণ, সৈয়দ আহমেদ শাওকি, সালেহ সোবহান অনিম, মিজানুর রহমান আরিয়ান, সৃজিত মুখার্জি, ধ্রুব ব্যানার্জি, কমলেশ্বর মুখার্জি, মিতালী ভট্টাচার্য প্রমুখ। এ ছাড়া ফিরছেন তানিম নূর, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, দেবালয় ভট্টাচার্য, সাহানা দত্ত, কিউ, মৈনাক ভৌমিক, সৌমিক হালদার, সৌরভ চক্রবর্তীসহ আরো অনেকে। এ ছাড়া স্বস্তিকা মুখার্জি, রাইমা সেন, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্যসহ অসংখ্য দর্শকপ্রিয় মুখ ফিরবেন নতুন প্রজেক্টের প্রধান চরিত্রগুলোতে।
হইচই আরো জানিয়েছে, জাপান, সুইডেন, আর্জেন্টিনা, আইসল্যান্ডসহ পৃথিবীজুড়ে একশর বেশি দেশের গ্রাহকসংখ্যা নিয়ে হইচই ঘোষণা দিচ্ছে ক্যারিয়ার বিলিংয়ের, যা গ্রাহকদের দেবে এক সপ্তাহ বা এক মাসের জন্য মোবাইল ব্যালান্সের মাধ্যমে সহজে হইচই সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার সুযোগ। বাংলাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গ্রাহকদের জন্যও শিগগিরই সুযোগটি কার্যকর হবে। এতে আরো রয়েছে ‘ডেটা বান্ডলিং সাবস্ক্রিপশন’-এর সুযোগ, যা বিশেষভাবে কার্যকর হবে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কসহ ভারতের জিও ফাইবার গ্রাহকদের জন্য। হইচই তার ডিস্ট্রিবিউশনকে আরো বিস্তৃত করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে হইচই অ্যাপ অ্যাপল টিভি, অ্যান্ড্রয়েড টিভি, ফায়ারস্টিক, রোকু, এমআই এলইডি টিভি, এলজি স্মার্ট টিভি, স্যামসাং টিভির জন্য চালু রয়েছে। ২০২০-এর শেষ নাগাদ এটি ওয়ানপ্লাস টিভির জন্যও সচল হবে।
এ প্রসঙ্গে হইচইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিষ্ণু মোহতা বলেন, ‘বিগত তিনটি বছর ছিল আমার জীবনের প্রাপ্তির বছর। এই অল্প সময়ে আমরা এতদূর আসতে পেরেছি, তার জন্য আমরা গর্বিত। মার্চ থেকে যখন পৃথিবীজুড়ে লকডাউন চলছে, তখন আমরা অনুধাবন করি, বিনোদন এ মুহূর্তে আমাদের দর্শকদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এ জন্য গত ছয় মাসে আমরা বেশ কিছু ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল প্রিমিয়ার, অরিজিনাল শো এবং এর পাশাপাশি আমাদের নবতম সংযোজন ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’র (চলচ্চিত্রের ডিরেক্ট টু ডিজিটাল প্রিমিয়ার) আয়োজন করি, যার মাধ্যমে আমাদের দর্শক নতুন ছবি সরাসরি হইচইয়ে দেখতে পেয়েছেন। জীবনযাপন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সাথে সাথে হইচই চতুর্থ বছরে পা দিচ্ছে এবং আমরা আমাদের এযাবৎকালের সেরা কন্টেন্ট লাইনআপ নিয়ে দর্শকের সামনে আসছি।’ এসভিএফ এবং হইচইইয়ের সহ প্রতিষ্ঠাতা মহেন্দ্র সোনি বলেন, ‘আমি অবাক, ২০১৬ সালের একটা ছোট্ট আইডিয়া আজ পৃথিবীজুড়ে এক কোটি ৩০ লাখ সাবস্ক্রাইবারের সাথে হইচইকে যুক্ত করেছে, যার রাজস্ব আয়ের শতকরা ৪০ ভাগই আন্তর্জাতিক। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশের সেরা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছি এবং বাংলাদেশের মুভির ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল প্রিমিয়ার ও ডিজিটাল প্রিমিয়ার করেছি। আসছে বছরটি হইচইয়ের ভিন্নধর্মী গল্প বলার প্রচেষ্টাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। এটি সম্ভব করতে পারার জন্য আমি হইচই এবং এসভিএফের সবাইকে তাঁদের পরিশ্রম এবং উৎসর্জনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
সিজন ফোরে হইচইয়ের যে ২৫টি অরিজিনাল সিরিজ আসছে
তকদির, মানি হানি সিজন টু, ভালো থাকিস বাবা, হ্যালো সিজন থ্রি, মহাভারত মার্ডার্স, দেবদাস ও একটি খুনের গল্প, ঠাকুমার ঝুলি, রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি, ব্যোমকেশ সিজন সিক্স, দময়ন্তি, তানসেনের তানপুরা পার্ট টু, বন্য প্রেমের গল্প সিজন টু, ললিতা, লাল মাটি, রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজ সিজন থ্রি, সেই যে হলুদ পাখি সিজন টু, চৌরঙ্গী, মোহমায়া, গঙ্গা, একেনবাবু সিজন ফোর, মেকাপ স্টোরি, চরিত্রহীন সিজন থ্রি, গোরা, ইনটিউশন, মন্দার ইত্যাদি। এর সঙ্গে থাকছে দুটি ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’ কলকাতা আন্ডারগ্রাউন্ড ও টিকটিকি।

Please follow and like us: