সোম. এপ্রি ৬, ২০২০

৩০০ কোটি ডলারের ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তি

৩০০ কোটি ডলারের ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তি

Last Updated on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই দিনের ভারত সফরে এসে ৩০০ কোটি ডলার প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ভারতের হায়দ্রাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে এই চু্ক্িততে সই করেন দুই নেতা। বৈঠকের পর ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়েছে বলে প্রেস বিবৃতিতে জানান দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, শক্তিক্ষেত্রে কৌশলগত অংশিদারিত্ব, তথ্যপ্রযুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের মতো সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এই সফর দু’দেশের কাছেই অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আমাদের মধ্যে অ্যাপাশে ও এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার কেনা-বেচার চুক্তি হয়েছে। এই হেলিকপ্টারগুলি বিশ্বের মধ্যে উন্নততম। সন্ত্রাসবাদ রুখতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের সঙ্গেও নিরন্তর আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা।’
বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেমন ভারতের অভ্যর্থনায় আবেগাপ্লুত, তেমনই মোদিও তাকে ভারত সফরের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ভারতীয়রা যেভাবে তাকে স্বাগত ও অভ্যর্থনা জানিয়েছেন তাতে অভিভুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘গত দু’দিন, বিশেষ করে আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়ামে যেভাবে আমাকে আপনারা স্বাগত জানিয়েছেন, সেটা আমার কাছে বিরাট সম্মানের’।
এসময় মোদিকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘ওখানে হয়তো আমার চেয়ে আপনার জন্যই বেশি লোক ছিল। সোয়া লক্ষ মানুষ স্টেডিয়ামের ভিতরে ছিলেন। যতবারই আমি আপনার নাম করেছি, তারা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। দেশের মানুষ আপনাকে খুব ভালবাসে।’
পাল্টা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি নরেন্দ্র মোদিও। তিনি বলেন, ‘আপনাকে এবং আপনার সঙ্গে আসা মার্কিন প্রতিনিধিদের আমি স্বাগত জানাই।’
আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। সরাসরি ভোটের কথা উল্লেখ না করেও মোদি বলেন, ‘আমি জানি আপনি এখন খুব ব্যস্ত। তবু আপনি সময় বের করে ভারত সফরে এসেছেন। তার জন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।’
বৈঠকের বিষয়ে মোদি বলেন, ‘ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত করতে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। একুশ শতকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘এর আগে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক কখনও এত ভাল ছিল না। আমরা এমন কিছু কাজ করেছি, যা দু’দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে। সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশ যৌথ ভাবে কাজ করবে। নারী শক্তি বৃদ্ধিতে দুই দেশ যৌথ ভাবে কাজ করছে। ভারতীয় উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতাবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে মোদির সঙ্গে কথা হয়েছে। ইসলামিক সন্ত্রাস রুখতে মোদী এবং আমি একসঙ্গে কাজ করি এবং করব। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দু’দেশের সম্পর্ক আরও ভাল করতে প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে। আমার মনে হয়, মোদীও সেটা স্বীকার করবেন। আমি মনে করি দু’দেশের কাছেই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাজমহল ও গান্ধী আশ্রম আমাকে অভিভুত করেছে। ভারতের আতিথেয়তায় আমি এবং মেলানিয়া মুগ্ধ।’
ভারত সফরে কী পেলেন ট্রাম্প?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সফরে তাকে খুশি করার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে স্বাগতম জানানো হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও জামাতা জারেড কুশনারকে।
এমন সময়ে ভারত সফরে এসেছেন ট্রাম্প যখন ভারত অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে। কাশ্মীরসহ আরও বেশকিছু ইস্যুতে সমালোচিত হচ্ছেন মোদী।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ব্রুকিংস ইন্সটিটিইউশনের ভারত বিষয়ের পরিচালক তানভি মাদন বলেছেন, এ সফর মোদীকে রাজনৈতিকভাবে চাঙ্গা করবে। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির পাশে দেখা যাবে, যা তার জন্য ভালো সংবাদ তৈরি করবে।
অন্যদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে এটিই প্রথম ভারত সফর ট্রাম্পের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে এ সফরের পেছনে অন্যতম কারণ এটি তার রাজনৈতিক ইমেজের জন্য ভালো। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৫ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। এ সফর তাদের সমর্থন অর্জনের একটি সুযোগ।
সাধারণত ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেন। ন্যাশনাল এশিয়ান আমেরিকান জরিপ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নির্বাচনে মাত্র ১৬ শতাংশ ভারতীয় ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন।
এছাড়া, এ সফরের মূলকেন্দ্রে রয়েছে সম্ভাব্য একটি বাণিজ্য চুক্তি। গত কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে দু’ পক্ষের মধ্যে। তবে এ সফরের আগেই ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের সঙ্গে এখনই বড়সড় কোনো চুক্তিতে তিনি যেতে চান না। তারপরও ভারতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো, রফতানি শুল্ক কমানোসহ বাণিজ্য চুক্তির দিকে নজর থাকবে মোদীর।
তাছাড়া, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতির সুযোগ নিয়ে ভারত চীনের বিকল্প হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে।
প্রতিরক্ষা খাতেও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ সফরে।

Please follow and like us:
3