রবি. ডিসে ৮, ২০১৯

১৪৫ দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ

১৪৫ দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ

Last Updated on

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশের ৯৮ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে বর্তমানে ওষুধ শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ওষুধ রপ্তানির প্রবৃদ্ধি গড়ে ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিন দিন বাড়ছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ওষুধ শিল্পে রপ্তানি আয় ছিল ৬০ মিলিয়ন ডলার, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ৭০ মিলিয়ন ডলার, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর ৭৩ মিলিয়ন ডলার, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর ৮২ মিলিয়ন ডলার, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৯৫ মিলিয়ন ডলার, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয় ৯৬ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার।
ওষুধ শিল্পে সংশি¬ষ্টরা আশা করছেন, বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে বাংলাদেশ এ খাতে আয় করবে ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের মধ্যে এ আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সরকার এবং এ খাতের বিনিয়োগকারীরা কাজ করে যাচ্ছে।
২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে ওষুধ শিল্পকে বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকার ওষুধ রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। তাছাড়া ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক ছাড় পাবে আমদানিকাররা। উলে¬খ্য, উন্নত দেশে ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে ট্রেড রিলেটেড আসপেক্টস অব ইনটেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি রাইটস (ট্রিপস) চুক্তি বাংলাদেশের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ চুক্তির ফলে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলো সহজ শর্তে উন্নত দেশে ওষুধ রপ্তানি করতে পারবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্ববাজারে ১০ শতাংশ জেনেরিক মার্কেট ধরার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এখনই অন্ততঃ ৫/৭ টি কোম্পানি রয়েছে যারা বিশ্বের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এ সংখ্যা দ্রুতই ২০ এ চলে যাবে।
দেশেই ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এ উদ্দেশ্যে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রধমবারের মত ওষুধ শিল্পের ৪২টি অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিকালস ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) পার্ক গড়ে উঠছে। যা ২০২০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এখানে ২২ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। ২০৩২ সালের মধ্যে এই শিল্প এলাকায় ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এরই মধ্যে ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪২টি প¬ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজেই আগামী দিনে দেশেই উৎপাদিত হবে ওষুধের কাঁচামাল। বাংলাদেশে এপিআই কারখানা চালু হলে তখন আর বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে না।
বর্তমানে প্রতিবছর চার হাজার ৭০০ কোটি টাকার কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। দেশেই ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদিত হলে এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয় তা সাশ্রয় হবে এবং বিদেশেও সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ রপ্তানি করা যাবে। একই সঙ্গে দেশীয় বাজারেও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম অনেক কমে আসবে। বর্তমানে পাঁচ হাজার ব্রান্ডের আট হাজারেও বেশি ওষুধ উৎপাদন হয়। এ সংখ্যাও অনকটাই বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের পোশাক খাতের মত ওষুধ শিল্প খাতও প্রধান খাত হিসেবে রপ্তানি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
সরকার ১৫০টি গ্রেড-এ ও ২ হাজারটি গ্রেড-বি মডেল ফার্মেসি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব ফার্মেসি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। গ্রেড-এ ফার্মেসি হবে ১৫ ফুট ঢ১৫ফুট এবং গ্রেড-বি হবে ১০ ফুট ঢ ৯ফুট। এসব ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি হবে না। ফলে নকল ওষুধ বন্ধের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সারাদেশে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের মডেল ফার্মেসি তৈরি করবে সরকার। ফলে গ্রাজুয়েট ও নন-গ্রাজুয়েটসহ ফার্মাসিস্টদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসির সংখ্যা একলাখ ২১ হাজার। লাইসেন্সবিহীন প্রায় ২০ হাজার ফার্মেসিকে লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। এ খাতে দুই লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়াও আরও ৫ লাখের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। প্রতিবছর এ খাতে কর্মসংস্থান বাড়ছে। সব মিলিয়ে ওষুধ উৎপাদন ও বিপনন ও খুচরা বাজারজাত করনের সঙ্গে ১৫ লাখ লোক সরাসরি সম্পৃক্ত।

Please follow and like us:
3