Published On: বৃহস্পতিবার ১৭ মে, ২০১৮

হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননভিত্তিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর উপসাগরীয় মিত্ররা। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির প্রধান সাইয়িদ হাসান নাসরাল্লাহ ও তার সহকারী নাইম কাশেম যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বুধবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আরও চার ব্যক্তি এবং বৃহত্তর সাহারা অঞ্চলে ক্রিয়াশীল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএসের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সাহারার আইএসআইএস এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ তালিকায় ছিল। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিল ওয়াশিংটন। এ নিষেধাজ্ঞায় হিজবুল্লাহর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদকে লক্ষ্যস্থল বানানো হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
‘হিজবুল্লাহর শুরা কাউন্সিলকে লক্ষ্যস্থল বানানোর মধ্য দিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে হিজবুল্লাহর বৈশ্বিক সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও এর ‘রাজনৈতিক শাখা’র মধ্যে বিদ্যমান মিথ্য পার্থক্যকে প্রত্যাখ্যান করলাম,’ বলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ক্ষেত্রে হুমকি বিবেচনা করে ১৯৯৫ সালে প্রথম হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। সিরিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০১২ সালে ফের তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কাসেমের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ দপ্তরের এটিই প্রথম নিষেধাজ্ঞা। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই তাকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আনা হয়েছে বলে খবর রয়টার্সের।
ওয়াশিংটন এবং টেররিস্ট ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড টার্গেটিং সেন্টারে (টিএফটিসি) তার অংশীদাররা হিজবুল্লাহর দুই শীর্ষ নেতার ওপর যৌথভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। টিএফটিসিতে থাকা সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হিজবুল্লাহর আরও চার নেতার সম্পদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দেরও ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও এর উপসাগরীয় মিত্রদের নিয়ে গঠিত এ টিএফটিসি যাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আগেই তারা ওয়াশিংটনের কালো তালিকায় ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আলি থানি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রোধে দোহার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে পারবে না বলে আগেই মন্তব্য করেছিলেন নাসরাল্লাহ। ‘মার্কিন প্রশাসন যত কিছুই করুক তা প্রতিরোধের শক্তিকে দমাতে পারবে না,’ ইসরায়েলের সঙ্গে ২০০৬ সালের যুদ্ধ সমাপ্তির বর্ষপূর্তিতে গত বছরের ১৩ আগস্ট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছিলেন হিজবুল্লাহ প্রধান। ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব প্রতিরোধে গড়ে উঠেছিল শিয়া হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ও এর রাজনৈতিক মিত্ররা গত মাসে লেবাননের সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছে।  লেবাননে হিজবুল্লাহর ক্রমবর্ধমান উত্থান ওই অঞ্চলে ইসরায়েলের ক্ষমতা খর্ব করে তেহরানের প্রভাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন হিজবুল্লাহকে সমর্থনসহ ইরানের বাইরে তেহরানের প্রভাব ঠেকাতে বেশ মনোযোগী। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে ‘জঘন্য কর্মকা-’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

Videos