সুজিপানার দ্রুত বংশবিস্তার রহস্য উন্মোচন

সুজিপানার দ্রুত বংশবিস্তার রহস্য উন্মোচন

প্রযুক্তি ডেস্ক : সুজিপানা বা ক্ষুদিপানার সঙ্গে আমরা সকলেই কম-বেশি পরিচিত। সারা পৃথিবীতেই পুকুর বা জলাশয়ে দেখা মেলে এদের। একটি ছুঁচের ডগার মতো আকৃতি এই উদ্ভিদের। ভাসমান এই জলজ উদ্ভিদ আমাদের কাছে আগাছা কিংবা শ্যাওলা হিসেবেই পরিচিত।
কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে এই উদ্ভিদ এক আশ্চর্য জীব। কারণ এত দ্রুত বংশবিস্তারের ক্ষমতা পৃথিবীর আর কোনো বহুকোষী জীবের নেই। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা সুজিপানার বংশবিস্তারের এই অদ্ভুত ক্ষমতার রহস্য ভেদ করেছেন।
এই উদ্ভিদের দ্রুত বংশবিস্তারের বিষয়টি এতদিন বিজ্ঞানীমহলে রহস্য হয়ে থাকলেও, বর্তমান সময়ে জিনোম সিকোয়েন্স প্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতিতে রহস্য ভেদ করাটা সম্ভব হয়েছে বলে অভিমত বিজ্ঞানীদের। অবশেষে তারা জানতে পেরেছেন যে, কোন বিষয়টি অতি ক্ষুদ্র ও অদ্ভুত এই উদ্ভিদকে এক্ষেত্রে অনন্য করে তুলেছে।
আর এ কাজে সফল হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাল্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। ‘জিনোম রিসার্চ’ এর ফেব্রুয়ারি ২০২১ সংখ্যায় তাদের এ সংক্রান্ত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গবেষকরা সুজিপানার দ্রুত বংশবিস্তারের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। গবেষকরা দেখিয়েছেন, অন্যান্য উদ্ভিদের চেয়ে সুজিপানার জিনের পার্থক্য ঠিক কতটা।
গবেষণাপত্রের লেখক টোড মিশেলের মতে, সম্প্রতি আবিষ্কার হওয়া বেশ কিছু পদ্ধতি ব্যবহার না করলে এই রহস্য ভেদ করা সম্ভব হতো না। এছাড়াও গবেষকরা আরো যে কাজটি করেছেন তা হলো, বহুকোষী প্রাণী ছাড়াও এককোষীদের সঙ্গেও মিলিয়ে দেখেছেন সুজিপানার চরিত্র।
এই গবেষণার জন্য উদ্ভিদগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল। একটি অংশকে সারাক্ষণ আলোয় রাখা হয়েছিল, একটি অংশকে সর্বদা অন্ধকারে। আর অন্য অংশটিকে দিনের ১২ ঘণ্টা আলোয় রাখা হয়েছে আর বাকি ১২ ঘণ্টা অন্ধকারে। দেখা গেছে, সুজিপানার ৫০ শতাংশ জিনের রেপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে আলোর কোনো ভূমিকা নেই। ঠিক যেমন ইস্টের জিন আলো এবং অন্ধকার দুই পরিস্থিতিতেও রেপ্লিকেট করতে পারে। সুজিপানার ক্ষেত্রেও তাই। আর এই কারণেই অন্যান্য বহুকোষী জীবের চেয়ে সুজিপানার বংশবিস্তার ক্ষমতা বেশি। সাধারণত প্রত্যেক জীবের কোষ বিভাজন হয় দিনের আলোতে। সুজিপানা অন্ধকারেও কোষ বিভাজন করতে পারে।
সাল্ক ইনস্টিটিউটের এই গবেষণা আগামী দিনে জিন গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেইসঙ্গে পরিষ্কার জলাশয়ে এই আগাছার বংশবিস্তার আটকানোর কোনো রাস্তাও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে।
সুজিপানার কোনো স্বতন্ত্র কা- ও পাতা নেই। পুরো উদ্ভিদটাই মূলত চ্যাপ্টা ছোট একটি পত্রকল্প কাঠামো বা ফ্রন্ড। পানিতে বেড়ানো পাখিদের প্রিয়খাদ্য এটি। সবচেয়ে দ্রুত বংশবৃদ্ধির এই উদ্ভিদ খরা, ঠা-া, খাদ্যাভাব ইত্যাদি পরিবেশগত দুর্যোগেও টিকে থাকতে পারে। শুধু যে পাখিদের খাদ্য তা কিন্তু নয়। বেশ কিছু দেশে মানুষের খাদ্যতালিকাতেও রয়েছে সুজিপানা।

Please follow and like us: