মঙ্গল. অক্টো ১৫, ২০১৯

সীমান্তের নদীতে দুই দেশেরই অধিকার থাকে: শেখ হাসিনা

সীমান্তের নদীতে দুই দেশেরই অধিকার থাকে: শেখ হাসিনা

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেয়ার যে চুক্তি হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মানবিক বিষয় বিবেচনা করে এই পানি দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ফেনী নদী যেহেতু দুই দেশের সীমান্তবর্তী, এজন্য এখানে দুই দেশেরই অধিকার আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ত্রিপুরার সাবরুম শহরে খাবারের জন্য এই পানি সরবরাহ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি পানি পান করতে চায় আর আমরা যদি না দিই সেটা কেমন দেখায়!’
গতকাল বুধবার বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক ও ভারত সফর সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ভারতের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেখানে পানি দিচ্ছি সেটা ভারতের একটা জায়গা সাবরুম, রামনগরের সাথে। ওখানকার মানুষের খাবার পানির খুব অভাব। তারা আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পানি তুলে। আর আমাদের বর্ডারের কাছে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে যখন পানি তুলে এটার ইফেক্ট আমাদের দেশে পড়ে। অর্থাৎ আমার দেশে ভূগর্ভস্থ পানি চলে যায়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে ভারতে সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেটা তাদের খাবার পানির জন্য। এক পয়েন্ট ৮২ কিউসেক পানি তারা নেবে। সীমান্তবর্তী নদীতে দুই দেশেরই কিন্ত অধিকার থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে পানি দিচ্ছি এটার পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। এখন এটা নিয়ে বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে অনেক কথা বলেছে। বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন জিয়াউর রহমান যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ভারতে গিয়েছে বা খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে ভারতে যায় তারা কি গঙ্গা পানি চুক্তি করতে পেরেছিল? পারেনি।’
‘যখন খালেদা জিয়া ফিরে আসেন সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে, গঙ্গা পানি চুক্তির কী হলো? কী উত্তর দিয়েছিল মনে আছে? ভুলেই গিয়েছিলাম। যে দল নিজের দেশের স্বার্থের কথা ভুলে যায়, গঙ্গা নদীর মতো একটা নদীর পানির হিস্যার কথা বলতে ভুলে যায়, সেই দল এখন আবার সামান্য এক পয়েন্ট ৮২ কিউসেফ পানি নিয়ে কীভাবে কথা বলে।’ এসময় এবারের সফরে তিস্তাসহ সাতটি নদীর পানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব জায়গায় আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছি। আমরা যৌথ নদী কমিশন নিয়ে আলোচনা করেছি। মনু, মুহুরি , খোয়াইল, গোমতি, ধরলা, কুমার নদী এসব নিয়ে আলোচনা করছি। আলোচনা চলছে, এটা যাতে হয়ে যায় তার ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর তিস্তা নিয়েতো আলোচনা হচ্ছেই।’

Please follow and like us:
2